দুর্বল হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে হাসান-এ পৌঁছে যায়
ইলমে হাদিসের এ নীতিমালাটি এখানে এ জন্য উল্লেখ করলাম বর্তমান আহলে হাদিসগন দ্বঈফ সনদের হাদিস একাধিক সনদে বর্ণিত হলেও সেটি নাকি দ্বঈফই থাকবে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে আবার পুরাে উল্টো। নিজেদের স্ব পক্ষে কোন অত্যন্ত দুর্বল হাদিস থাকলেও তাকে হাসান বলতে একটু দ্বিধাবােধ করেন না। এ উসূলে হাদিসের এ নীতিমালাটি বিভিন্ন হাদিস সম্পর্কে আলােকপাতকালে অনেক প্রয়ােজন পড়বে তাই বারবার যাতে উল্লেখ করতে না হয় সেজন্য এখানে তা উল্লেখ করলাম। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু মুহাদ্দিস ও ফকিহগনের মতামত নিম্নে উল্লেখ করলামদলীল নং-১
আল্লামা মােল্লা আলী কারী (র) (৯৩০-১০২৪ হিঃ)বলেন,
وتعد الطرق يبلغ الحديث الضعيف إلى حد الحسن،
“দ্বঈফ হাদিসও একাধিক সনদে বর্ণিত হলে “হাসান” হাদিস এর পর্যায়ে পৌছে"
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী, মিরকাত : ৩৭৭, হাদিস : ১০০৮
দলীল নং- ২
আল্লামা মােল্লা আলী কারী (৯৩০-১০১৪) রহঃঅন্য স্থানে বলেন,
وتعد الطرق ولو ضفت يرقي الحديث إلى الحسن
-“একাধিক সনদে যদিও দ্বঈফ হাদিস বর্ণিত হয় তবে বর্ণিত ঐ হাদিস “হাসান” বলে গণ্য হবে বা উপনীত হবে।”
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : আসারুল মারফূ আঃ পৃ-৪৮১
দলীল নং- ৩আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম (৮৬১) রহঃ বলেন,
ولو تم تضعیف كلها كانت حسنة إتعدد الطرق وكثرتها..
-“হাদীসের সমস্ত রাবী দুর্বল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত। ওয়ার কারণে তা ‘হাসানে পরিণত হয়ে যায়।"
* আল্লামা ইমাম ইবনে হুমাম : ফতহুল কাদির : ১৩০৬ পৃ
দলীল নং- ৪আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম (৮৬১) রহঃ বলেন,
جاز في الحسن أن يرتفع إلى الصحة إذا كثرت طرقه، والضعيف يصير حجة بذلك لأن تعدده قريئة على ثبوته في نفس الأمر
-“যখন হাসান হাদিস অনেক সনদ দ্বারা বর্ণিত হয়, তখন তা সহিহ পর্যন্ত উন্নীত করা জায়েজ আছে, এবং দুর্বল সনদের হাদিস এই পদ্ধতিতে (একাধিক তরিকায়। বর্ণনায়) দলীল হওয়ার যােগ্যতা অর্জন করে। যখন বিভিন্ন সনদে হাদিস বর্ণিত হয়, তা দৃঢ় দলীল হওয়ার ও আদেশ প্রয়ােগের যােগ্যতা রাখে।
* আল্লামা ইমাম ইবনে হুমাম ফতহুল কাদির, ১৪৪৬
ফতহুল কাদির, ১৪৪৬ পৃদলীল নং-৫
আল্লামা ইমাম শা'রানী (৮২৫-৮৯২) রহঃ বলেন,
قد احتج جمهور المحدثين بالحديث الضعيف اذا كثرت طرقه واحقوه بالصحيح تارة وبالحسن أخرى. وهذا النوع من الضعيف يوجد كثيرا في كتاب السنن الكبرى للبيهقي التي الفها بقصد الاحتجاج لاقوال الأئمة واقوال صحابهم
“নিঃসন্দেহে জমহুর মুহাদ্দিসীনগণ দুর্বল হাদিসকে অধিক সনদে বর্ণিত হওয়ায় কারণে দলীল হওয়ার যােগ্যতা রূপে মেনে নিয়েছেন এবং সেটিকে কোন সময় সহিত আবার কোন সময় 'হাসান'র সহিত মিলিয়েছেন। এই প্রকারের দুর্বল হাদিস সময় ইমাম বায়হাকীর 'সুনানে কোবরা' মধ্যে অধিক পাওয়া যায়, যাকে ইমাম মুজতাহিদীন। এবং আসহাবে আইয়াম্মা দলীল হিসেবে গ্রহণের জন্য ইচ্ছাপােষন করেন।”
* আল্লামা ইমাম শারানী, মিযানুল কোবরা, ১/৬৮ পৃ.
দলীল নং- ৬
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি (৮৪৯-৯১১) রহঃ বলেন,
المتروك او المنكر اذا تعددت طرقه ارتقي الى درجة الضعيف لغريب بل ربما ارتقى الى الحسن
-“মাতরুক ও মুনকার হাদিস বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে দ্বঈফ হাদীসের মর্যাদায় উপনীত হয়। আবার কখনাে হাদীসে “হাসানের মর্যাদায় উপনীত হয়ে থাকে।”
* আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি : তাআকিবাত আলা মওজুত : ৭৫ পৃ. : কিতাবুল মানাকিব :
দলীল নং- ৭
আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী (১৩১১-১৩৯৪)বলেন,
والحديث الضعيف اذا تعددت طرقه ولو طريقا واحدا اخر ارتقى بمجموع ذالك الى درجة الحسن وكان محتجا به
-“ঘঈফ হাদিস একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে, যদিও তা এক সনদে বর্ণিত ছিল, তা সমষ্টিগত ভাবে হাসানের দরজায় উন্নীত হয় এবং এটি দলীল হিসেবে প্রয়ােগ করা যায়।
* আল্লামা জাফর আহমদ ওসমানী : কাওয়াইদুল উলুমুল হাদিস- ৭৮ পৃ..
দলীল নং-৮
আল্লামা আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫৮-১০৫২) রহঃ বলেন,
والضعيف آن تعددت طرقه وانجبر ضعفه يسمی حسنا لغيره
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয় এবং তার দুর্বলতা দূরীভূত হয়, তাহলে তাকে “হাসান লিগাইরিহি” নামে নামকরণ করা হয়।”
* আল্লামা শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী : মুকাদ্দামাতুশ শায়খঃ প ১০
দলীল নং-৯
আল্লামা মুফতী আমিমুল ইহসান (১৩২৯-১৩৯৫) রহঃ বলেন,
الضعيف ان تعددت طرقه أو تأيد بما يرجح قويه فهو حسن لغيره
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, গ্রহণীয় হওয়ার প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী হয়, তবে তা হাসান লিগাইরিহী হয়ে যাবে।”
* মুফতি আমিনুল ইহসান : মিযানুল আখবারঃ ৭পৃ.
দলীল নং-১০আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫৮-১০৫২) রহঃ বলেন :
الضعيف الذي بلغ بتعدد الطرق مرتبة الحسن لغيره ايضا مجمع وما اشتهر
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার দরুন “হাসান লিগাইরিহী” হওয়ার মর্যাদায় উপনীত হয়, তা দলীল হওয়া সম্পর্কে আলিমগণ একমত হয়েছেন।"
* আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী : মুকাদ্দামতুশ শায়খ,-২৫ পৃ
দলীল নং-১১ আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (৭৬২-৮৫৫) রহঃ বলেন :
আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (৭৬২-৮৫৫) রহঃ বলেন :
وإذا قوي الضعيف بطری اخر او اسانيد اخر حاد حسن لغيره
-“যখন দ্বঈফ হাদিস অন্য কোন সনদ বা বর্ণনা দ্বারা শক্তিশালী হয় অর্থাৎ দুর্বলতা দূর হয়ে যায়, তখন তা হাসান লিগাইরিহী রূপে গৃহিত হবে। "
* আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী : উমদাদুল কারী শরহে বুখারী : ১৯ পৃ
দলীল নং- ১২
দুররুল মুখতার গ্রন্থের প্রথম খন্ড مستحبات الوضوء শীর্ষক অধ্যায়ে ওযুর বিভিন্ন অংশের দু'আ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে,
وقد رواه ابن حبان وغيره عنه عليه السلام من طرف
-“এ হাদিসটি ইমাম ইবনে হিব্বানর প্রমুখের কয়েকটি সনদ দ্বারা মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।”
উক্ত রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (১২৫২) রহঃ বলেন :
أي يقوي بغضها بغضا فارتقى إلى مرتبة الحسن -
-“কতেক সনদ কতেক সনদকে শক্তি জোগায়। তাই এ হাদিস “হাসান” পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”
* আল্লামা ইমাম ইবনে আবেদীন শামী: ফতােয়ায়ে শামী : ১/৪২৮
তাই প্রমাণিত হলাে যে, দ্বঈফ হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে তা আর দ্বঈফ থাকে না বরং হাসান হাদিস হয়ে যায়। সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর
No comments:
Post a Comment