Sunday, March 31, 2019

বদ্ধ মাতাল এ বঙ্গ জাতি

বদ্ধ মাতাল এ বঙ্গ জাতি
শয়তানের শিং যেথায় গজায়
বাংলায় আগে মাতি,
কে শোনে কার বুঝ
দেখে তাহার খ্যাতি।
বাপ দাদাদের ছাড়ো
ওরা তো কেবল পূজতো,
ওরা কি এদের মতো ?
সহীহ হাদীস খুজতো!?
আসলেতো সহীহ হাদীস
শুধু মুখের বুলি!
অন্তরে সেলিব্রিটি হব
বুঝেনা পাগল গুলি!
ওরা চায় বিভাজন
হবেনা মুসলিম এক,
আমরাই করবো রাজত্ব
তোরা চেয়ে দেখ।
ব্রিটিশ যখন পারলোনা
ভাঙতে মুসলিম ঐক্য,
তখন ভাবলো ইসলামে
গড়বো মতানৈক্য।
ওহাবীবাদ সালাফিবাদ
বিধর্মীদের চালে,
ইসলাম এখন পুরাই
ষড়যন্ত্রের জালে!
অন্য দিকে সুফিরাও
পীর মুরিদের ব্যস্ত,
সুযোগ বুঝে অসাধুরা
সুফি ব্যবসায় ন্যস্ত।
যখন মোদের আলেমদের
মাহফিল জুড়ে গল্প!
ওরা তখন আহলে হাদীস
সংখ্যায় যদিও অল্প।
এখনতো সব মানুষের
সহীহ হাদীস চাই,
যদিও সব আমল মোদের
হাদীসের বাইরে নাই।
মানুষের কি দোষ
আমরা হয়েছি ব্যর্থ,
হবোইনা বা কেন
সবাই যে খুব তীর্থ (টাকার)।
এখনো সময় আছে
হারায়নি কোন কুল,
মানুষকে বোঝাতে হবে
সহীহ দ্বইফ ভূল।
____অধম মনজুর

বদ্ধ মাতাল এ বঙ্গ জাতি

বদ্ধ মাতাল এ বঙ্গ জাতি
শয়তানের শিং যেথায় গজায়
বাংলায় আগে মাতি,
কে শোনে কার বুঝ
দেখে তাহার খ্যাতি।
বাপ দাদাদের ছাড়ো
ওরা তো কেবল পূজতো,
ওরা কি এদের মতো ?
সহীহ হাদীস খুজতো!?
আসলেতো সহীহ হাদীস
শুধু মুখের বুলি!
অন্তরে সেলিব্রিটি হব
বুঝেনা পাগল গুলি!
ওরা চায় বিভাজন
হবেনা মুসলিম এক,
আমরাই করবো রাজত্ব
তোরা চেয়ে দেখ।
ব্রিটিশ যখন পারলোনা
ভাঙতে মুসলিম ঐক্য,
তখন ভাবলো ইসলামে
গড়বো মতানৈক্য।
ওহাবীবাদ সালাফিবাদ
বিধর্মীদের চালে,
ইসলাম এখন পুরাই
ষড়যন্ত্রের জালে!
অন্য দিকে সুফিরাও
পীর মুরিদের ব্যস্ত,
সুযোগ বুঝে অসাধুরা
সুফি ব্যবসায় ন্যস্ত।
যখন মোদের আলেমদের
মাহফিল জুড়ে গল্প!
ওরা তখন আহলে হাদীস
সংখ্যায় যদিও অল্প।
এখনতো সব মানুষের
সহীহ হাদীস চাই,
যদিও সব আমল মোদের
হাদীসের বাইরে নাই।
মানুষের কি দোষ
আমরা হয়েছি ব্যর্থ,
হবোইনা বা কেন
সবাই যে খুব তীর্থ (টাকার)।
এখনো সময় আছে
হারায়নি কোন কুল,
মানুষকে বোঝাতে হবে
সহীহ দ্বইফ ভূল।
____অধম মনজুর

Friday, March 29, 2019

আমি ছিলাম গুপ্ত ভান্ডার, ইচ্ছা হল পরিচিত হওয়ার,

আমি ছিলাম গুপ্ত ভান্ডার, ইচ্ছা হল পরিচিত হওয়ার, অতঃপর আমি সমগ্র জগত সৃষ্টি করলাম

প্রচলিত জাল হাদীসের ৮১ পৃষ্ঠায় মাওলানা মতিউর রহমান এবং হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ২২৪ পৃষ্ঠায় দুই  বইয়ের লেখক উক্ত হাদিসকে জাল বলে প্রমাণের অনেক অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
তারা উক্ত হাদীসের মূল শব্দ পরিবর্তন করেছে। মূল হাদীসের কিতাবে আমি জগতকে সৃষ্টি করলাম অনুরূপ কোথাও নেই। হাদীসে আছে, রাসূল (দঃ) এর নূর মােবারক সৃষ্টি করলাম তার নূর মােবারক হতে সবকিছু সৃষ্টি করলাম। যেমন হাদিসগুলাে নিম্নে দেওয়া হলঃ
দলীল নং- ১

বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুর রহমান শাফুরী শাফেয়ী (র) তাঁর বিখ্যাত কিতাব নুযহাতুল মাযালিসের ১/৪২২ পৃষ্ঠায় হযরত কা'ব আহ্বার (র) বর্ণনা করেন:
لما اراد الله تعالى أن يخلق المخلوقات بسط الارض و رفع السماء و قبض قبضة من نوره و قال لها كوني محمدا فصار عمودا من نوره فعلا حتى انتهى الى حجب العظمة فسجد و قال في سجوده الحمد الله فقال الله سبحانه و تعالى لهذا خلقتك محمدا منك ابدا الخلق وبك أختم الرسل۔
-"যখন আল্লাহ তা'য়ালা সমস্ত বিশ্ব জগত সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন, তিনি যমীনকে সম্প্রসারিত করলেন ও আসমানকে বুলন্দ করলেন এবং তিনি গ্রহণ করলেন নিজ নূর হতে মুষ্টি নূর এবং এটাকে খেতাব করে বললেন, তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হয়ে যাও। তখন তাঁর নূরের একটি স্তম্ভ হয়ে গেল। অনন্তর তা উধ্বদিকে চলল, তা আযমতের পর্দা সমূহে গিয়ে পৌঁছল। তারপর তা সিজদায় পতিত হল তা নিজ সজদায় বললাে,
الحمد الله
"সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর"। তখন আল্লাহ সুবহানাহুও তা'য়ালা বললেন, এজন্যই আমি তােমাকে সৃষ্টি করলাম এবং তােমার নাম রাখলাম মুহাম্মদ। তােমার হতেই আমি সৃষ্টির সূচনা করব এবং তােমাকে দিয়ে রাসূলগণের বা রিসালাতের পরিসমাপ্তি ঘটাব।”

দলীল নং-২
নুযহাতুল মাযালিস কিতাবে উপরে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরেকটি হাদিস উল্লেখ করেন এভাবে,
وقال ابن عباس رضي الله عنهما لما أراد الله تعالى خلق المخلوقات وخفض الأرض ورفع السموات قبض قبضة من نوره ثم قال لها كوني حبيبي محمد فطاف اور محمد صلى الله عليه وسلم بالعرش قبل آدم بخمسمائة عام وهو يقول الحمد لله فقال الله تعالى من اجل ذلك سميتك محمدا (نزهة المجالس)
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, আল্লাহ তা'য়ালা যখন মাখলুকাতের সৃজন করতে ইচ্ছা করলেন, তখন পৃথিবীকে নিম্নে স্থাপন ও আসমান সমূহের উচ্চে স্থাপন ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি নিজ দূর হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহণ করে ঐ মুষ্টিবদ্ধ নূরকে বললেন, তুমি আমার হাবীব মুহাম্মদ (দঃ) হয়ে যাও। অতঃপর সে নূর-ই-মুহাম্মদ (দ) আদম সৃষ্টির পাঁচশ বছর পূর্বে আরশ তাওয়াফ করেছিল। তাওয়াফকালে তিনি বলেছিলন
الحمد الله (সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, এ হেতু আমি তােমার নামকরণ করলাম- মুহাম্মদ

* আল্লামা আব্দুর রহমান শাফুরী শাফেয়ী : নুযহাতুল মাজালিস ২/৭৪পৃ.,মাকতাবাতুল আলকাসতালিয়্যাহ মিশর।
দলীল নং-৩
বিশ্ববিখ্যাত দার্শনীক ইমাম গাযযালী (র) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কানজুদ্দাকায়েক'র ১৫ পৃষ্ঠায় কিতাবের শুরুতে এভাবে বর্ণনা করেছেন: অনাদি ও অনন্ত সত্ত্বা আল্লাহ রাব্বল আলামীন যখন একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন, তখন তার আত্নপ্রকাশের সাধ ও ইচ্ছা জাগরিত হলাে, তখন তিনি একক সৃষ্টি হিসেবে নবী করিম (দ) এর নূর মােবারক পয়দা করলেন এবং নাম রাখলেন মুহাম্মদ(দ)।


* অধ্যক্ষ, হাফেজ এম.এ.জলীল: নূর নবী, পৃ-১
দলীল নং- ৪
১ নং দলীলের ন্যায় হুবহু হাদিস দিয়ে দলীল পেশ করেছেন ইমাম ইবনুল যওযী (র) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ মাওলিদুল আরুস (যা আল মাকতাবাতু সাকাফিয়্যাহ, বয়রুত। থেকে মুদ্রিত) ১৬ নং পৃষ্ঠায় কা'ব আহবার (র) হতে হাদিসটি বর্ণনা করেন।

দলীল নং-৫
আল্লামা আলুসী বাগদাদী (র) তাঁর তাফসীরে রুহুল মায়ানীতে লিখেছেন। আল্লাহর বাণী রাসূল (দ) এর মাধ্যমে বলেন

کنت کنزا مخنيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف
-“আমি অজ্ঞাত গুপ্তভান্ডার ছিলাম। আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম। তখন আমি সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করলাম যেন আমি পরিচিত হই।”
* আল্লামা আলুসী : তাফসীরে রুহুল মায়ানী : ২৭ পারা ২২ পৃষ্ঠা
* আল্লামা সা'দ উদ্দিন মাসউদ তাফতানী মুনতাহিল মাদারিক : ১৪২ পৃষ্ঠা।*  আল্লামা মহিউদ্দিন ইবনুল আরবী : ফতুহাতে মকিয়া ঃ অধ্যায় নং -১৯৮, পৃ- ১৪২।
*  আল্লামা মহিউদ্দিন ইবনুল আরবী : ফতুহাতে মকিয়া ঃ অধ্যায় নং -১৯৮, পৃ- ১৪২।

আল্লামা আলুসী (র) উক্ত বর্ণনার পর বলেন -
انه ثابت کشفا و قد نص على ذالك الشيخ الأكبر قدس سره في الباب المذكور
-“নিশ্চয় এই বক্তব্যটি কাফের দ্বারা দৃঢ় বা শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত। তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন আল্লামা শায়খ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী (র) তার ফতুহাতে মক্কীয়াহ গ্রন্থের এক অধ্যায়ে। "
* আল্লামা আলুসী আল বাগদাদী : তাফসীরে রুহুল মায়ানী : ২২ পারা ২২ পৃষ্ঠা
অপরদিকে আল্লাহ পরিচিত হওয়ার জন্য সৃষ্টি জগত সৃষ্টির ব্যাপারে আরও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাওকানী - সূরা যারিয়াত, আয়াত নং-৫৬,  ব্যাখ্যায় লিখেন
وقال مجاهد: إن المعني: إلا ليعرفوني. قال الثغلبي: وهذا قول حسن
-" (আমি মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য) ইমাম মুযাহিদ (র)  এর ব্যাখ্যায় বলেন,আল্লাহর পরিচয়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন সব কিছু। ইমাম ছা'লাবী (র) বলেন ইহা হযরত হাসান বসরী (র)'র অনরূপ বক্তব্য।
* শাওকানী : ফতহুল কাদীর : ৫৯২ পৃ.
আবার এক জামাত ইমামগন শধু একক অনুরূপভাবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সংকলন করেছেন যে - অর্থাৎআল্লাহর তার পরিচয়ের জন্য সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন।
* ইমাম আলুসী : তাফসীরে রুহুল মায়ানী : ১৫/৫০ পূ.
* ইমাম বগভী: তাফসীরে মা’আলিমুত তানযীল ঃ ৪/২৩৫ পূ.
* ইমাম ছালাভী : তাফসীরে ছা'লাভী : ৪/২১২
* ইমাম কুরতুবী : তাফসীরে আহকামুল কোরআন : ১৭৫৫ পূ.
* আল্লামা শাওকানী : ফতহুল কাদীর : ৫৯২ পৃ.

আল্লামা শায়খ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী (র) এ রেওয়াতটি এভাবে বর্ণন করেন
کنت کنزا لم اعرف فاحببت ان اعرف فخلقت خلق و تعرفت اليهم فعرفونی
* ফতুহাতে মক্কিয়া ৪৩/৪ বাব ১৯৮
আল্লামা ইমাম আলুসী (র) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে আল্লামা ইমাম সাখাভী (র) এর কওল মাকাসিদুল হাসান হতে নকল করে বর্ণনা করেছেন -

كنت كنزا لا اعرف فخلقت خلقا فعرفتهم بي فعرفوني تفسير روح المعاني ٢٥/٢٧
আল্লামা আজলুনী (রহ.) তাঁর কাশফুল খাফার মধ্যে আল্লামা মােল্লা আলী কারী। (র)'র নিন্মােক্ত কথা উল্লেখ করেছেন
: قال القاري لكن معناه صحيح يستفاد {وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} أي اليعرفون كما فسره ابن عباس رضي الله عنهما و المشهور على الألسنة كنت کنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت خلقا فبي عرفوني و هو و عشرون كثيرا في كلام
الصوفية و اعتمدوا و بنوا عليه اصولا لهم
-“আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী (রহ.) বলেন এ হাদিসটির মমার্থ সহিহ, আর তা বুঝা যায়, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) সূরা জারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ- আমার পরিচয়ের জন্য আমি মানুষ ও জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি।
* আল্লামা আলুসী বাগদাদী : তাফসীরে রুহুল মায়ানী : ১৫ পারা: ৫০ পৃষ্ঠা।*  আজলুনী : কাশফুল খাফা : ২১২১ পৃ.হাদিস
*  আজলুনী : কাশফুল খাফা : ২১২১ পৃ.হাদিস ২০১৪
অপরদিকে আল্লামা ইমাম বাগভী (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাসের (রা) বক্তব্য এভাবে বর্ণনা করেন:অর্থাৎ- আমার পরিচয়ের জন্য সৃষ্টি করলাম মানুষ ও জ্বিন জাতি।
* আল্লামা ইমাম বগভী : তাফসীরে মুআলিমুত তানযীল : ৪/২৩৫
অপরদিকে আল্লামা আবু সাউদ উমাদি (র) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

{وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} أي ليعرفون كما أعرب عنه قوله عليه الصلاة والسلام يقول الله تعالی گنت کنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق ১৩০\২
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Tuesday, March 26, 2019

ইমাম তিরমিযী (রহ.) কী জাল হাদিস চিনতেন না ?


 "হাদিসের নামে জালিয়াতি" বইয়ের ১৮৪-১৮৫পৃষ্ঠায় একটি হাদিস পর্যালােচনা করে প্রমান করার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন যে, ইমাম তিরমিযী অনেক জাল হাদিসকে নাকি 'হাসান' বা সহিহ বলেছেনন। নাউযুবিল্লাহ অপরদিকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,“ইমাম তিরমিযীর এগুলাে ঢিলেমীজাত ভূলের উদাহারন।" নাউযুবিল্লাহ! দেখুন এত বড় একজন ইমাম যিনি কোন হাদিসটি সহিহ,হাসান,গরীব হবে তা সাথে সাথে সমাধান দিয়েছেন। তাই তার দ্বারাই বুঝা যায়, তিনি হাদিস শাস্ত্রের উপর কত বেশী পরিশ্রম করেছেন। আর তিনি ইমাম তিরমিযীর সারা জীবনের সাধনার ভূল ধরতে এসেছেন। তাও শতশত বছর পরে তবে হ্যা, ইজতেহাদি দুই একটি হাদিসের ক্ষেত্রে এ রূপ হযেই থাকে। কোন রাবির কারনে এমনওতাে হতে পারে যে তার নিকট সিকাহ অন্য মুহাদ্দীসের নিকট দ্বঈফ বা পরিত্যাজ্য। তাই বলে তিনি দোষী নন।
তাই আমি সর্বশেষ বলতে চাই,ইমাম তিরমিযী নিজের গ্রন্থে মতামত নিজেই পেশ করেন এভাবে ،
ﺻﻨﻔﺖ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭ ﻋﺮﺿﺘﻪ ﻋﻠﻰ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﺤﺠﺎﺯ ﻭ ﺍﻟﻌﺮﺍﻕ ﻭ ﺧﺮﺍﺳﺎﻥ , ﻭ ﻓﺮﺿﻮﺍﺑﻪ ﻭ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻳﻌﻨﻲ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ﻓﻜﺎﻥ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ﻧﺒﻲ ﻳﺘﻜﻠﻢ -
-“আমি এ কিতাবটি হিযাজ,ইরাক এবং খুরাসানের আলিমগনের নিকট পেশ করি। তারা সকলেই এ গ্রন্থেও উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং এটিকে উত্তম গ্রন্থ বলে অভিহিত করেন। তারপর বলেন, যার গৃহে আমার এ “আল-জামি" গ্রন্থটি রয়েছে তার গৃহে যেন স্বয়ং নবি করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থান করছেন এবং কথা বলছেন।"
* আবু ঈসা তিরমিযী,আল-জামে,১-দরুল ফিকর ইসলামিয়্যাহত,লেবানন।
* যাহাবী,সিয়ারু আলামিন আন-নুবালা,১৩২৭৪.গ) ইমাম যাহাৰী,তাযকিরাতুল হুফফাষ,১৬৩৪
* ইমাম যাহাৰী,তাযকিরাতুল হুফফাষ,১৬৩৪
* ইমাম ইবনুল আসির জামেউল উসূল,১১৮৯৭ আল্লামা তাশ কোবরা, মিফতাহস সাআদ্যহ ২১২২-১২৩,
* আল্লামা তাশ কোবরা, মিফতাহস সাআদ্যহ ২১২২-১২৩,
ইমাম তিরমিযীর প্রশংসায় মুহাদ্দিসকুল শিরমনি ইমাম বুখারী(র)বলেন
ﺍﻧﺘﻔﻌﺖ ﺑﻚ ﺍﻛﺜﺮ ﻣﻤﺎ ﺍﻧﺘﻔﻌﺖ ﺑﯽ
“আপনি (তিরমিযী) আমার দ্বারা যতটুকু উপকৃত হয়েছেন আমি আপনার দ্বারা তার চাইতেও বেশী উপকৃত হয়েছি।
* এ ইবনে হাজার আসকালানী,তাহযীবুত তাহযীব, ৭/৫৬৫পৃ.
শুধু তাই নয় ইমাম বুখারী(র)কিছু হাদিস ইমাম তিরমিযী (র)এর থেকেও রেওয়ায়েত করেছেন। 
* আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব,৭/৩৬৫পৃ
অপরদিকে ইমাম হাকিম নিশাপুরী (র) ইমাম তিরমিযী (র) এর সম্পর্কে বলেন,
ﺳﻤﻌﺖ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﻋﻠﻚ ﻳﻘﻮﻝ : ﻣﺎﺕ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻠﻢ ﻳﺨﻠﻒ ﺑﺨﺮﺍﺳﺎﻥ ﻣﺜﻞ ﺍﺑﻲ ﻋﻴﺴﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭ ﺍﻟﺤﻔﻆ ﻭ ﺍﻟﻮﺭﻉ ﻭ ﺍﻟﺰﻫﺪ ﺑﻜﯽ ﺣﺘﯽ ﻋﻤﯽ ﻭ ﺑﻘﻲ ﺿﺮﻳﺮﺍ ﺳﻨﯿﻦ۔
-“হাকিম নিশাপুরী (র) তিনি ওমর ইবনে আলাক (র) থেকে শুনে বলেন ইমাম বুখারী (র) তার ইন্তেকালের পর (খুরাসানে) জ্ঞান, পরহেযগারী এবং দুনিয়া বিমুখতার ক্ষেত্রে ইমাম আবু ঈসা (র)-এর অনুরুপ আর কাউকে রেখে যাননি। তিনি অধিক কান্নার কান্নার জন্য শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন এবং কয়েক বছর পর্যন্ত অন্ধাবস্থায় জীবন-যাপন করেন।
* ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায, ২৩৪. * যাহাৰী, সিয়ারু আলামিন আন্-নুবালা,১৩২৭৩.
* যাহাৰী, সিয়ারু আলামিন আন্-নুবালা,১৩২৭৩.
ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী (রহ.) বলেন
ﺍﻟﺤﺎﻓﻆ ﺍﻟﻌﺎﻟﻢ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﻭ ﺛﻘﺔ ﻣﺠﻤﻊ ﻋﻠﻴﻪ .
-“তিনি ছিলেন হাফি,আলিম,জামি গ্রন্থের সংকলক সিকাহ এবং বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলেই একমত।"
* ইমাম যাহাবী, মিনুল ই'তিদাল,৩/
৬৭৮পৃ.
কিন্তু আমার বড় আফসুস যে আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর, শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী মত লােকদের জন্য যে সকল ইমাম মুহাদ্দিস তিরমিযির বিশ্বস্ততার উপর একমত হয়েছেন, তাতে তারা সকলে হতে পারেনি।
শুধু তাই নয়, বিখ্যাত মুহাদ্দীস আবু ই’য়ালা (র) বলেন
ﺛﻘﺔ ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﻣﺸﻬﻮﺭ ﺑﺎﻷﻣﺎﻧﺔ ﻭ ﺍﻟﻌﻠﻢ
-“তিনি যে সিকাহ বা বিশ্বস্ত ছিলেন তার উপর ইমাম ও আলেমগন একমত পােষন করেছেন। তিনি আমানতদারী ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে ছিলেন প্রসিদ্ধ।
* ইবনে কাছির,জামিউল মাসানীদ, আল-মুকাদ্দামা,১/১০৯পৃ.
সম্মানিত পাঠকগন! আপনারাই বলুন,আমরা কি গ্রহনযােগ্য ইমামদের অভিমত শুনব নাকি গণ্ড মূর্ণ লেখকদেও কথা শুনব?
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Sunday, March 24, 2019

শায়খ আবদুল কাদের (রহ) ও ইমাম গাযযালী (রহ) এর হাদিস জাল বর্ণনার মিথ্যা অভিযোেগ




“প্রচলিত জাল হাদিস” যা মাওলানা মতিউর রহমান এর লিখিত ৬৮-৭২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী এবং পাকিস্তানের মৌলভী সরফরায খানের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, বড় পীর শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ) এর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘গুনিয়াতুত ত্বালিবিন' এবং ইমাম গাযালী (রহ) রচিত শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ ‘ইহইয়াউল উলুমুদ্দীন’র মধ্যে অসংখ্য জাল হাদিস রয়েছে।এতগুলাে জাল হাদিস রয়েছে গ্রন্থদ্বয়ে যা গণনা করা অসম্ভব। অপরদিকে আবার প্রচলিত জাল হাদিস গ্রন্থে উভয় বুযুর্গের প্রশংসা করেছেন এবং কারামত বিশিষ্ট বুযুর্গ ওলী আখ্যায়িত করেছেন। যেমন উক্ত বইয়ের ৬৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “নিঃসন্দেহে হযরত শায়খ আব্দুল কাদের জলানী (রহ) তার যুগের বড় বুযুর্গ, কারামত বিশিষ্ট ওলী, ইসলাহের পাঠদানকারী। এবং একজন সুবক্তা ছিলেন। তবে তিনি রিযাল শাস্ত্রে (হাদীসে) বিজ্ঞ ছিলেন না। হাদীসের সহিহ, দ্বয়ীফকে মুহাদ্দিসীনে কেরামের ন্যায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন না।

ড, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার হাদিসের নামে জালিয়াতি” বইয়ে উপরের লেখকের কথার সমর্থন করেছে।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আপনারা দেখলেন, তারা তাকিদ দিয়ে লিখেছে গাউছে পাক (রহ) নিঃসন্দেহে বড় বুযুগ ও ওলীয়ে কামেল ছিলেন। তাদের কাছে প্রশ্ন হলাে তারা যদি তাদের কিতাবে জাল হাদিস লিখে থাকে, তাহলে কিভাবে এত বড় বুযুর্গ হয়? অথচ তিনি উক্ত গ্রন্থের ৪৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে জাল রেওয়ায়েত বর্ণনা করা কবীরা গুনাহ। কবীরা গুনাহগার সকলের মতে ফাসেক এবং আর এই ব্যক্তি জাহান্নামে শাস্তি র উপযুক্ত।
তাহলে গাউছে পাক ও ইমাম গাযযালী (রহ) তারা উভয়ই জাহান্নামী হলেন তাদের ফতােয়ায়? আবার তারা কিভাবে কারামত বিশিষ্ট ওলী হন। এটা কী একমুখে দু'কথা নয়? তারাই হাদিস উল্লেখ করেছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যারােপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা খুঁজে নেয়।”(বোখারী শরীফ) সুতরাং তারা একমুখে দুধরনের ফতােয়া দেয়ার মাধ্যমে জাহান্নামের ঠিকানা বানিয়ে নিলাে। উক্ত পুস্তকে আরও লিখেছে যে, শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ) শুধু তার যুগের বড় বুযুর্গ ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! অথচ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মােল্লা আলী কারী (আঃ) তাঁর উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ “নুযহাতুল খাওয়াতির” গ্রন্থে লিখেন- ও
لقد بلغني عن الاكابر ان الامام الحسن بن سیدنا علی رضی الله تعالى عنهما لما ترك الخلافة لما فيه الفتنة والأفة عوضه الله سبحانه وتعالى القطبية الكبرى فيه وفي نسله وكان رضي الله تعالى القطب الأكبر وسيدنا السيد عبد القادر هو القطب الأوسط والمهدی خاتمة الأقطاب۔
“নিশ্চয় আকাবির ওলামা থেকে আমার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী (রা) ফিতনা ফ্যাসাদের কারণে যখন খিলাফতের দাবি ছেড়ে দিলেন, তখন আল্লাহ তা'য়ালা এর পরিবর্তে তার ও তার পরবর্তী সন্তানদের মধ্যে কুতবিয়্যাত-ই-কোবরা (গাউছিয়াত-ই-উমা) এর মর্যাদা দান করেছেন। প্রথম কুতুব হলেন সায়্যিদুনা ইমাম হাসান (রা) মধ্যখানে শুধুমাত্র কুতুব হন, হযরত শায়খ আব্দুল কাদির জিলানী (রহ) আর সর্বশেষ কুতুব হবেন ইমাম মাহদী (আ)।*
* আল্লামা মােল্লা আলী কারী : নুযহাতুল খাওয়াতির, পৃ-১৪২
অতএব প্রমাণ হয়ে গেল, গাউছে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রহ) তার যুগের নয় বরং কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী (আঃ) আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ কুতুবুল আকতাব এবং গাউসুল আযম। শুধু তাই নয়, গাউসে পাক এবং ইমাম গাযালী (রহ) এর জ্ঞান সম্পর্কে আশরাফ আলী থানবী এবং পাকিস্তানের সরফরায খান কী পরিমাপ জ্ঞানের বর্ণনা দিবেন ? স্বয়ং আসুন তাদের মুখে শুনি। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী হানাফী (র) লিখেন : গাউছে পাক (রহ) বলেন,
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী হানাফী (র) লিখেন : গাউছে পাক (রহ) বলেন,

وعزة ربي أن السعداء والأشقياء يعرضون على وان ربو عيني في اللوح المحفوظ انا حجة الله عليكم جميعا انا نائب رسول الله صلى الله عليه وسلم ووارئه في الأرض ويقول: الانس لهم مشائخ والجن لهم مشائخ والملائكة لهم مشائخ وانا شيخ الكل رضی الله تعالی عنه ونفعنا به -
-“আমার রবের ইজ্জতের শপথ। নিশ্চয় ভাগ্যবান ও হতভাগ্য সকলকে আমার নিকট। উপনীত করা হয়। নিশ্চয় আমার চোখের মণি লাওহ-ই-মাহফুযের উপর রয়েছে। আমি তােমাদের সকলের জন্য আল্লাহর দলীল। আমি রাসূলুল্লাহ () এর না'ইব বা। প্রতিনিধি এবং পৃথিবীতে তার উত্তরাধিকারী। তিনি আরাে বলতেন, মানবজাতি, জ্বীন। জাতি এমনকি ফিরিশতাদেরও পীর রয়েছে, আর আমি হলাম সকলেরই পীর (শায়খুল কুল)।
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী ঃ নুযহাতুল খাওয়াতির, পৃ-১৩২৯,
হুজ্জাতুল ইসলাম,ইমাম গাযালী (রহ) মিএটাজুল আবেদীনের ভূমিকায় লিখেছেন 'আল্লাহ তায়ালা এই গ্রন্থ লিখার পূর্বে আমাকে স্বপ্নে (কাশফে) তথ্য এবং নির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করে আমি যাতে কিতাব লিখি। তাই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ব্যাপারে কিছু বলতে হলে বুঝে শুনে বলা উচিত।। আল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চিন্তা করুন। হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত , মহান আল্লাহ বলেন,
عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن اللة قال: من عاد لي وليا فقد آذنته بالحرب.
“যে ব্যক্তি আমার ওলীরে সাথে শত্রুতা করলাে, সে আমাকে যুদ্ধ ঘােষণার চ্যালেঞ্জ করেছে(বোখারী শরীফ)। তাই এ সমস্ত লােকেরা এ দুই মহান ওলীর পশমের তুল্যও নয়,তাই তাদের কথা আমাদের কাছে এক পয়সার মূল্যও নেই।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Saturday, March 23, 2019

পৃথিবীর সবচেয়ে ভূয়া তাহক্বীক কারী শায়খ আলবানীর পরিচয় ।


আমি আমার এ পুস্তুকে যাদের খন্ডন করেছি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলাে আহলে হাদিসের তথাকথিত ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী (মৃত.১৯৯৯ খৃ.)। এ লােকটি ১৯১৪ ঈসায়ী সালে ইউরােপের একটি দেশ আলবেনিয়ার রাজধানী দরাতে জন্ম গ্রহন করেন। আলবেনিয়ায় জন্ম গ্রহন করার কারনে তাকে আলবানী বলা হয়। তার পুরাে নাম হলাে আবু আবদুর রাহমান মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন আলবানী'। তার পিতার নাম নূহ নাতাজী আলবানী আল-হানাফী। তিনি ছিলেন তত্কালীন সময়ের একজন প্রসিদ্ধ হানাফী আলেম। আলবানীও প্রাথমিক যুগে হানাফী ছিলেন এবং তার সম্মানিত পিতার বন্ধু শায়খ সায়ীদ আল-বুরহানীর নিকট সে হানাফি মাযহাবের অনেক ফিকহের গ্রন্থ অধ্যায়ন করেন। (যা আমি লিখলাম সেগুলাে হুবহু আহলে হাদিস আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “ছহিহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭৮পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম) এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে তার আরাবীতে বিশাল জীবনী গ্রন্থ “সাবাতু মুয়ালাফাতিল আলবানী" (যা লিখেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শামরানী) বের হয়েছে সেখানেও লিখা হয়েছে তিনি প্রথমে হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন পরে মুজতাহিদ হয়ে গেছেন। পৃ.২ ও ১৬)।পরে সে নিজে পথভ্রষ্ট হয়ে সকল মাযহাবকেই অস্বিকার করে বসে, এবং মাযহাব মানাকে হারাম ,শিরক পর্যন্ত ঘােষনা করে বসে। অথচ তার সম্মানিত পিতা ও সে নিজেও হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিল।

আলবানী এমন কোন হাদিস গভেষক নয়, তার অধিকাংশ সময় কেটেছে মেরামত করে।*
* আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “হাহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,শাহ জামে মসজিদ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম)
আহলে হাদিসগন ঘড়ির ডাক্তার, দাঁতের ডাক্তার জাকির নায়েক কথা মানতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না, কিন্তু আমরা একজন তাবেয়ী ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর কথা মানলে তাদের এত অসুবিধা। অথচ তার অনুসারীরা তার প্রশংসায় লিখেছে যে পৃথিবীর মুসলিমদের সম্মুখে বিশুদ্ধ সুন্নাহ উপস্থাপন করার তাওফীক যে কয়জন বান্দাকে দিয়েছেন তাদের মধ্যে হাফিয যাহাবী (রহ.),ও হাফিয ইবনে হাযার আসকালানী (রহ.)-এর পর আল্লামা মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন -এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।*

* আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “হাহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,শাহ জামে মসজিদ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম)
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! তাদের কাছে। হাফেযুল হাদিস্ ইমাম সুয়ূতি (রহ.) সহ অনেক বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ যারা ইলমে হাদিসের জন্য নিজের জীবনকে অতিবাহিত করে দিয়েছেন সে মুহাদ্দীসদের কোন নাম তাদের মুখে আসলাে না, আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভূয়া তাহকীক কারী আলবানী নাম। অথচ সে ইমাম যাহাবী (রহ.)'র সমালােচনা করেছে, যা নিম্নে আলােচনা করা হবে। আলবানী অসংখ্য মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদিসকেও দ্বঈফ ও মওদু বা জাল বলে তার বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেগুলাে আমি এখানে দ্বিতীয় বার আলােচনা করতে চাই না কারন এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হাদিসের আলােচনায় তার এ ভূয়া তাহকীকের জবাবে আলােচনা হবে। এ আলবানী নামক লােকটির সমালােচনা থেকে পৃথিবীর বিজ্ঞবিজ্ঞ ইমামগনও মুক্ত ছিলেন না। সে তার সিলস্লািতুল আহাদিসুদ দ্বঈফাহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ইমাম তিরমিযীর ব্যাপারে লিখেছেন “ইমাম তিরমিযী তার সুনানে কত জাল হাদিসকে যে, হাসান, সহিহ বলে ফেলেছেন তার কোন হিসাব নেই। এ বিষয়ের জবাব আমি ইতিপূর্বে আলােচনা করেছি ।আলবানী নামক এ লােকটির দৃষ্টিতে একটি হাদিস সহিহ নয়, অথচ অন্যান্য মুহাদ্দিস তাকে সহিহ বলায় তিনি হাদিসের বিখ্যাত তিন জন ইমাম হাকিম নিশাপুরী, ইমাম যাহাবী, ইমাম মুনযিরী (রহ.) সম্পর্কে বলেছেন

قال الحاكم صحيح الإسناد ووافقه الذهبي او اقره المنذري في الترغيب:وكل تلك من اهمال التحقيق والاستسلام للتقليد والا فكيف يمكن للمحقيق أن يصح مثل هذا الإسناد
-“হাকিম বলেছেন, হাদিসটির সনদ সহিহ ইমাম যাহাবী তার সাথে একত্মতা পােষন করেছেন। ইমাম মুনযিরী (রহ.) তারগীব ও তারহীব' নামক কিতাবে তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর এটি হয়েছে,তত্ত্ব-বিশ্লেষনের প্রতি উদাসীনতা, তাকলীদের প্রতি আত্মসমর্পণ (অন্ধানুকরণ),নতুবা একজন বিশ্লেষনধর্মী আলেম কিভাবে একে সহিহ বলতে পারেন।"(সিলসিলাতুল আহাদিসুদ্-দ্বঈফাহ ওয়াল মাওদুআহ,৩/৪৭৯পৃ.) সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আলবানী এমন মহান তিনজন ইমামের কিভাবে সমালােচনা করতে পারলাে? অথচ এ সমস্ত আলেমদের পশমের তুল্য হবে না। তার এ গ্রন্থের আরেক স্থানে হাফেযুল হাদিস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.)'র সমালােচনা করতে গিয়ে লিখেন যে
فيا عجبا للسيوطي كيف لم يخجل من تسويد كتابه الجامع الصغير بهذا الحديث
-“কী আশ্চর্য! জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.) তাঁর জামেউস সগীরে কিভাবে এ হাদিস উল্লেখ করতে একটু লজ্জাবােধ করলেন না! (সিলসিলাতুল আহাদিসুদদ্বঈফা,৩/৪৭৯পৃ.) নাউযুবিল্লাহ! তিনি তার এ পুস্তকে ইমাম সুয়ূতির গ্রহনযােগ্যতা সম্পর্কে বলেন- و جعجع حوله السيوطي -“জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.) হাকডাক (কোলাহলপূর্ন, হট্ট গােলপূর্ন) ছেড়ে থাকেন। (আলবানী,সিলসিলাতুল আহাদিসুদদ্বঈফা,8/১৮৯পৃ.) দেখুন ইমাম সুয়ুতি (রহ.)'র মত একজন মুজাদ্দিদের তাহকীক তার কাছে নাকি হট্টগােল করার মত । সে ইমাম তাজুদ্দীন সুবকী (রহ.) যিনি ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী (রহ.)'র ছেলে এবং বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ,আলেম ছিলেন; তার সমালােচনা করতে গিয়ে লিখেন

لكنه دافع عنه بوازع من التعصب المذهبي لا فائدة كبرى من نقل كلامه وبيان مافيه من التعصب
-“মাযহাব অনুসরণের গোঁড়ামী তাকে প্ররােচিত করেছে। তার কথা উল্লেখ করে এবং তার গোঁড়ামির কথা আলােচনা করার মধ্যে তেমন উল্লেযােগ্য কোনাে উপকারিতা নেই। (সিলসিলাতুল আহাদিসুদ্-দ্বঈফাহ,২৮৫পৃ.) সে আরও অসংখ্য হক্কানী ইমামের সমালােচনা করেছে; তার অসংখ্য কুফুরী আকীদা, এবং তার ভূয়া তাহকীকের জবাবে আমি ইনশা আল্লাহ শীঘ্রই বিস্তারিতভাবে বই প্রকাশ করবাে। বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) সম্পর্কে আলবানী বলেন
اشل الله يدك وقطع لسانك يدعو على العلامة الشيخ عبد غدة ويقول عنه:انه مرة كغدة البعير ثم يقول مستهزئا ضاحكا: اتعرفون غدة
| -“আল্লাহ তােমার হাত অবশ করে দিক এবং তােমার জিহ্বাকে কর্তন করুক।
(কাশফুন নিকাব,পৃষ্ঠা-৫২) এ রকম শতশত পূর্বের ও সমসাময়িক মুহাদ্দিসের সে ব্যাপারে কঠিন মন্তব্য করেছে। শুধু মাত্র আহলে হাদিস ছাড়া। এ বিষয়ে আলােচন করতে গেলে আমার এ পুস্তকটি আরও দীর্ঘয়িত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আলবানী ব্যাপারে আমি শেষে একটি কথাই বলবাে যে, সেই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রওযা মােবারককে অপসারনের জন্য পুস্তুক লিখেছেন ও প্রস্তাব দিয়েছেন।* সে যে ঈমান চোরা তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার তাহকীক ইসলামী শরীয়তে কানা-কড়ি মূল্যও নেই
* আলবানী এ কুফুরী বাক্যটি তাঁর তিনটি গ্রন্থে বলেছেন। আলামা শায়খ সৈয়দ ইউসুফ হাশেম আর-রেফায়ী ‘নসীহত লি ইখওয়ানিনা উলামায়ে নজদ" যা বাংলায় (সনজরী প্রকাশনা আন্দরকিল্লা,চট্রগ্রাম থেকে। প্রকাশিত) প্রকাশিত হয়েছে তার বাংলা নাম নজদি উলামা ভাইদের প্রতি নছীহত' বইয়ের ১৩৯পৃষ্টায় ও বিষয়ে আলােচনা করেছেন। সে তার ‘আহকামুল জানায়েয' গ্রন্থে ও তাহযিরুল মাজেদ গ্ৰন্থে উল্লেখ করেছেন (তাহযিরুল মাজিদ-৬৮-৬৯পৃ.) এবং সে তার হুজ্জাতুন্নবী' গ্রন্থে আরও অতি বাড়াবাড়ি' করেছে (উক্ত বই-১৩৭পৃষ্ঠা) সে রাসূল (দ.) রওযা শরীফের গুম্বুজকে মদিনা মনােওয়ারার অন্য বিদআত বলে অভিহিত করেছেন। মাওলানা মতিউর রহমানঃ প্রচলিত জাল হাদিস, পৃ-৬৮
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Friday, March 22, 2019

সিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবির মুরসাল হাদিস গ্রহনযােগ্য


বর্তমান আহলে হাদিসগনের দৃষ্টিতে মুরসাল হাদিস দ্বঈফ হিসেবে গন্য তাই তা গ্রহনযােগ্য নয়। অথচ এটি হচ্ছে তাদের মনগড়া নীতিমালা। বিশেষ করে আলবানী এ বিষয়টি নিয়ে খুবই বেশী বাড়াবাড়ি করছে। অথচ আল্লামা মােল্লা আলী কারী (১০১৪ হি)রহ. একটি হাদিসের সনদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন:

,
وقال أبو داود: هذا مرسل) : أي: نوع مرسل وهو المنقطع لكن المرسل حجة عندنا وعند الجمهور
-"ইমাম আবু দাউদ (২০২-২৭৫ হি) রহঃ বলেন সনদটি মুরসাল, আর মুরসাল হলাে মুনকাতেঈ এর প্রকার। তবে জমহুর মুহাদ্দিসীনে কেরামের নিকট মুরসাল হুজ্জাত বা দলিলের উপযুক্ত। (মিরকাতুল মাফাতিহ,১/৩৬৮পৃ. হাদিস,৩২৩, কিতাবুল,ত্বহারাত) উক্ত গ্রন্থকার তার এ গ্রন্থের ১৫ স্থানে বলেছেন যে, জমহুর মুহাদ্দিসীনেকেরামের নিকট মুরসাল হাদিস গ্রহনযােগ্য ও হুজ্জাত।

* আল্লামা মােল্লা আলী কারী, মিরকাতুল মাফাতিহ, ২/৭৯৫, হাদিস,১০০৬, ৩/৯৪০পৃ. হাদিস,১২৫৪, ৩/৯৪৮পৃ. হাদিস,১২৬৮, ৪/১২৯২পৃ. হাদিস,১৮০৪, ৫/১৯৬০পৃ. হাদিস, ২৯১৭, ৫/১৯৮৪পৃ. হাদিস,২৯৬৯, ৫/২১৪৫পৃ. হাদিস,৩২৯১, ৬২২২পৃ. হাদিস, ৩৩৯২, ৬/২৪২০পৃ. হাদিস,৩৭২০, ৭/২৭৫৪পৃ. হাদিস,৪২৮২, ৭/২৮৭৭পৃ. হাদিস ৪৫৫০, ৭/২৮৮পৃ. হাদিস,৪৫৫৬, ৭/২৯৪পৃ. হাদিস,৪৬৫১, এবং ৭/৩০২৩, হাদিস,৪৮০৮
এ ব্যাপারে ইমাম ইবনে আমিরুল হাজ্জ (রহ.) তার হুলিয়া গ্রন্থেও বলেছেন যে সিকাহ রাবির মুরসাল গ্রহনযােগ্য (হুলিয়া,২৮৯পৃ. নধায়, সিফাতুস্-সলাত)
আল্লামা বরুদ্দীন মাহমুদ আইনী (৭৬২-৮৫৫ হি)রহ. ও বলেছেন মুরসাল হাদিস হুজ্জাত অধিকাংশ মুহাদ্দিসগনের নিকট গ্রহনযােগ্য।

* আল্লামা বদরুদ্দীন মাহমুদ আইনী,শরহে সুনানে আবু দাউদ,8/৫৯পৃ.উমদাতুল কারী,১৬২পৃ.৫/২২০. ৬/২৩২পৃ. ৯/৪, ১২/২৪১পৃ.
অনূরুপ অভিমত আহলে হাদিসদের কিছু ইমাম শাওকানী(১২৫০ হি), মােবারকপুরী(১২৭৩-১৩৫৩ হি),আযিমাবাদী ও তাদের গ্রন্থে বলেছেন।

* আল্লামা শাওকানী,নায়লুল আউতার,৭/৩০৭পৃ.* মােবারকপুরী,তুহফাতুল আহওয়াজী,২৮১পৃ. ৩২১মের'আত,৩/২৪পৃ. হাদিস,৮০৯,
* আযিমাবাদী, আওনুন মা'আবুদ,৮/৭৮পৃ..
* মােবারকপুরী,তুহফাতুল আহওয়াজী,২৮১পৃ. ৩২১মের'আত,৩/২৪পৃ. হাদিস,৮০৯,
* আযিমাবাদী, আওনুন মা'আবুদ,৮/৭৮পৃ..

Thursday, March 21, 2019

আহলে হাদিসদের প্রতারণামূলক ৪১টি প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব


গোপন সূত্রে খবর পেলাম, আহলে হাদিস তথা লা-মাযহাবীরা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে কয়েকটি প্রশ্ন তৈরি করেছে। যাতে এগুলো দিয়ে স্বাধারণ মানুষকে সহজে বিভ্রান্ত করা যায়। আমি তাদের প্রশ্ন গুলো এখানে জবাব সহ আপনাদের খেদমতে তুলে ধরছি।
.
দ্বিমুখী মাযহাবী তথা আহলে হাদিসদের প্রতারণামূলক ৪১টি প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব পড়ুন!
বর্তমানকালের সব চেয়ে জঘন্যতম ফেতনা ও চরম প্রতারক কথিত আহলে হাদিস তথা লামাযহাবী ফেতনা। এরা খুব কৌশলে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিতে পারে। এদের সব চেয়ে কৌশলী অস্ত্র হল, মিথ্যাচার আর অহর্নিশি সহীহ হাদিসের ফুলঝুরি। বড্ড অবাক হই, এরা কোনো ইমামের তাকলীদ করা তথা ফতুয়া মানাকে অন্ধ বিশ্বাস বলে কটাক্ষ্য করে, অপর দিকে নিজেরাই শায়খ আলবানীর নাম জপতে জপতে মুখে ফেনা তুলে পেলে। এটা কি তাদের দ্বিমুখী চরিত্র নয়? আমি সেজন্য তাদের নাম রেখেছি “দ্বিমুখী মাযহাবী”।
গত কতেক দিন আগের কথা। ভ্রষ্ট প্রতারক দ্বিমুখী মাযহাবীদের (আহলে হাদিস) এক অনুসারী আমাকে এবং আমার আরো একজন দ্বীনি ভাইকে চ্যালেঞ্জ করে মাযহাবের প্রতি গ্ণমানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা যেতে পারে এমন অতি অন্তঃসারশূন্য কিছু প্রশ্ন (আনুমানিক ৪১টি) ছুড়ে দিয়েছে। আমরা এখানে সংক্ষেপে তাদের উক্ত প্রতারণামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেব, ইনশাআল্লাহ।
√ লক্ষ্য রাখবেন, প্রশ্নগুলো তাদের এবং উত্তরগুলো আমাদের।
১। মাযহাব কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামী শরীয়তে, মুজতাহিদ ফীশ শরীয়তের রায় বা মতকে মাযহাব বলে। যেমন- ইমাম আবূ হানীফা, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ, লাইছ, সুফিয়ান সওরী, আওযায়ী প্রমুখ ( (আলাইহির রাহমাহ)। মুজতাহিদ ফীশ শরীয়ত হচ্ছে, যেসব মুজতাহিদ ইজতিহাদের নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন।
২। মাযহাবের শাব্দিক অর্থ কি? উঃ মত, পথ, রায়, স্কুল ও ধর্ম ইত্যাদি।
৩। প্রচলিত চার মাযহাব মান্য করা কি ফরয? উঃ না। তবে, ওয়াজিব।
৪। যদি ফরয হয়ে থাকে তা হলে এই ফরযটি উদ্ভাবন করল কে? উঃ আগেই বলেছি, ফরজ নয়। ইমামগণের নামেই মাযহাবগুলো প্রচলিত হয়েছে। কেননা, তাঁরা, তাঁদের অনুসারী ফকীহগণ ইসলামী আইনশাস্ত্রে যে অবদান রেখেছেন – তাঁদের পরে তা আর কেউ পারেন নি। ফলে, সিংহভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী এ চার মাযহাব গ্রহণ করেছেন। আর বাকিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
.
আপনার প্রশ্নটির ছোট করে আরেকটি জবাব হল, মাযহাব ছাড়া পূর্ণ দ্বীন মানা সম্ভব নয়, তাই চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা আবশ্যক। যেমন দুই রাকাত নামায মাযহাবের অনুসরণ ছাড়া আদায় করা অসম্ভব।
উদাহরণত –
১- রুকু করা ফরজ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত।
২- রুকুর তাসবীহ পড়া সুন্নত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
৩- রুকুতে গমণের সময় ইমাম জোরে তাকবীর বলে আর মুসল্লি আস্তে তাকবীর বলে। এ মাসআলা কুরআন ও হাদীসের কোথাও নেই। অথচ তা নামাযের মাসআলা। ইমাম যে জোরে তাকবীর বলে, আর মুসল্লি সর্বদা আস্তে আস্তেই তাকবীর বলে এভাবে আমল করার দ্বারা নামায শুদ্ধ হচ্ছে কি না? তা কুরআন ও হাদীসের কোথাও নেই। এর সমাধান মাযহাবের ইমামদের ইজমা তথা ঐক্যমত্ব এর দ্বারা প্রমানিত হয়েছে।
৪- রুকুতে গিয়ে যদি কেউ ভুল তাকবীর না বলে, রুকুর তাসবীহের বদলে কেউ সেজদার তাসবীহ বলে ফেলল, তাশাহুদের বদলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললো, জোরে কিরাতের স্থলে আস্তে কিরাত পড়ল, আস্তের স্থলে জোরে পড়ল এসব মাসআলার সমাধান ছাড়াতো সহীহ পদ্ধতিতে নামায পড়া সম্ভব নয়। আর এসব মাসআলাসহ নামাযের অসংখ্য মাসায়েলের সমাধান না কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, না হাদীস দ্বারা প্রমানিত। বরং এসব সমাধান মাযহাবের ইমামগণ কুরআন ও হাদীসের গভীর থেকে মূলনীতি বের করে এর আলোকে উদ্ভাবন করেছেন। আর তাদের উদ্ভাবিত সেসব মাসআলার নামই হল মাযহাব। এইতো গেল শুধু নামাযের একটি ছোট্ট অংশের উদাহরণ।
এমনিভাবে মানুষের জীবন ঘনিষ্ট এমন অসংখ্য মাসআলার উপমা পেশ করা যাবে, যার সরাসরি কোনো সমাধান কুরআন ও হাদীসে নেই। কিংবা অনেক স্থানেই বাহ্যিক বিরোধপূর্ণ। তাই মাযহাব মানা ছাড়া সাধারণ মুসলমানদের কোন গত্যান্তর নেই। অন্তত দুই রাকাত ও পূর্ণ করে পড়ার জন্য প্রতিটি মুসলমান মাযহাবের প্রতি মুখাপেক্ষী। তাই যেহেতু মাযহাব ছাড়া দুই রাকাত নামাযও পড়া যায় না, পূর্ণ দ্বীন মানাতো বহু দূরের কথা, তাই গায়রে মুজতাহিদ ব্যক্তিদের জন্য মাযহাব মানা ওয়াজিব।
৫। ইহা কি সকলের জন্যই? উঃ মুজতাহিদ ছাড়া বাকি মুসলমানের জন্যেই।
৬। না কিছু লোকের জন্য? উঃ ৫নং উত্তর দেখুন।
৭। যারা চার মাযহাব মানে না, তারা কি মুসলমান নয়? উঃ কোনো গায়ের মুজতাহিদ মুসলমান চার মাযহাবের কোনোটি না মানলে, সে নামমাত্র মুসলমান।
৮। হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী হাম্বলী এই চার মাযহাব কখন সৃষ্টি হয়েছে? উঃ এ চার মাযহাবের জন্ম হয়েছে, খাইরুল কুরুন বা প্রসিদ্ধ ৩ যুগে।
৯। কে সৃষ্টি করেছে? উঃ আল্লাহ তা’লা সৃষ্টি করেছেন।
১০। কেন করেছে? উঃ তিনি মানুষের প্রয়োজনেই সব সৃষ্টি করে থাকেন। বিস্তারিতভাবে জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
১১। ইহা করা এবং মানার জন্য কি আল্লাহ এবং রসুলের নির্দেশ আছে? উঃ হাঁ। ৪ মাযহাবের ইমামগণ আল- কুরআনে বর্ণিত উলুল আমরের (৪:৫৯ ও ৮৩) অন্তর্গত।
১২। যাদের নামে মাযহাব সৃষ্টি করা হয়েছে তারা কি এই মাযহাবগুলি বানিয়ে নিতে বলেছেন কিংবা দাবি করেছেন?
উত্তর : তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন। যেমন- ইমামে আ’জম (আলাইহির রাহমাহ) বলেছেন: “যখন হাদিস সহীহ হয়, (তাহলে বুঝতে হবে) সেটাই আমার মাযহাব।” এখানে তিনি স্পষ্টভাবে “আমার মাযহাব” দাবি করেছেন।
ইমামে আ’জম আবু হানিফা (আলাইহির রাহমাহ)-এর এ উক্তি দ্বারা আরো একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, উনার সমুদয় গবেষণালব্ধ রায়গুলো সহীহ হাদিস নির্ভর ছিল। অন্যথা এরকম কথা বলার কী অর্থ! (ক্লিক করুন-
www.markajomar.com/?p=981 )
রেওয়ায়েত ও হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রহ) তাঁর স্বীয় কর্মপদ্ধতি এভাবে উল্লেখ করেছেন-
ﺍﻧﻰ ﺃﺧﺬ ﺑﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺫﺍ ﻭﺟﺪﺗﻪ ﻭﻣﺎﻟﻢ ﺃﺟﺪﻩ ﻓﻴﻪ ﺃﺧﺬﺕ ﺑﺴﻨﺔ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭ ﺍﻷﺛﺎﺭ ﺍﻟﺼﺤﺎﺡ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﺘﻰ ﻓﺸﺖ ﻓﻰ ﺃﻳﺪﻯ ﺍﻟﺜﻘﺎﺕ .
অর্থ : আমি কিতাবুল্লায় বিধান পেলে তা সিদ্ধান্ত হিসাবে গ্রহণ করি। তাতে না পেলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ এবং তাঁর ঐ সকল সহীহ হাদীস থেকে যা নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। (ছয়মারী, আখবারু আবী হানীফা ওয়া মানাকিবুহু) অতএব এ হিসাবে ইমাম আবু হানীফা (রহ) যত মাসআলার সমাধান দিয়েছেন, সহীহ হাদীস অনুসারেই দিয়েছেন। ‘হাদীস সহীহ হলেই তা আমার মাযহাব’ বাক্যটির এ মর্ম গ্রহণ করলে মতলববাজদের মতলব পূরণ হয় না।
.
ইবনে আবেদীনের হাশিয়া (১/৩৬)- এর উদ্ধৃতি দিয়ে কথিত আহলে হাদিসরাও প্রচার করে বলে যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ) বলেছেন- যখন সহীহ হাদিস পাওয়া যাবে, জেনে রেখো সেটাই আমার মাযহাব।”
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, কথিত আহলে হাদিসের এ রকম গদবাধা প্রচারণা আখের নিজেদেরই গলার কাঁটায় পরিণত হল।
.
প্রকাশ থাকে যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর উক্ত কথাটি — ওরা যে রূপ শব্দ চয়নে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা হুবহু কিন্তু সে রকম নয়। বরং উনার বক্তব্য ছিল ঠিক নিম্নরূপ —
ﺍﺫﺍ ﺻﺢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻓﻬﻮ ﻣﺬﻫﺒﻲ “যখন হাদিস সহীহ হয়, (তাহলে বুঝতে হবে) সেটাই আমার মাযহাব।” এখন আমার প্রশ্ন হল, লামাযহাবীদের উক্ত প্রচারণার ভেতর “পাবে” শব্দের আরবী কী? জবাব আছে কি?
বক্তব্যটির সম্বোধিত ব্যক্তি কারা? এ বক্তব্যের সম্বোধিত ব্যক্তিগণ হলেন মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেমগণ। কোনো স্বাধারণ ব্যক্তি নন। অতএব যে ব্যক্তি মুজতাহিদ ইমামগণের মত ছেড়ে ঐ সহীহ হাদীস অনুসারে আমল করবেন তাকে অবশ্যই মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেম হতে হবে।
.
ইমামে আ’জম (রহ)-এর বক্তব্যটির সম্বোধিত ব্যক্তিগণ হলেন, হানাফি ফিকহ’র গবেষণা ক্যাবিনেট’র সদস্যবৃন্দ।
যেমন – ইমাম যুফার রহঃ (১৫৮ হিঃ), ইমাম মালেক ইবনে মিগওয়াল রহঃ (১৫৯ হিঃ), ইমাম মালিক ইবনে নাজির তাঈ রহঃ (১৬০ হিঃ), ইমাম মিনদাল ইবনে আলী রহঃ (১৬৮ হিঃ), ইমাম নযর ইবনে আব্দুল করীম রহঃ (১৬৯ হিঃ), ইমাম হাম্মদ ইবনে আবু হানিফা রহঃ (১৭০ হিঃ), ইমাম আমর ইবনে মায়মূন রহঃ (১৭১হিঃ),
ইমাম হিব্বান ইবনে আলী রহঃ (১৭২ হিঃ), ইমাম আবু ইসমা রহঃ (১৭৩হিঃ), ইমাম যুহাইর ইবনে মু’আবিয়া রহঃ (১৭৩ হিঃ), ইমাম কাসিম ইবনে মা’আন রহঃ (১৭৫ হিঃ), ইমাম সায়্যাজ ইবনে বিসতাম রহঃ (১৭৭ হিঃ), ইমাম শরীফ ইবনে আব্দুল্লাহ রহঃ (১৭৮ হিঃ), ইমাম আফিয়া ইবনে ইয়াযিদ রহঃ (১৮০ হিঃ), ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারাক রহঃ (১৮১ হিঃ), ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ(১৮২ হিঃ) , ইমাম আবু আসিম নাবিল হামীদ রহঃ (১৮২ হিঃ), ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নূর রহঃ (১৮৩ হিঃ), ইমাম হায়সাম ইবনে বশীর রহঃ (১৮৩ হিঃ), ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া রহঃ (১৮৪ হিঃ),
ইমাম আসাদ ইবনে ওমর রহঃ (১৮৮ হিঃ), ইমাম ইউসুফ ইবনে খালিদ রহঃ (১৮৯ হিঃ), ইমাম আলী ইবনে মুসাহির রহঃ (১৮৯ হিঃ), ইমাম মুহাম্মদ রহঃ(১৮৯ হিঃ), ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রীস রহঃ (১৯২ হিঃ), ইমাম ফজল ইবনে মুসা রহঃ (১৯২ হিঃ), ইমাম আলী ইবনে যিরয়ান রহঃ ( ১৯২ হিঃ), ইমাম ফুযাইল ইবনে গিয়াস রহঃ (১৯৪ হিঃ), ইমাম আফস ইবনে গিয়াস রহঃ (১৯৪ হিঃ), ইমাম হিশাম ইবনে ইউসুফ রহঃ (১৯৭ হিঃ), ইমাম শু’আইব ইবনে ইসহাক রহঃ (১৯৭ হিঃ), ইমাম অকি ইবনুল জারাহ রহঃ (১৯৮ হিঃ),
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহঃ (১৯৮ হিঃ), ইমাম আবু হাফস ইবনে আঃ রহমান রহঃ (১৯৯ হিঃ), ইমাম মতী’বলখী রহঃ (১৯৯ হিঃ), ইমাম খালিদ ইবনে সুলাইমান রহঃ (১৯৯ হিঃ), ইমাম আব্দুল হামিদ রহঃ (২০৩ হিঃ), ইমাম হাসান ইবনে যিয়াদ রহঃ (২০৪ হিঃ), ইমাম হাম্মাদ ইবনে দালিল রহঃ (২১৫ হিঃ), ইমাম মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহঃ (২১৫ হিঃ) । উনাদের এক এক জনের মুখস্তই ছিল বুখারীর মত ডজন খানেক হাদিসের কিতাবের সমপরিমান হাদিস।
কাজেই আবারো প্রমাণিত হল— আহলে হাদিস নামধারী দ্বিমুখী ভ্রষ্টরা গণমানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করার জন্য ইমামদের কথার বিকৃতি সাধনে বড্ড পারঙ্গম !!
সুতরাং হানাফী মুজতাহিদ ও ফকীহগণ যেসব হাদীছ সহীহ মনে করেন – সেসব আমাদের কাছেও সহীহ। অন্যান্য মাযহাবীও যার যার মাযহাবের ক্ষেত্রে প্রায় একই নীতি মেনে চলেন। তাছাড়া, তাঁরা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস ইত্যাদির আলোকে লাখ লাখ ফতোয়া ও মাসয়ালার যেসব যৌক্তিক সমাধান দিয়েছেন – তা আর কারো থেকে পাওয়া যায় না। আর তাই, সিংহভাগ মুসলিম উম্মাহ এ চার মাযহাব বরণ করেছেন।
১৩। রাসূল সঃ এবং তার সাহাবীগনের মাযহাব কি ছিল?
উঃ তাঁর যুগে মাযহাব বা হাদীছের কিতাবের তেমন দরকার ছিলো না। কেননা, তিনি নিজেই সব সমস্যার সমাধান দিতেন। তবে, তাঁর ওফাতের পর, মুজতাহিদ সাহাবীগণের মাযহাব ছিলো – যা গায়ের মুজতাহিদ সাহাবীগণ অনুসরণ করতেন।
১৪। উহা কি এখনও প্রচলিত আছে? নাকি বন্ধ হয়ে গেছে? উঃ সেগুলো চার মাযহাবে এসে মিশে গেছে।
১৫। বন্ধ হলে কে বন্ধ করল? উঃ ১৪নং উত্তর দেখুন।
১৬। কেন করল? উঃ ১৪নং উত্তর দেখুন।
১৭। বন্ধ করার অধিকার কে দিল? উঃ ১৪নং উত্তর দেখুন। আপনারা পারলে, চালু করুন।
১৮। আর যদি বন্ধ না হয়ে থাকে, তবে অন্যের নামে মাযহাব সৃষ্টি করার প্রয়োজন কি?
উঃ কোনো সাহাবীর নামে এখন হাদীছের কিতাব নেই বললেই চলে। অথচ চার মাযহাবের ইমাম ও সিহাহ সিত্তাহর সংকলক এবং অন্যান্যের নামে হাদীছের কিতাব রয়েছে। কেন? আর ১২নং উত্তর দেখুন।
১৯। চার মাযহাব মান্য করা ফরয হলে যারা চার মাযহাব মানেন না অথবা চার মাযহাব সৃষ্টি হওয়ার আগে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের উপায় কি?
উঃ ৩নং উত্তর দেখুন। সত্যিই যারা (মুজতাহিদ নন) মাযহাব না মেনে মারা গেছেন – তাদের নিয়ে আমরাও চিন্তিত! কিন্তু কেউ অপরাধ করলে, আমাদের আফসোস করা ছাড়া আর কীবা করার আছে বলুন? আর মাযহাব সৃষ্টি হওয়ার আগে মানে হচ্ছে, নবীজীর যুগে। এ ব্যাপারে ১৩নং উত্তর দেখুন।
২০। (নাউযুবিল্লাহ) তারা কি দোযখী হবেন? উঃ মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টি বা ফেতনাবাজির অপরাধে মাযহাব অমান্যকারীদের দীর্ঘদিন ধরে দোযখে থাকার কথা। এ ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানতে আল্লাহুতা’লার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
২১। ইমাম চার জন কোন মাযহাব মানতেন?
উঃ চার ইমাম তো মুজতাহিদ। আর আগেই বলেছি যে, মুজতাহিদদের জন্যে মাযহাব মানা ওয়াজিব নয়। তবে যখন তাঁরা মুজতাহিদ হন নি – তখন তাঁরা তাদের উস্তাদগণের মতামত অনুসরণ করতেন।
২২। তাদের পিতা-মাতা, ওস্তাদ মণ্ডলি ও পূর্বপুরুষগণ কার মাযহাব মেনে চলতেন? উঃ তাঁদের মা-বাবার বিস্তারিত জীবনী জানা যায় না। তবে, তাঁদের অধিকাংশ উস্তাদই মুজতাহিদ ছিলেন।
২৩। সেই মাযহাব কি এখন মানা যায় না? উঃ চার মাযহাব ছাড়া বাকিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে, উদ্ধার করতে পারলে, মানতে পারবেন বৈকি।
২৪। ঈমানদারীতে ও কুরআন হাদীসের বিদ্যার চার ইমাম শ্রেষ্ঠ ছিলের না চার খলীফা? উঃ অবশ্যই চার খলীফা।
২৫। যদি খলীফাগণ শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন তবে তাদের নামে মাযহাব হল না কেন?
উঃ প্রথমত, আমারও প্রশ্ন খলীফাগণ শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নামে হাদীছের কিতাব না হয়ে বুখারী-মুসলিমদের নামে হলো কেন? আর আপনারাও সেগুলোর তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ করেন কেন? অর্থাৎ বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ইত্যাদি আছে। কিন্তু আবূ বকর শরীফ, ওমর শরীফ, উছমান শরীফ প্রভৃতি কৈ?
দ্বিতীয়ত, তাঁদের সকল ফতোয়া সংরক্ষিত হয় নি – যেভাবে তাঁদের বর্ণিত সকল হাদীছও সংরক্ষিত হয় নি।
২৬। তারা কি ঈমামগণ অপেক্ষা কম জ্ঞানী বা যোগ্য ছিলেন? উঃ না।
২৭। নবীর নামে কালেমা পড়বে, ইমামদের নামে মাযহাব মানবে আর পীর-ফকিরদের তরিকা মত চলবে এই নির্দেশ কুরআন হাদীসের কোথায় আছে?
উঃ প্রথমত, সিহাহ সিত্তাহ মানার কথা পবিত্র কুরআন ও হাদীছ শরীফের কোথায় আছে?
দ্বিতীয়ত, নবীজী সাহেবে কুরআন হতে পারলে – সাহেবে কালেমা হতে পারবেন না কেন? যে তাঁর নামে কালেমা পড়তে অস্বীকার করবে – সে কাফের! কেননা, ঈমানের মূল হচ্ছে, তাওহীদ ও রিসালাত। তাঁর নামে কলেমা পড়তে অস্বীকার করা মানে, রিসালাতকেই অস্বীকার করা।
তৃতীয়ত, ইমামগণের মাযহাব ও কামেল পীরদের তরীকা মানার কথা আল-কুরআনে অনেক রয়েছে।
যেমন- (ক) আমাদেরকে সোজা পথে পরিচালিত করো তথা যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছো – তাদের পথে। (১:৫ ও ৬)।
(খ) যেদিন আমি প্রত্যেক গোষ্ঠীকে তাদের ইমামসহ ডাকবো। (১৭:৭১) ।
(গ) আর যে আমার পানে দিক- নির্দেশনা দেয় – তার পদাঙ্ক অনুসরণ করো। (৩১:১৫) ।
(ঘ) … সুতরাং তোমাদের জানা না থাকলে – যারা জানে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো (১৬:৪৩)।
(ঙ) যারা ঈমান এনেছো – তাদেরকে বলছি! তোমরা আল্লাহর তাবেদারী করো এবং রাসূল ও তোমাদের হুকুমদাতাদের তাবেদারী করো। তবে কোন ব্যাপারে তোমাদের মাঝে মতবিরোধ হলে – তোমরা যদি আল্লাহ্ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হও – তাহলে তা (মতবিরোধের বিষয়টি) আল্লাহ ও রাসূলের সমীপে পেশ করো। ওটাই কল্যাণকর এবং এর ফলাফল খুবই ফলপ্রসূ। (৪:৫৯)।
(চ) আর তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোন খবর এলেই – তারা তা বলে বেড়াতো; বরং তারা তা রাসূল কিংবা তাদের হুকুমদাতাদের গোচরে আনলে – তারা তাদের গবেষকদের কাছ থেকে তার আসল ব্যাপারটা জানতে পারতো। তদুপরি, তোমাদের উপরে আল্লাহ্’র ফযল ও রহমত না থাকলে – অল্প কয়েকজন ছাড়া তোমরা (সবাই) শয়তানের পদাঙ্কই অনুসরণ করতে (৪:৮৩)।
(ছ) যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না এবং যারা হেদায়েত পেয়েছে – তোমরা তাদেরকে অনুসরণ করো। (৩৬:২১)।
২৮। আল্লাহর নবীর কি মাযহাব বা তরীকা নাই? উঃ মাযহাব ও তরীকা এমন জিনিস – যার বিকল্প রয়েছে। যেমন- হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী – এগুলো একটি আরেকটির বিকল্প। তেমনি, কাদিরিয়া, চিশতিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, নকশবন্দিয়া ইত্যাদিও। তাই, নবীজীর নামে মাযহাব ও তরীকা হতে পারে না, বরং তাঁর নামে দ্বীন, শরীয়ত, উম্মত ইত্যাদি হতে পারে – যেগুলোর কোনো বিকল্প নেই। যেমন- দ্বীনে মুহাম্মাদী, শরীয়তে মুহাম্মাদী, উম্মতে মুহাম্মাদী।
২৯। সেই মাযহাব বা তরীকা কি যথেষ্ট নয়? উঃ ২৮নং উত্তর দেখুন।
৩০। নবীর প্রতি ইসলাম কি পরিপূর্ণ করা হয় নাই? উঃ অবশ্যই করা হয়েছে। তারপরেও আপনারা সিহাহ সিত্তাহর এবং আমরা মাযহাবের অনুসরণ করি।
৩১। রাসুলুল্লা (সঃ) কি কামেল নবী নন? উঃ নিঃসন্দেহে।
৩২। ইসলাম কি মুকাম্মাল ধর্ম নয়? উঃ নিঃসন্দেহে। কিন্তু তাই বলে, ইসলাম মাযহাব বা সিহাহ সিত্তাহবর্জিত নয়।
৩৩। ইসলাম পূর্ন পরিনত এবং নবী মুহাম্মাদ (সঃ) কামেল হয়ে থাকলে অন্যের মত ও পথ মান্য করার অবকাশ কোথায়? উঃ আল-কুরআনই তা বলেছে। ২৭নং উত্তর দেখুন। তাছাড়া, আপনারা হাদীছ শরীফ মানার ব্যাপারে কেন ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখের কথা বা দাবির তাকলীদ করেন? তাঁরাতো কেউই তাবে’ তাবেঈনও ছিলেন না?
৩৪। যারা পূর্ণ পরিনত ইসলাম এবং কামেল নবীকে অসুম্পূর্ণ প্রমান করে অন্যের দ্বারা তা পূর্ণ করার স্বপ্ন দেখেছে, তারা কি কুরআন ও হাদীসের বিরোধিতা করছে না? উঃ প্রথমত, নবীজী কামেল নবী এবং তিনি কামেল ধর্ম ইসলাম রেখে যাওয়ার পরেও আপনারা অনেক পরে সৃষ্ট সিহাহ সিত্তাহর অনুসরণ করে কি নবীজী ও ইসলামের কামালিয়তকে চ্যালেঞ্জ করছেন না?
দ্বিতীয়ত, যেহেতু ইসলাম ৩টি আনুগত্যের (আল্লাহুতা’লা, নবীজী ও উলুল আমর) কথা বলেছে – সেহেতু মাযহাব ও তরীকা অনুসরণ করা মানে, পরিপূর্ণ ইসলামেরই অনুসরণ করা। নইলে, আপনারা সিহাহ সিত্তাহ মানেন কেন? এর গ্রহণযোগ্যতার দলিল কী?
৩৫। যে দলটি মুক্তি পাবে বলে নবী (সঃ) সুস্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছেন – সেই নাযাত প্রাপ্ত দল চার মাযহাবের কোনটি? উত্তর: ৪টি মাযহাবের পথই নাজাতের পথ। কেননা, মাযহাবের ফকীহগণ একে-অপরের ঈমানকে চ্যালেঞ্জ করেন নি। এ চার মাযহাবের অনুসারীরাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। মোট কথা, নদী যেমন সাগরে গিয়ে মিশেছে – চার মাযহাবও তেমনি সিরাতুল মুস্তাকীমে গিয়ে মিশেছে।
৩৬। বেহেস্তের পথ বা সিরাতুল মুস্তাকীম বুঝাবার জন্য নবী (সঃ) একটি সরল রেখা অঙ্কন করে বললেন, ইহা আল্লাহর পথ। তোমরা ইহার অনুসরণ কর। তৎপর ঐ সরল রেখাটির ডানে ও বামে কতকগুলি রেখা আঁকলেন এবং বললেন, এই পথ গুলির প্রত্যেকটির একটি করে শয়তান আছে। তারা নিজ নিজ পথের দিকে ডাকছে। তোমরা ঐ পথ গুলির অনুসরণ করিও না। যদি কর, তা হলে তারা তোমাদিগকে সরল পথ হতে বিভ্রান্ত করে ফেলবে (মিশকাত)। এই হাদিস অনুযায়ী রসুলের (সঃ) পথ সিরাতুল মুস্তাকীম ব্যতীত অন্য পথগুলি কি শয়তানের পথ নয়? উঃ প্রথমত, ৩৫নং উত্তর দেখুন।
দ্বিতীয়ত, চার মাযহাবের ইমাম ও সত্যিকারের অনুসারীগণ ঐ সরল পথে রয়েছেন – যেভাবে হযরত আলী ও মুয়াবিয়া (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহুমা) উভয়ই সরল পথে রয়েছেন। দেখুন, তাঁরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৭০,০০০ মুসলিম মেরেছেন। অথচ এক মাযহাবীদের সঙ্গে অন্য মাযহাবীদের কখনো কি এমন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে? তারপরেও তাঁরা দু’জনই কিন্তু সিরাতুল মুস্তাকীমে ছিলেন ও আছেন। সিহাহ সিত্তাহে তাঁদের দু’জন থেকেই বর্ণিত অনেক হাদীছ শরীফ গ্রহণ করা হয়েছে, তাই না?
তৃতীয়ত, আসলে, ঐ দ্বিমুখী মাযহাবীগুলোই হচ্ছে, নাজির হোসেন, সিদ্দীক হাসান খান ভূপালী, স্যার সৈয়দ আহমদ, আব্দুল্লাহ চকড়লভী, গোলাম আহমেদ পারভেজ, নাসিরুদ্দীন আল- আলবানী, ইবনে বাজ, জাকির নায়েক প্রমুখ ।
৩৭। কালেমা পড়া হয় নবী (সঃ)-এর নামে, কবরে রাখা হয় নবীর (সঃ) তরীকায়, কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে নবীর (সঃ) কথা, হাশর ময়দানেও নবীর (সঃ) শাফায়াত করবেন- সেই মহা নবী (সঃ) এর তরীকা বাদ দিয়ে অন্যের তরিকা মানলে নাজাত পাওয়া যাবে কি?
উত্তর: প্রথমত, আগেই বলেছি যে, নবীজীর নামে তরীকা হতে পারে না; বরং মাযহাব অবলম্বনকারীরা যেসব তরীকা মানে – সেসবই তাঁর তরীকা। কারো নাম ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সে নবীজীর উম্মত। তেমনি, কাদিরিয়া, চিশতিয়া, সোহরাওর্দীয়া, নকশবন্দিয়া ইত্যাদির নাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু এসবই তাঁর তরীকা তথা সিরাতুল মুস্তাকীম নামক নাজাতের সাগরের এক একটি দরিয়া। আর ঐ পীর সাবরা উলুল আমরের অন্তর্গত।
দ্বিতীয়ত, আপনারাও সেই নবীজী হাদীছ শরীফ বাদ দিয়ে সিহাহ সিত্তাহর হাদীছ মানেন কেন? এসবতো কোনো তাবে’ তাবেঈনও সত্যায়ন করেন নি?
৩৮। বাংলাদেশে মাযহাব ও পীরের অন্ত নাই; যত পীর তত তরীকা। পীর সাহেবরা আজকাল কেবলা বানিয়ে নিয়েছে। মানুষ কি মানুষের কেবলা হতে পারে?
উঃ অবশ্যই হতে পারে। এ ব্যাপারে ৪১নং উত্তরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
৩৯। তারা তাদের আস্তানাগুলিকে দায়রা শরীফ, খানকা শরীফ, মাযার শরীফ, ওরশ শরীফ, উরসেকুল প্রভৃতি নাম দিয়ে মুসলমানদের তীর্থস্থান মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের অবমাননার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে।
উঃ মিথ্যে কথা। কোনো হাক্কানী পীর বা মুরীদ কখনো মক্কা ও মদীনা শরীফাঈন অবমাননা করতে পারেন না। তবে, প্রত্যেক ধর্মে বা মতাদর্শে ৩ কিসিমের লোক থাকে।
যথা- ক) নিষ্ঠাবান, খ) উদার ও গ) ভন্ড। কিন্ত খ ও গ কিসিমের লোকদের দিয়ে তাদের ধর্ম বা মতাদর্শের মূল্যায়ন করাটা আহাম্মকি ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, কেউ কোনো ধর্ম বা মতাদর্শ না মানলে – সেটা তার ধর্ম বা মতাদর্শের দোষ নয়।
৪০। এগুলি কি দ্বীন ও শরিয়তের নামে ভণ্ডামি নয়? উঃ ৩৯নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
৪১। মুসলমানদের আল্লাহ এক, নবী এক, কুরআন এক, কেবলা এক এবং একই তাদের ধর্মকর্ম রীতি-নীতি। সুতরাং তাদের মুক্তি ও কল্যাণের পথ হচ্ছে মাত্র একটিই। যা ইসলাম, সিরাতে মুস্তাকীম বা তরিকায়ে মুহাম্মাদী।
.
উত্তর:
প্রথমত, আল্লাহুতা’লা নিঃসন্দেহে এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু নবী কি এক? (নাঊজুবিল্লাহি মিন জালিক) যারা বলবে নবী এক – তারা কাফের। কেননা, নবীগণের (’আলাইহিমুস সলাতু ওয়াস সালাম) সংখ্যা এক লাখ চব্বিশ হাজার বা দু’ লাখ চব্বিশ হাজার। আপনারা যে ভন্ড, পথহারা— এ কথায়ই তার প্রমাণ। কেননা, আপনারা মাত্র একজন নবী ছাড়া বাকিদের নবুয়ত অস্বীকার করেছেন!
দ্বিতীয়ত, আল-কুরআন এক বটে। কিন্তু হাদীছের কিতাবতো শত শত! অথচ এ পরম সত্যটি আপনারা হঠকারিতা করে চেপে গেছেন। কাজেই, হাদীছের কিতাব শত শত হতে পারলে, মাযহাব ৪টি হলে দোষ কী?
তৃতীয়ত, কেবলা মানে, অভিমুখ। আক্ষরিক অর্থে সকল ইবাদতের কেবলা একটি বা কা’বা শরীফ নয়। নবীজী ফরজ নামাজ আদায় করে মুক্তাদিদের দিকে ফিরে দোয়া করতেন। সুতরাং এখানে ইমামের দোয়ার কিবলা হচ্ছে, মুক্তাদি। তেমনি, খতীব মুসল্লীদের দিকে ফিরে খুতবা দেন এবং বক্তা বা ওয়ায়েজ শ্রোতাদের দিকে ফিরে বক্তব্য রাখেন। সুতরাং এখানে তাঁদের কেবলা মুসল্লীগণ এবং শ্রোতামন্ডলী। ক্লাশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি থাকেন। এখানে একে অপরের কেবলা। তেমনি, মুরীদানের কেবলা তাঁদের পীর সাব। সুতরাং কেবলা একটি নয়, বরং ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়।
চতুর্থত, আল-কুরআনের ব্যাখ্যা ও হাদীছ শরীফের ভিন্নতার কারণেই ফিকাহের শাখা-প্রশাখায় ভিন্নতা এসেছে। এ সহজ কথাটা যারা বোঝে না – তারা প্রথম স্তরের গাধা।
পঞ্চমত, মাযহাব সম্পর্কে উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তরেরই খোলাখুলি আলোচনা করেছি। তাই, এখানে আর চর্বিত চর্বণ করছি না। ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম প্রমুখ তাঁদের কিতাবে কিছু কথা লিখে দাবি করেছেন যে, এগুলো নবীজীর (আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালাম) বাণী! কিন্তু এর প্রমাণ কী?
তথাকথিত আহলে হাদীছ সম্প্রদায় বা লা মাযহাবীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইমাম বুখারী-মুসলিমদের অন্ধ অনুসরণ করে। অথচ তাঁদের ব্যাপারে আল্লাহুতা’লা, নবীজী, কোনো সাহাবী, তাবেঈ, এমনকি তাবে’ তাবেঈন পর্যন্ত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করেন নি!
তাছাড়া, মারাত্মক কথা হচ্ছে, সিহাহ সিত্তাহ ফেতনার যুগে সংকলিত হয়েছে। অথচ ৪ মাযহাবের জন্ম হয়েছে প্রসিদ্ধ ৩ যুগে। আর তাই, মাযহাবের মুজতাহিদগণ যেসব হাদীছ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেছেন – সেসব যাঁর যাঁর মাযহাবীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য বা প্রত্যাখ্যাত; সিহাহ সিত্তাহর সংকলকগণ যাই বলে থাকুন না কেন।
সাফ কথা, মাযহাবের ইমামগণের কাছে সিহাহ সিত্তাহর সংকলকগণ জাহাজের মোকাবেলায় ডিঙির মতো। আর “মাযহাব ৪০০ হিজরী হয়েছে” এটা ডাহা মিথ্যে কথা। আমি উপরে দেখিয়েছি যে, ইমামে আযম নিজে নিজের মাযহাব দাবি করেছেন। ষষ্ঠত, সিহাহ সিত্তাহ ফেতনা যুগে সংকলিত হয়েছে। আর তাই, মাযহাব বাদ দিয়ে সিহাহ সিত্তাহর অনুসরণ করা মানে, ফেতনারই অনুসরণ করা।
আপনি (প্রশ্নকারী) চার মাযহাবের ইমামগণের জন্ম ও ওফাতের সন বলেছেন। অথচ সিহাহ সিত্তাহর সংকলকদেরটা বলেছেননি! কেন? থলের বিড়াল বের হয়ে পড়বে বলে? তাছাড়া, আপনি ইমাম মালিকের জন্ম তারিখ ভুল দিয়েছেন। সঠিক হচ্ছে, ৯৩ হিজরী। সিহাহ সিত্তাহর সংকলকদের জন্ম চার মাযহাবের ইমামগণের অনেক পরে।
.
তাঁদের জীবনকাল হচ্ছে, ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিজরী), ইমাম মুসলিম (২০৪-২৪২ হিঃ), ইমাম নাসায়ী (২১৫-৩০৩ হিজরী), ইমাম তিরমিযী (২০৯-২৭১ হিঃ), ইমাম আবূ দাউদ (২০২-২৭৫ হিঃ) ও ইমাম ইবনে মাজা (২০৯-২৭৩ হিঃ)।
.
সুতরাং যদি বলা হয়: “চার ইমামের আগে ইসলাম ও মুসলমান ছিলো। তখন তাদের করো মত ও পথের দরকার হয় নি। এখনো দরকার নাই। তখনো মুসলমানদের কাছে কুরআন- হাদীস ছিলো। এখনো আছে। কাজেই, কুরআন ও সহীহ হাদীসই যথেষ্ট।” তাহলে, আমরাও বলতে পারি যে, সিহাহ সিত্তাহ সংকলনের আগেও কুরআন-হাদীছ, ইসলাম ও মুসলমান ছিলো। তখন সিহাহ সিত্তাহর দরকার হয় নি; এখনো দরকার নেই। কাজেই, তখনকার হাদীছের কিতাবগুলো খুঁজে বের করেন। নইলে, মাযহাব ছাড়া উপায় নেই। কেননা, আবারো বলছি, সিহাহ সিত্তাহ বা আলাদা হাদীছগুলো মাযহাবের পরে ফেতনার যুগে সৃষ্ট হয়েছে।
আশা করি, আপনি আপনার উস্তাদসহ আপনার জ্ঞাতি ভাইদের নিয়ে আমাদের যুক্তিগুলো খন্ডন করবেন। ধন্যবাদ ।
.
(বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমরা সিহাহ সিত্তা মেনেই চার ইমামের ইজতিহাদ স্বীকার করি। তবে অনুসরণ করি ইমামে আ’জম হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর গবেষণালব্ধ মাযহাব বা রায়। কেননা, মুজতাহিদদের ইজতিহাদ বুখারির হাদিস দ্বারাও অনুমোদিত। যেমন, আমরা সব নবী রাসূলকে সঠিক বলে বিশ্বাস করি, কিন্তু অনুসরণ করি শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর প্রচারিত সর্বশেষ দ্বীন তথা ইসলাম।
.
উপরের দীর্ঘ আলোচনায়, ভ্রষ্ট আহলে হাদিসদের কতেক অন্তঃসারশূন্য প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে বেশ কিছু প্রশ্নোত্তরে সিহাহ সিত্তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হল। এর মানে এই নয় যে, সিহাহ সিত্তাকে অবজ্ঞা করলাম। আমরা অবশ্যই সিহাহ সিত্তাকে মানি। শুধু তা নয়, সহিহ হাদিস যেখানেই পাওয়া যাবে আমরা তা বিনা বাক্যে মেনে থাকি।)

একজন রাবি মুনকার,মুদত্বব,মাতরুক ইত্যাদি হলে হাদিসের সনদ জাল নয়, বরং দ্বঈফ বলা যেতে পারে।

বর্তমান আহলে হাদিসগন খুবই ফিতনা ছড়াচ্ছে যে হাদিসের সনদে কোন ব্যাপারে যদি মুনকার ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয় তাহলে তা তাদের দৃষ্টিতে জাল হাদিস হিসেবে গন্য। অথচ এটি হচ্ছে তাদের মনগড়া নীতিমালা। সকল মুহাদ্দিসগনই বলেছেন সনদের একজন রাবির প্রতি উপরের বর্নিত দুর্বলতার দ্বারা সনদটি দ্বঈফ হবে কিন্তু জাল নয়।
এ বিষয়ে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (৯১১) রহঃ বলেন:
ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻧﻮﻉ ﺁﺧﺮ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻤﻮﺿﻮﻉ ﻭﻫﻮ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﺍﻟﺘﻌﻘﺒﺎﺕ : ۹ - ﺑﺎﺏ ﺍﻻﻃﻌﻤﺔ ﺗﺤﺖ ﺣﺪﻳﺚ ﻋﺎﻧﺴﺔ ﻛﻠﻮﺍ ﺍﻟﺜﻠﺞ ﺑﺎﻟﺘﻤﺮ
-“সর্বসম্মত অভিমত হলাে মুনকার সনদ জাল হাদিসের প্রকার নয়,বরং দ্বঈফ। হাদিসের প্রকার।"(সুয়ূতি, তা'আকিবাত, ৩৭পৃ.অধ্যায়ঃ ইত'আম)।
ইমাম সুয়ূতি (৯১১)রহ. তার এ কিতাবের অন্যস্থানে বলেন ।
ﺻﺮﺡ ﺍﺑﻦ ﻋﺪﻱ ﺑﺎﻥ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻣﻨﻜﺮ ﻓﻠﻴﺲ ﺑﻤﻮﺿﻮﻉ ﺍﻟﺘﻌﻘﺒﺎﺕ : ﺩﯼ
-“এটা সুস্পষ্ট কথা ইমাম আদি (রহ.) বলেছেন মুনকার সনদের হাদিস জাল নয়।"(সুয়ূতি, তা'কিবাত,৬২পৃষ্ঠা)
তিনি এ কিতাবের অন্যস্থানে বলেছেন যে
ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻣﻦ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﻭﻫﻮ ﻣﺤﺘﻤﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻔﻀﺎﺋﻞ ﺍﻟﺘﻌﻘﺒﺎﺕ : ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﻗﺐ
-“সনদ মুনকার হওয়া এটা দ্বঈফ হাদিসের প্রকার (জাল নয়) যা আমলের ফযিলত সম্ভবনা রাখে। (তা'কিবাত,কিতাবুল মানাকিব) অপরদিকে মুদত্বরাব সনদ সম্পর্কে তিনি বলেন
ﺍﻟﻤﻀﻄﺮﺏ ﻣﻦ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﻻ ﺍﻟﻤﻮﺿﻮﻉ : ۹ : ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺎﺋﺰ
-“সনদ মুদত্বরাব হলাে দ্বঈফ সনদের প্রকার, জাল হাদিসের প্রকার নয়।"(সুয়ূতি, তা'কিবাত,২৭পৃষ্ঠা) |
সূত্র: প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Wednesday, March 20, 2019

একজন রাবি (সাধারন) দ্বঈফ হওয়াতে হাদিস বাতিল হওয়া শর্ত নয় ।


হাদিস শাস্ত্রে একজন রাবী সাধারন দ্বঈফ হলে বর্তমান আহলে হাদিসগন ফিতনা ছড়াচ্ছে যে, সে হাদিসটির সনদ নাকি অত্যন্ত দুর্বল বলে বিবেচিত হবে, তারা কোন ক্ষেত্রে জাল বা বানােয়াট বলে বেড়িয়ে সমাজে ফিতনা ছড়াচ্ছে। তবে এটির ব্যাপারে সকল মুহাদ্দিসগন একমত রাবির দুর্বলতা যদি কঠিন পর্যায়ের হয় (যেমন তার ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিস যদি মুনকারুল হাদিস,মাতরুকুল হাদিস ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার থাকলে) তাহলে সনদটি দুর্বল তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই রাবীর সামান্ন দুর্বলতায় হাদিসের সনদ জাল বা অত্যন্ত দুর্বল হবে না। এ প্রসঙ্গে সংক্ষেপে কিছু লিখার জন, প্রয়ােজন মনে করলাম এবং কিছু মুহাদ্দিসের সনদ তাহকীক উদাহরণ স্বরূপ পেশ করলাম।


আল্লামা ইবনে হাযার হাইসামী (র) এক হাদীসের বর্ণনা করতে গিয়ে একজন রাবী দ্বঈফ হওয়ার কথা এভাবে বর্ণনা করেন,
رواه الطبراني، وفيه ابن لهيعة وفيه ضعف، وحديث حسن
-“উক্ত হাদিসে ইবনে লাহিয়া বিদ্যমান। তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী, তারপর হাদিসটি হাসান।"
* আল্লামা ইবনে হাজির হায়সামী : মাযমাউল যাওয়াইদ । ৮/১০২ এবং ১০/১৭০ পূ.
তার বক্তব্য দ্বারা বুঝা গেল একজন রাবী দ্বঈফ হওয়ার কারণেও হাদিসটি নিঃসন্দে হাসান লিগাইরিহী।
শুধু তাই নয় নাসিরুদ্দীন আলবানীও উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন, ইবনে লাহিয়া দূর্বল রাবী তারপরও বলেন, فالحديث حسنঅত:পর হাদিসটি হাসান" বলে বিবেচিত হবে।

* নাসিরুদ্দীন আলবানী ঃ সিলসিলাতলু আহাদিসুস সহীহাহঃ ৩১৩৬ পৃ.হাদিসঃ১১৪৪
হযরত যাবের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ.) সবাইকে একথাটি জানানাের জন্য বলেছিলেন

لا يدخل الجنة إلا مؤمن»
-“মু'মিন ব্যতিত কেউ জান্নাতে যাবে না। এ হাদিসটি হাইসামী সংকলন করে বলে
رواه أحمد، وفيه ابن لهيعة، وإسناده حسن
হাদিসটি ইমাম আহমাদ বর্ননা করেছেন,আর সনদে ইবনে লাহিয়াহ' রাবি বিদ্যমান তারপরেও হাদিসটি হাসান।”
* আল্লামা ইবনে হাজর হায়সামী ঃ মাযমাউস যাওয়াইদ, ১৫৩, হাদিস:১৬২,ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়।
এ ইবনে লাহিয়াহ রাবির হাদিসকে ইবনে হাযার তাঁর এ গ্রন্থের মােট ২৪টি স্থানে অনূরুপ বলেছেন।

* আল্লামা ইবনে হাজর হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়াইদ, ৪/১৯৬, হাদিস,৭০০৯, ৫১১৫ হাদিস,৮৪৬৯, ৪/২০পৃ. হাদিস,৫৯৫৪, ৫/২৪৩পৃ. হাদিস,৯২৪২, ৫/২৫৯পৃ. হাদিস, ৯৩২৯, ৫/৩২৫ হাদিস, ১৬৬৪, ৫৩৪০পৃ.হাদিস, ১৭৪৯, ৬৭পৃ. হাদিস,৯৭৭৮, ৬৪২, হাদিস,৯৮৭৬, ৬/৫১. হাদিস, ৯৮৯৯, ৭১পৃ. হাদিস,৯৯৪৭, ৬/৭২পৃ. হাদিস, ১৯৪৮, ১৫৪পৃ. হাদিস,১০২০৯, ৬১৫৫ হাদিস,১০২১১, ১৯০, হাদিস, ১০৩০৩, ৬২১২পৃ. হাদিস, ১০৩৬৭, ৬২৩১, হাদিস,১০৪২৯, ৭৭৭পৃ. হাদিস, ১৯১৯৭, ৭৮পৃ. হাদিস,১১২৫১, ৭/১০০, হাদিস,১১৩১৩, ৭১১৭, হাদিস ১১৩৮৬,৭০০পৃ. হাদিস, ১২৩২৪, ৮/১০২পৃ. হাদিস, ১৩১৯২
শুধু তাই নয় ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (র) এর সুনানে তিরমিযীর ৫ম খন্ডে। কিতাবুল আদাব অধ্যায়ে হযরত যাবের (রা) হতে বর্ণিত আছে
السلام قبل الكلام
-“আগে সালাম তারপর কথাবার্তা।" উক্ত হাদিসটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনার করে বলেন উক্ত হাদীসের দুজন রাবী রয়েছেন আম্বাসা ইবনে আব্দুর রহমান দুর্বল এবং মুহাম্মদ ইবনে যাযান মুনকার (পরিত্যক্ত) বর্ণনাকারী। দুইজন রাবী দোষী হওয়ার পরেও হাদীসের ইমামগণ উক্ত হাদিসটি সনদের ব্যাপারে দ্বঈফ বলেছেন।* বুঝা গেল, একজন রাবী মুনকার এবং দুর্বল রাবী হওয়ার পরও উক্ত হাদিসকে শুধু দুর্বল বলেছেন,জাল নয়।
* আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি : জামেউস সগীর : ২/৩৬১ হাদিস : ৪৮৪২
আল্লামা ইবনে হাযার হাইসামী (র) এক হাদীসের সনদ সম্পর্কে বলেন,

رواه الطبراني في الكبير والأوسط وفيه ابن لهيعة، وفيه ضعف، وحديئة | حسن، وبقية رجاله رجال الصحيح
“উক্ত হাদিসটি ইমাম তাবরানী তার মু'জামুল কবীর ও আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদীসে ইবনে লাহিআহ দুর্বল রাবী হলেও হাদিসটি হাসান অর্থাৎ গ্রহণযােগ্য।
* আল্লামা ইবনে হাজর হায়সামী ঃ মাযমাউদ যাওয়াইদ, ৪/১৯৬;৭০০৯
শুধু তাই নয়, আল্লামা ইমাম ইবনে যওজী (র) তার جامع المساندএকটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন
هو الصحيح لغيره ” اسناد لضعف ابن لهيعة .
সহিহ -“ইমাম ইবনে যওজী (র) বলেন, উক্ত হাদিসটি صحيح لغيره "সহীহ লিগাইরিহী' (সহিহ লি জাতিহী নয় তার কারণ) উক্ত হাদীসে একজন দুর্বল রাবী ইবনে লাহিআহ রয়েছে।"
* আল্লামা ইমাম ইবনে জওজী : জামিউল মাসানিদ ২১৩৩, হাদিস : ১১২৩
যেমন প্রসিদ্ধ একটি হাদিস রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান :

لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور، والمخذين عليها المساجد والسرج
-“আল্লাহ কবর জিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করেন।"
উক্ত হাদিসটি ইমাম তিরমিযী, নাসায়ী, হাকিম, ইমাম আবু দাউদ (র) বর্ণনা। করেছেন। উক্ত হাদীসের একজন রাবী আবু ছালেহ বাযাম তার সম্পর্কে ইমাম ইবনে মাহদী (র) বলেন, তার হাদিস পরিত্যাগযােগ্য।
ইমাম আবু আহমদ (র) ও ইমাম নাসায়ী বলেন,ليس بالقوى অর্থাৎ তিনি শক্তিশালী রাবী নয়, অনুরূপভাবে ইমাম যাহাবী ও বলেছেন। অথচ ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
* আল্লামা ইমাম যাহাবী : মিযানুল ইতিদাল : ৪/৫৩৮ : রাবী নংঃ ১০৩০২
আল্লামা হাইসামী (র) একটি হাদিসের সনদ সম্পর্কে বলেন

رواه أحمد، ورجاله رجال الصحيح غير ابن لهيعة وهو حسن الحديث وفيه ضعف.
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদিসের সমস্ত রাবী বিশ্বস্ত শুধু “ইবনে লাহিআহ" ব্যতীত,কেননা তিনি দুর্বল রাবি। তাই উক্ত হাদিসটি “হাসান" পর্যায়ের।
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াহিদ : ৬/২৯৫ পৃ হাদিসঃ১০৭৬১
দেখুন ইবনে লাহি'আহ (র) হলেন একজন দুর্বল রাবী। তারপরও হাদিসটি দুর্বল বলেন নি।
তিনি অন্যস্থানে উক্ত দুর্বল রাবী সম্পর্কে লিখেন
رواه أحمد، ورجاله رجال الصحيح خلا ابن لهيعة، وحديث حسن.
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদিসের সমস্ত রাৰ সহিহ বা বিশুদ্ধ শুধুমাত্র ইবনে লাহি'আহ ছাড়া। তবে তার হাদিসটি হাসান পর্যায
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ : ৪/৩৩৬ পূ।

তিনি অন্যস্থানে উক্ত রাবী সম্পর্কে বলেন
ما رواه الطبراني، وفيه ابن لهيعة، وحديث حسن، وبقية رجاله رجال الصحيح
“উক্ত হাদিসটি ইমাম তাবরানী সংকলন করেছেন, উক্ত সনদে ইবনে লাহিত বিদ্যমান, তারপরও তার কারণে হাদিসটি হাসান”। আর বাকী রাবীগুলাে সহিত, বিশুদ্ধ।
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ : ৪/৩৫ পৃ.
শুধু তাই নয়, তিনি অন্যত্র হুবহু বলেন

رواه البزار، وفيه ابن لهيعة، وحديئة حسن، وبقية رجاله رجال الصحيح
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম বাযযার (র) বর্ণনা করেছেন, উক্ত সনদে ইবনে লাহি'আহ রয়েছে, তারপরও তার সনদটি “হাসান", আর বাকী সকল রাবী বিশুদ্ধ।
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ : ৪/৩২৯ পৃ.
আল্লামা হাইসামী অন্যস্থানে অন্য রাবী সম্পর্কে লিখেন
رواه أحمد، وفيه محمد بن عمرو بن علقمة وحديث حسن وفيه ضغف لتوء حفظه، وبقية رجاله رجال الصحيح.
-“হাদিসটি ইমাম আবু ইয়ালা (র) ও ইমাম তাবরানী (র) বর্ণনা করেছেন, উক্ত সনদে সমালােচিত রাবী মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা রয়েছেন, তারপরও হাদিসটি হাসান"। আর বাকী সমস্ত রাবী সিকাহ বা বিশ্বস্ত।"
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ ৭/১৪২ পৃ ১১৫১৭
ইমাম হাইসামী এ রাবির ব্যাপারে অনূরুপ তার এ গ্রন্থের ১৮ স্থানে বলেছেন।

* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ : ১২২১, হাদিস,১১১৮, ৪/৩১৬ সি, ৭৩, ৪/৩২৩, হাদিস,১৮১৩,
৩৩, হাদিস, ২০ পিস,১০৩, ২৭, হাদিস-১০১, ৭১৪২পৃ. হাদিস,১১৫১৭, ৮/১০১, হাদিস,১৩১৮
১৩৮. হাদিস,১০১৫৫, ৩২১৮ ৮/২৮, হাদিস,১৩৮৬, ২২৫, হাদিস, ১৫৭৮৫, ৯২২৭, হাদিস,১৫২৮৬, ১৪১৮। হাদিস,১৬১৮২, ১০/০৮পিস,৮৭০১, ১০/১৮, হাদিস, ১৮৫২
তিনি অন্যস্থানে অন্য এক রাবী সম্পর্কে লিখেন
رواه أحمد، وفيه علي بن زيد، وفيه ضعف، وبيقة حسن
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ সংকলন করেছেন, উক্ত সনদে “আলী বিন  যিয়াদ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল, তারপরও হাদিসটি হাসান"।
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ ৪/৩২২ ..
আল্লামা ইবনে হাযার হাইসামী এক হাদিস প্রসঙ্গে বলেন,

رواه الطبراني، ورجاله رجال الصحيح غير ابن لهيعة، وهو حسن الحديث
হাদিস টি তাবরানি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের সকল রাবি বিশ্বস্ত, ইবনে লাহিআহ ব্যতীত। তবুও হাদীস টি হাসান।
* ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ-যাওয়াইদ১০/১৫৯ পৃ,হাদিস,১৭২৭২)
তিনি অনুরুপ নিম্নের আরেকটি হাদিস প্রসঙ্গে বলেন,

ما رواه الطبراني وقال: الهباط بالرومية: صاحب الجيش. ورجاله رجال الصحيح غير ابن لهيعة، وهو من الحديث.
-“হাদিসের সমস্ত রাবি বিশ্বস্ত, শুধু ইবনে লাহি'আহ ব্যতিত। তারপরেও হাদিসটি হাসান।" *  মাযমাউদ যাওয়াইদ,১০/১৭০পৃ.হাদিস:১৭৩৪৭
*  মাযমাউদ যাওয়াইদ,১০/১৭০পৃ.হাদিস:১৭৩৪৭
শুধু তাই নয় প্রসিদ্ধ একটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে  বর্ণিত, রাসূল (দ) ইরশাদ করেন

أولى الناس بي يوم القيامة أكثرهم علي صلاة.
-“রাসূল (দ) ইরশাদ করেন : কিয়ামতের ময়দানে আমার সবচেয়ে নিকট থাকবে সেই ব্যক্তি যে আমার প্রতি অধিক দুরূদ শরীফ পাঠ করবে।”
উক্ত হাদীসে পাকটি ইমাম তিরমিযী ইমাম ইবনে হিব্বান (র) বর্ণন করেছেন। উক্ত হাদীসে একজন রাবী ‘মুসাবিন ইয়াকুব জামাঈ আল মাদানী' সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী (র) বলেন, উক্ত রাবী ليس بالقوى শক্তিশালী রাবী নয়।
তারপরও ইমাম তিরমিযী (র) উক্ত হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।তাই প্রমাণিত হলাে একজন রাবী সাধারণত দুর্বল হলে হাদিস 'হাসান' বা গ্রহণযােগ্য।
* ইমাম তিরমিযী : আস সুনান : ১২৪১; হাদিস : ৪৮৪
* ইমাম যাহাবী : মিযানুল ইতিদাল : ২০১কাৰী : ১৪৪০'... -
* আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা ঃ ১৬০ পৃঃ হদিস।

* আল্লামা ইমাম আবলুনী : কাশফুল খাফা : ১২৩১; হাদিস : ৫
সুতরাং তার বক্তব্য দ্বারা বুঝা গেল একজন রাবি দ্বঈফ হওয়াতে হাদিসের স দ্বঈফ হওয়া শর্ত নয় তবে রাবির ব্যাপারে যদি মুহাদ্দিসগন বেশী দুর্বলতার শব্দ । ইঙ্গিত করে যেমন মুনকার, বাতিল, মাতরুক হলে নিশ্চয় দ্বঈফ হবে।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

সাঈদীর সাহেব

প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
https://mobile.facebook.com/HadithShorif11/?v=feed&ref=opera_speed_dial&_rdr
সাঈদীর সাহেবের ভ্রান্ত তাফসির এর স্বরুপ উন্মোচন।বইটি নিরপেক্ষ মনোভাব নিয়ে পড়ুন। বিচারের ভার আপনার হাতে।www.mediafire.com/file/zql0ws5vtcq4so0/Saidir+Bhranto+T
afsir.pdf

Monday, March 18, 2019

হাজির ও নাজির

নবিজী সব দেখতে পান ও শুনতে পান
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
ﺇﻧّﻰ ﺃﺭﻯ ﻣﺎﻻ ﺗﺮﻭﻥَ ﻭﺃﺳﻤﻊُ ﻣﺎﻻ ﺗﺴﻤﻌﻮﻥَ
আমি সেসব কিছু শুনতে পাই যা তোমরা শুনতে পাওনা এবং সেসব কিছু দেখতে পাই যা তোমরা দেখতে পাওনা।
সুত্র:-তিরমিযি -জামেউস সহীহ,আবওয়াবুয যুহুদ ৪/১৪৫,হাদীস ২৩১২;
ইবনে মাজাহ-আস সুনান ৪/৫০৫, কিতাবুয যুহুদ,হাদীস নং ৪১৯০;
মাসনাদু আহমদ৫/১৭৩;
মাসনাদু বাযযার ৯/৩৫৮,হাদীস নং ৩৯২৫;
মুসতাদরাক ২/৫১০, হাদীস নং ৮৬৩৩,৮৭২৬;
বায়হাকী-সুনানে কুবরা ৭/৫২;
আলবানী(নামদারী আহলে হাদীসদের গুরু)-সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহা ৪/২৯৯,হাদীস নং ১৭২২;
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম আরো বলেন -
ﻓﻮ ﺍﻟّﺬﻯ ﻧﻔﺴﻰ ﺑﻴﺪﻩِ ﺍﻧﻰ ﻷﺭﺍﻛﻢ ﻣﻦ ﺧﻠﻔﻰ ﻛﻤﺎ ﺃﺭﺍﻛﻢ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱَّ
যেই মহান সত্তার হাতে আমার প্রান তার শপথ, আমার পিছন থেকে আমি তোমাদেরকে ঠিক সেরকমই দেখতে পাই যেরকম আমার সামনে থেকে দেখতে পাই।
সুত্র:-সুনান নাসাঈ-কিতাবুল ইমামাহ,হাদীস নং ৮১৪;
নাসাঈ-সুনানে কুবরা ১/২৮৮,হাদীস নং ৮৮৭;
মসনাদে আবু ইয়ালা ৬/৪৬,২২৮ হাদীস নং ৩২৯১,৩৫১৪;
অতএব বুঝা গেলো আল্লাহ তাআলা আমাদের নবিকে সব কিছু দেখার ও শুনার ইখতেয়ার দিয়েছেন।
আমরা যায় কিছু মনে মনে বাবি ও আমল করি, সব কিছু দেখতে প্রাণ আল্লাহ ও রাসুল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অলি গণ । (সুরা :- আত্ -তাওবাহ, ১০৫ নং আয়াত)

Friday, March 15, 2019

তীব্র প্রতিবাদ জানাই

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে মুসল্লী হত্যা এবং বাংলাদেশের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও নাস্তিকেরা!
===>মিরাজী।
মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশে যদি কোথাও দাড়ি, টুপি, পান্জাবী পরিহিত ব্যক্তি সামান্য কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী, কাজ করে তবে-
সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে অাসে "জঙ্গী" "মৌলবাদী" "ইসলামীক সন্ত্রাসী"।
যদিও জঙ্গী ও মৌলবাদী শব্দদ্বয়ের অর্থ ভিন্ন। কিন্তু মিডিয়া ব্যবহার করে বিশ্বাসঘাতকের প্রতিরূপ মীরজাফর এরকম ভিন্নার্থে!
অালোচ্য বিষয়ে অাসি-
বাংলাদেশের এ পর্যন্ত যতোগুলো মিডিয়ায় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে " জঙ্গী হামলা, ইহুদি - নাসারা সন্ত্রাসী হামলা" র খবর প্রকাশিত হয়েছে তাতে কোথাও জঙ্গী হামলা বা ইহুদি - নাসারা সন্ত্রাসী হামলা" লেখা হয়নি, বলা হয়নি!
হয়েছে কি?
সন্ত্রাসী হামলা
বিচ্ছিন্ন ঘটনা
অপ্রীতিকর হামলা
মৌলিক বিষয় চাপাদেয়া চাপাবাজি মিডিয়াবাজ মৌলবাদীরা এমনই....
কোথাও লিখেনি, বলেলি ইহুদি - নাসারা জঙ্গী, ইহুদি - নাসারা মৌলবাদী।
অথচ-
মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশে হলে বা কোনো মুসলিম হামলা করলে-
ইসলাম, মুসলিম, জঙ্গী, মৌলবাদী নিয়ে অাসবেই।
সেখানে-
সন্ত্রাসী হামলা
বিচ্ছিন্ন ঘটনা
অপ্রীতিকর এমন কোনো শব্দই ব্যবহার করে না!
মিডিয়ার মতো
বুদ্ধিজীবী
নাস্তিকরাও চুপ!
তারা এতো বড় ঘটনায় অন্য সময়ের সামান্য ইস্যুর মতো বিষয় নিয়ে ঠকশো, ব্লালে, সারাগিদে যেভাবে সরব থাকে এখন চুপ!
এতে স্পষ্ট তারা ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী নিজ নিজ স্বার্থেই।
সত্যানুসন্ধানী হলে সকল ক্ষেত্রেই সমাচরণ করতো!
অাল্লাহ রব্বুল অালামীন তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসিলায় নিউজিল্যান্ডের সকল শহীদের জান্নাতের উচ্চ মকাম দান করুক। অামিন।

Friday, March 8, 2019

দ্বইফ হাদীস কে অবহেলা করার পরিণতি

দ্বঈফ সনদের হাদিসকে অবহেলা করার পরিণতি
নবীর হাদিসকে দ্বঈফ হাদিস বললে ঈমান থাকবে না,হা, তবে রাবির কারনে সনদ সহিহ,হাসান, দ্বঈফ হতে পারে। তাই বলতে হবে সনদ দ্বঈফ হাদিস নয় । বর্তমান আহলে হাদিসগন দ্বঈফ সনদের হাদিসকে হাদিস হিসেবে মানতেই রাজি নয়,অথচ দ্বঈফও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর হাদিস। তবে রাবি শক্তিশালী,দুর্বল হওয়া নিয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে। তাই দ্বঈফ সনদকে হাদিস নয় বলা যাবে না। আর আমি নিম্মে দ্বঈফ সনদকে অবহেলার শাস্তির কিছু ঘটনা উল্লেখ করলাম।

এক হাদীসে বর্ণিত আছে,
من احتجم يوم الأربعاء ويوم السبت فاصابه برص فلايلو من الا نفسه.
-“যে ব্যক্তি বুধবার কিংবা শনিবার নিজ শরীরে শিঙ্গা প্রয়ােগ করে দুষিত রক্ত অপসারণ করবে, তার শরীরে কুষ্ট রােগ (সাদা রােগ) হবে। আর সে তখন নিজেকেই দোষারােপ করবে। তা একজন বিজ্ঞব্যক্তি, যার নাম মুহাম্মদ ইবনে জাফর নিশাপুরী তার শিঙ্গা প্রয়ােগের প্রয়ােজন হয়েছিল। সেদিন ছিল বুধবার। তিনি মনে করেছিলেন যেহেতু উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ পর্যায়ের নয় সেহেতু শিঙ্গা প্রয়ােগে কোন দোষ নেই। . ওই দিন তিনি স্বীয় দূষিত রক্ত অপসারণের কাজ সম্পন্ন করলেন কিন্তু এর সাথে সাথে কুষ্ট রােগ তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ল যখন রাতে ঘুমালেন তখন স্বপ্নযােগে হুযুর করীম (দ) দীদার লাভ করলেন। আর তিনি তার নিকট রােগের ব্যাপারে আর করলেন, তখন হুযুর (দ) ইরশাদ করলেন,اياك و الا هانة بحديثى অর্থাৎ সাবধান! আমার হাদিসকে হালকা (তুচ্ছ) মনে করবে না। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (দ) আমি তওবা করে নিচ্ছি এরপর জেগে ওঠে দেখেন তিনি সুস্থ হয়ে। গেছেন। ইমাম ইবনে আসাকির (র) বর্ণনা করেন, হায় !
, وأخرج ابن عساكر في تاريخه من طريق أبي علي مهران بن هرون الحافظ الهازي قال سمعت أبا معين الحسين بن الحسن الطبري يقول: ارنت الحجامة يوم السبت فقلت للغلام: ادع لي الحجام فلما ولى الغلام ذكرت خبر النبي: من احتجم يوم السبت ويوم الأربعاء فأصابه وضح فلا يلومن إلا نفسه
قال: فدعوت الغلام ثم تفكرت ققات هذا حديث في إسناده بعض الضعف فقلت للغلام ادع الحجام لي فدعاه فاحتجت فأصابني البرص فرانت رسول الله في النوم فشكوت إليه
حالي قتال إياك والاستهانة بحديثي ونذرت لله نذرا لين أذهب الله ما بي من البرص لم اتهاون في خبر النبي صحيحا كان أو سقيما فاذهب الله عني ذلك البرص
-“ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) হাফিস রাযী আলী ইবনে মিহরান ইবনে হারুন থেকে স্বীয় ‘তারিখে দামেস্ক' এ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আবু মুঈন হুসাইন ইবনে হাসান তাবরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- আমি একবার শনিবার শিঙ্গা লাগাতে মনস্থ করেছি। সুতরাং আমি আমার ক্রীতদাস হাজ্জাম (ক্ষৌরকার) কে শিঙ্গা লাগানাের জন্য ডাকতে নির্দেশ দিলাম। ক্রীতদাস তাকে ডাকতে চলে যাবার পর আমার মনে পড়ল। নবী করীম (দ) ওই হাদিস, যাতে শনিবার এবং বুধবার শিঙ্গা লাগালে শ্বেত রােগ হবে বলে বর্ণিত হয়েছে। তারপর কিছু চিন্তা ভাবনা করে বললাম, এ হাদীসের সনদে মধ্যে তাে কিছু দুর্বলতা আছে। শেষ পর্যন্ত আমি শিঙ্গা প্রয়ােগ করলাম। ফলে আমার শ্বেত রােগ হয়ে গেল। অতঃপর স্বপ্নযােগে নবী করীম (দঃ) এর সাথে স্বপ্নে সাক্ষাত হল। তখন আমি স্বীয় অবস্থা সম্পর্কে হুযুর (দঃ) এর মহান দরবারে ফরিয়াদ করলাম। তিনি ইরশাদ করেন,সাবধান! আমার হাদিসকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না অতঃপর আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মানত করলাম, আল্লাহ পাক যদি আমার শ্বেত রােগ থেকে মুক্তি দেন, তবে আমি আর কখনাে নবী করিম (দ) এর হাদিসকে তুচ্ছ জ্ঞান করব না, ওই হাদিস সনদ অনুযায়ী সহিহ (বিশুদ্ধ) হােক কিংবা দ্বঈফ (দুর্বল) হােক। সুতরাং আল্লাহ পাক আমার শ্বেত রােগ থেকে মুক্তি দান করলেন।
* ইমাম ইবনে আসাকিরঃ তারিখে দামেস্ক, ১৭৫ পৃ
এভাবে আল্লামা শিহাবুউদ্দীন খিফাযি হানাফী (র) এর রচিত “নাসিমুর রিয়াদ্ব শরহে শিফা” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে,

قص الأظفار وتقليمها سنة وورد النهي عنه في يوم الأربعاء وانه يورث البرص وحكي عن بعض العلماء أنه فعله فنهی عنه فقال لم يثبت هذا فلحقه البرص من ساعته فرای النبی صلی الله عليه وسلم في منامه فشكى اليه فقال له الم تسمع نهی عنه فقال لم يصح عندي فقال صلى الله عليه وسلم يكفيك انه يسمع ثم مسح بدنه بيده الشريعة فذهب ما به فتاب عن مخالفة ما سمع كذا نسيم الريض شرح الشفا: القسم الأول في تعظيم العلى الا على القدر النبي صلى الله عليه وسلم۔
-“নখ কাটা বা ছেড়ে ফেলা সুন্নাত। তবে বুধবার এটা সম্পর্কে নিষেধ বলে বর্ণিত আছে এবং এটাও যে, এতে শ্বেত রােগ হয়। জনৈক আলিম সম্পর্কে কথিত আছে যে, তিনি বুধবার নখ কেটেছেন। উপস্থিত লােকেরা তাকে (হাদীসের ভিত্তিতে নিষেধ হওয়ার কারণে) নিষেধ করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, হাদিসটি সহিহ নয়তখনই তার শ্বেত রােগ ছড়িয়ে পড়ল ।একদা তিনি হুযুর (দ) কে স্বপ্নে দেখছেন এবং তার নিকট স্বীয় রােগ সম্পর্কে আবেদন করলেন। হুযুর করীম (দঃ) তার উত্তরে ইরশাদ করলেন, তুমি কি শােননি যে সেটা নিষিদ্ধ ? আরয করলেন, হাদিস সহিহ হিসেবে আমার কাছে পৌছেনি তখন ইরশাদ হল, তােমার জন্য তাে এতট যথেষ্ট ছিল যে, হাদিসটি আমারই নামে উদ্ভূত হয়ে তােমার কানে পৌঁছেছে। এটা ইরশাদ করার পর হুযুর (দ) স্বীয় পবিত্র হাত তার শরীরে বুলিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন এবং হাদিস শরীফ শুনে আর বিরােধ পােষণ করবেন না মনে তাওবা করে নিলেন।
* খিফ্ফাযী, নাসীমুর রিয়াষ শরহে শিফা, পৃ- ১১২০
উলামায়ে কেরামের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আওলিয়ায়ে কেরামের কাশফ দ্বারা দ্বইফ বা দুর্বল হাদিস ও মজবুত হাদিস হিসেবে পরিগণিত হয়। হযরত শায়খ
উলামায়ে কেরামের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আওলিয়ায়ে কেরামের কাশফ দ্বারা দ্বইফ বা দুর্বল হাদিস ও মজবুত হাদিস হিসেবে পরিগণিত হয়। হযরত শায়খ মুহিউদ্দিন ইবনে আরাবী (দ) একটি হাদিস শুনে ছিলেন যে, যে ব্যক্তি ৭০০০ বার কালেমা তায়্যেবাহ পড়বে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। একদা একজন কাশফের অধিকারী যুবক বললেন, আমার মৃত মাকে স্বপ্নে জাহান্নামে দেখতেছি। তা শুনে হযরত শায়খ মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবী (র) ইতিপূর্বে যে সত্তর হাজার বার কালেমায়ে তাইয়্যেবাহ পড়ে ছিলেন সেগুলাে সাওয়াব মনে মনে ঐ যুবকের মায়ের জন্য বখশিশ করে দেওয়া মাত্রই যুবক হেঁসে দিলেন এবং বললেন, এখন আমার মাকে জান্নাতে স্বপ্নে দেখছি। শায়খ মুহিউদ্দীন (র) বলেন, আমি এ হাদিসখানার বিশুদ্ধতা উক্ত যুবক (ওলীর) কাশফের দ্বারা জানতে পারলাম। উক্ত ঘটনাটি মাজমাউল বিহারে আল্লামা তাহের হানাফী (র) বর্ণনা করেছে এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবী তাহজিরুন্নাস' গ্রন্থে ঘটনাটি হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (র)'র সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
* জা'আল হক, বাংলা,৩/১০ পৃ.মুহাম্মাদী কুতুবখানা
ইমাম তিরমিযী (র) অনেক হাদীসে বলেছেন,

-“এই হাদিসটি হাসান, সহিহ গরীবও বটে। (সুনানে তিরমিযী, ১/১২৮পৃ. হাদিস :৭২, ও ১/২৬২পৃ. হাদিস : ১৯০ এবং ১/৫৫৪পৃ. হাদিস : ৪২৮) ইমাম তিরমিযী বক্তব্যের মর্ম হলাে, এই হাদিসখানা কয়েক রকম সনদের দ্বারা বর্ণিত। এক সনদে দ্বারা হাসান আবার এক সনদ দ্বারা সহিহ আবার এক সনদ দ্বারা গরীব বা দুর্বল। তাই শুধু গরীব দুর্বল নিয়ে বসে থাকা যাবে না। দ্বঈফ সনদের হাদিসের অবহেলাকারীদের শাস্তির ব্যাপারে আলা হযরত (রহ.) এর খলিফা আল্লামা
ইমাম তিরমিযী বক্তব্যের মর্ম হলাে, এই হাদিসখানা কয়েক রকম সনদের দ্বারা বর্ণিত। এক সনদে দ্বারা হাসান আবার এক সনদ দ্বারা সহিহ আবার এক সনদ দ্বারা গরীব বা দুর্বল। তাই শুধু গরীব দুর্বল নিয়ে বসে থাকা যাবে না। দ্বঈফ সনদের হাদিসের অবহেলাকারীদের শাস্তির ব্যাপারে আলা হযরত (রহ.) এর খলিফা আল্লামা ফারুদ্দীন বিহারী (রহ.) রচিত 'সহিহুল বিহারী' প্রথম খন্ড বিষদ আকারে দেখতে পারেন।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
----মুফতী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Wednesday, March 6, 2019

দূর্বল হাদীস একাধিক সূত্র হলে হাসান হয়ে যায়

দুর্বল হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে হাসান-এ পৌঁছে যায়
ইলমে হাদিসের এ নীতিমালাটি এখানে এ জন্য উল্লেখ করলাম বর্তমান আহলে হাদিসগন দ্বঈফ সনদের হাদিস একাধিক সনদে বর্ণিত হলেও সেটি নাকি দ্বঈফই থাকবে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে আবার পুরাে উল্টো। নিজেদের স্ব পক্ষে কোন অত্যন্ত দুর্বল হাদিস থাকলেও তাকে হাসান বলতে একটু দ্বিধাবােধ করেন না। এ উসূলে হাদিসের এ নীতিমালাটি বিভিন্ন হাদিস সম্পর্কে আলােকপাতকালে অনেক প্রয়ােজন পড়বে তাই বারবার যাতে উল্লেখ করতে না হয় সেজন্য এখানে তা উল্লেখ করলাম। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু মুহাদ্দিস ও ফকিহগনের মতামত নিম্নে উল্লেখ করলাম
দলীল নং-১

আল্লামা মােল্লা আলী কারী (র) (৯৩০-১০২৪ হিঃ)বলেন,
وتعد الطرق يبلغ الحديث الضعيف إلى حد الحسن،
“দ্বঈফ হাদিসও একাধিক সনদে বর্ণিত হলে “হাসান” হাদিস এর পর্যায়ে পৌছে"
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী, মিরকাত : ৩৭৭, হাদিস : ১০০৮
দলীল নং- ২
আল্লামা মােল্লা আলী কারী (৯৩০-১০১৪) রহঃ
অন্য স্থানে বলেন,


وتعد الطرق ولو ضفت يرقي الحديث إلى الحسن
-“একাধিক সনদে যদিও দ্বঈফ হাদিস বর্ণিত হয় তবে বর্ণিত ঐ হাদিস “হাসান” বলে গণ্য হবে বা উপনীত হবে।”
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : আসারুল মারফূ আঃ পৃ-৪৮১
দলীল নং- ৩
আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম (৮৬১) রহঃ বলেন,

ولو تم تضعیف كلها كانت حسنة إتعدد الطرق وكثرتها..
-“হাদীসের সমস্ত রাবী দুর্বল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত। ওয়ার কারণে তা ‘হাসানে পরিণত হয়ে যায়।"

* আল্লামা ইমাম ইবনে হুমাম : ফতহুল কাদির : ১৩০৬ পৃ
দলীল নং- ৪
আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম (৮৬১) রহঃ বলেন,

جاز في الحسن أن يرتفع إلى الصحة إذا كثرت طرقه، والضعيف يصير حجة بذلك لأن تعدده قريئة على ثبوته في نفس الأمر
-“যখন হাসান হাদিস অনেক সনদ দ্বারা বর্ণিত হয়, তখন তা সহিহ পর্যন্ত উন্নীত করা জায়েজ আছে, এবং দুর্বল সনদের হাদিস এই পদ্ধতিতে (একাধিক তরিকায়। বর্ণনায়) দলীল হওয়ার যােগ্যতা অর্জন করে। যখন বিভিন্ন সনদে হাদিস বর্ণিত হয়, তা দৃঢ় দলীল হওয়ার ও আদেশ প্রয়ােগের যােগ্যতা রাখে।
* আল্লামা ইমাম ইবনে হুমাম ফতহুল কাদির, ১৪৪৬
ফতহুল কাদির, ১৪৪৬ পৃ
দলীল নং-
আল্লামা ইমাম শা'রানী (৮২৫-৮৯২) রহঃ বলেন,

قد احتج جمهور المحدثين بالحديث الضعيف اذا كثرت طرقه واحقوه بالصحيح تارة وبالحسن أخرى. وهذا النوع من الضعيف يوجد كثيرا في كتاب السنن الكبرى للبيهقي التي الفها بقصد الاحتجاج لاقوال الأئمة واقوال صحابهم
“নিঃসন্দেহে জমহুর মুহাদ্দিসীনগণ দুর্বল হাদিসকে অধিক সনদে বর্ণিত হওয়ায় কারণে দলীল হওয়ার যােগ্যতা রূপে মেনে নিয়েছেন এবং সেটিকে কোন সময় সহিত আবার কোন সময় 'হাসান'র সহিত মিলিয়েছেন। এই প্রকারের দুর্বল হাদিস সময় ইমাম বায়হাকীর 'সুনানে কোবরা' মধ্যে অধিক পাওয়া যায়, যাকে ইমাম মুজতাহিদীন। এবং আসহাবে আইয়াম্মা দলীল হিসেবে গ্রহণের জন্য ইচ্ছাপােষন করেন।”
* আল্লামা ইমাম শারানী, মিযানুল কোবরা, ১/৬৮ পৃ.
দলীল নং- ৬
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি (৮৪৯-৯১১) রহঃ বলেন,

المتروك او المنكر اذا تعددت طرقه ارتقي الى درجة الضعيف لغريب بل ربما ارتقى الى الحسن
-“মাতরুক ও মুনকার হাদিস বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে দ্বঈফ হাদীসের মর্যাদায় উপনীত হয়। আবার কখনাে হাদীসে “হাসানের মর্যাদায় উপনীত হয়ে থাকে।”
* আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি : তাআকিবাত আলা মওজুত : ৭৫ পৃ. : কিতাবুল মানাকিব :
দলীল নং- ৭
আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী (১৩১১-১৩৯৪)বলেন,

والحديث الضعيف اذا تعددت طرقه ولو طريقا واحدا اخر ارتقى بمجموع ذالك الى درجة الحسن وكان محتجا به
-“ঘঈফ হাদিস একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে, যদিও তা এক সনদে বর্ণিত ছিল, তা সমষ্টিগত ভাবে হাসানের দরজায় উন্নীত হয় এবং এটি দলীল হিসেবে প্রয়ােগ করা যায়।
* আল্লামা জাফর আহমদ ওসমানী : কাওয়াইদুল উলুমুল হাদিস- ৭৮ পৃ..
দলীল নং-৮
আল্লামা আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫৮-১০৫২) রহঃ বলেন,

والضعيف آن تعددت طرقه وانجبر ضعفه يسمی حسنا لغيره
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয় এবং তার দুর্বলতা দূরীভূত হয়, তাহলে তাকে “হাসান লিগাইরিহি” নামে নামকরণ করা হয়।”
* আল্লামা শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী : মুকাদ্দামাতুশ শায়খঃ প ১০
দলীল নং-৯
আল্লামা মুফতী আমিমুল ইহসান (১৩২৯-১৩৯৫) রহঃ বলেন,

الضعيف ان تعددت طرقه أو تأيد بما يرجح قويه فهو حسن لغيره
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, গ্রহণীয় হওয়ার প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী হয়, তবে তা হাসান লিগাইরিহী হয়ে যাবে।”
* মুফতি আমিনুল ইহসান : মিযানুল আখবারঃ ৭পৃ.
দলীল নং-১০
আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫৮-১০৫২) রহঃ বলেন :

الضعيف الذي بلغ بتعدد الطرق مرتبة الحسن لغيره ايضا مجمع وما اشتهر
-“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার দরুন “হাসান লিগাইরিহী” হওয়ার মর্যাদায় উপনীত হয়, তা দলীল হওয়া সম্পর্কে আলিমগণ একমত হয়েছেন।"
* আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী : মুকাদ্দামতুশ শায়খ,-২৫ পৃ
দলীল নং-১১ আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (৭৬২-৮৫৫) রহঃ বলেন :
আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (৭৬২-৮৫৫) রহঃ বলেন :

وإذا قوي الضعيف بطری اخر او اسانيد اخر حاد حسن لغيره
-“যখন দ্বঈফ হাদিস অন্য কোন সনদ বা বর্ণনা দ্বারা শক্তিশালী হয় অর্থাৎ দুর্বলতা দূর হয়ে যায়, তখন তা হাসান লিগাইরিহী রূপে গৃহিত হবে। "
* আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী : উমদাদুল কারী শরহে বুখারী : ১৯ পৃ
দলীল নং- ১২
দুররুল মুখতার গ্রন্থের প্রথম খন্ড مستحبات الوضوء শীর্ষক অধ্যায়ে ওযুর বিভিন্ন অংশের দু'আ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে,
وقد رواه ابن حبان وغيره عنه عليه السلام من طرف
-“এ হাদিসটি ইমাম ইবনে হিব্বানর প্রমুখের কয়েকটি সনদ দ্বারা মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।”
উক্ত রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (১২৫২) রহঃ বলেন :
أي يقوي بغضها بغضا فارتقى إلى مرتبة الحسن -
-“কতেক সনদ কতেক সনদকে শক্তি জোগায়। তাই এ হাদিস “হাসান” পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”
* আল্লামা ইমাম ইবনে আবেদীন শামী: ফতােয়ায়ে শামী : ১/৪২৮
তাই প্রমাণিত হলাে যে, দ্বঈফ হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে তা আর দ্বঈফ থাকে না বরং হাসান হাদিস হয়ে যায়।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর