Monday, April 29, 2019

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরূদ শুনেন এবং দরূদ পাঠকারীকে চিনেন ?

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরূদ শুনেন এবং দরূদ পাঠকারীকে চিনেন ?

হাদিস প্রসঙ্গ“হাদীসের নামে জালিয়াতি" বইয়ের ২৮৭ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভীর মন্তব্য ব্যক্ত করে দাবী করেছেন যে, রাসূল (দ) দরূদ সালাম শুনতে পান না।
“হাদীসের নামে জালিয়াতি" বইয়ের ২৮৭ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভীর মন্তব্য ব্যক্ত করে দাবী করেছেন যে, রাসূল (দ) দরূদ সালাম শুনতে পান না।

সে আর কোন গ্রহণযােগ্য দলীল উপস্থাপন করতে পারেনি এবং কিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। ইনশাআল্লাহ!উক্ত বইয়ে আব্দুল হাই লাখনৌভীর বক্তব্যটি হলাে প্রচলিত যে সকল বানােওয়াট ও মিথ্যা কথা রাসূল (দ) এর নামে বলা হয় তার মধ্যে রয়েছে যদি কেউ রাসূল (দ) এর উপর দরূদ পাঠ করে, তবে সেই ব্যক্তি যত দূরেই থাক, তিনি কারাে মাধ্যম ছাড়াই তা শুনতে পান।
উক্ত বইয়ে আব্দুল হাই লাখনৌভীর বক্তব্যটি হলাে প্রচলিত যে সকল বানােওয়াট ও মিথ্যা কথা রাসূল (দ) এর নামে বলা হয় তার মধ্যে রয়েছে যদি কেউ রাসূল (দ) এর উপর দরূদ পাঠ করে, তবে সেই ব্যক্তি যত দূরেই থাক, তিনি কারাে মাধ্যম ছাড়াই তা শুনতে পান।

সাবাস! সাবাস!! আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে, যে আব্দুল হাই লাখনৌভীর কথা শুনে কোন প্রমাণ ছাড়াই হাদিসকে (বা কোন বিষয়কে) জাল, বানােয়াট বা মিথ্যা বলতে দুঃসাহস করছে । তাই বেশি কিছু না বলে আমি তার জবাবে দলীল উপস্থাপন করতে চাই। যাতে সাধারণ মুসলমানগণ সহজেই বুঝতে পারেন, কার বক্তব্য সঠিক আমাদের কান আর রাসূল (দ) এর কান মােবারককে তারা এক মনে করছেন যা সম্পূর্ণ কুফুরী ও রাসূল (দ) এর শানে বেয়াদবীরই অন্তর্ভুক্ত এবং তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুজিজা অস্বীকার করারই নামান্তর। রাসূল (দ) এর কান মােবারক কারও কানের মত নয়, তা নবী করীম (দ) নিজেই বলছেন।যেমন হাদীসে পাকে বর্ণিত আছে
দলীল নং-১-১৪
হযরত আবু যার আল গিফারী (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে যে,

عن أبي ذر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إني ارى مالا ترون، واسمع ما لا تسمعون، إن السماء أطت، وحق لها أن تئط، ما فيها موضع اربع أصابع إلا وملك واضع جبهته ساجدا لله، .
“রাসূল (দঃ) ইরশাদ ফরমান, আমি এমন কিছু দেখি, যা তােমরা দেখনা এমন কিছু শুনি, যা তােমরা শুনাে না। আকাশ বােঝার কারণে “চড় চড়” করে, (তাও শুনি) তার ‘চড় চড়' করাই সঙ্গত, কেননা, আকাশে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা নেই, যেখানে কোন একজন ফেরেস্তা আল্লাহর সামনে মাথা নত করে রাখেনি।”
উক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা গেল, রাসূল (দ) ফেরেস্তাদের দাঁড়ানাে এবং তাদে ওজনে আকাশ থেকে আসার শব্দ শুনেছেন এবং দেখেছেন তারা কীভাবে দাড়িয়ে আছেন। অথচ সাহাবীদের কাছে তা সম্পূর্ণ অদৃশ্যই ছিল।
(ক) ইমাম তিরমিযী: আস সুনান: কিতাবুদ যুহুদ : ৪/১৩৪পৃ. হাদিস- ২৩১২ (খ) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলঃ আল মুসনাদঃ ৫/১৭৩পৃ. (গ) ইমাম ইবনে মাজাহঃ আস্-সুনান: কিতাবুদ যুহুদ ২/১৪০২পৃ. হাদিসঃ ৪১৯০ (ঘ) ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানি : হুলিয়াতুল আউলিয়া :২/২৩৬পৃ. (৩) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতিঃ খাসায়েসুল কোবরা: ১/১১৮পৃ. হাদিস- ৩০৬ (চ) আবু নসার মারওয়াযী,তাজিমে কদ্বরুল সলাত,১/২৫৯পৃ.হাদিস,২৫১ (ছ) বার,আল-মুসনাদ,৯/৩৫৭পৃ.হাদিস,৩৯২৫ (জ) ইবনে শায়খ ইস্পাহনী,আল-আজিমাত,৩৯৮২পৃ.হাদিস,৫০৭ (ঝ) হাকিম নিশাপুরী,আল-মুস্তাদরাক,৪/৬২৩পৃ.হাদিস,৮৭২৬ (ঞ) হাকিম নিশাপুরী,আল-মুস্তাদরাক,২৫৫৪পৃ.হাদিস,৩৮৮৩ (ট) বায়হাকী,শুয়াবুল ঈমান,২২৬-হাদিস,৭৬৪ (ঠ) বায়হাকী,আস্-সুনানিল কোবরা,৭৮৩-হাদিস,১৩৩৩৭ (ড) গভী,শরহে সুন্নাহ,১৪/৩৭০পৃ.হাদিস,৪১৭২। (ঢ) আলবানী: সিলসিলাতুস সহীহাহু: হাদিস- ১৭২২, তিনি বলেন, হাদিসটি সহীহ।
দলীল ১৫-২১

وابن عساكر التاريخيهما، عن العباس بن عبد المطلب قال: قلت: يا رسول دعانى الی الدخول في دينك أمارة لبيوتك، رأيتك في المهد ثناغي القمر وتشير إليه بأصبعك فحيث أشرت إليه مال قال: «إني كنت أحدثه ويحدثني، ويلهيني عن البكاء، و أسمع وجبته حين يسجد تحت العرش» ----- قال البيهقي تفرد به احمد بن ابراهيم الجبلي وهو مجهول وقال الصابوني : هذا حديث غريب الاسناد والمتن فى المعجزات حسن .
-"ইমাম বায়হাকী, দালায়েলুল নবুওয়াতে, সাবুনী তাঁর মাতীন গ্রন্থে, খতিব বাগদাদী তারীখে বাগদাদে এবং ইমাম ইবনে আসাকির তারীখে দামেস্কে :-হযরত আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল (দ) কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ
হযরত আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল (দ) কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ(দ) আমি আপনার নবুয়তের এ আলামত দেখে ঈমান এনেছি যে, তা হল আপনি চাঁদের সাথে শিশু অবস্থায় বাক্যলাপ করেছিলেন এবং তার দিকে আঙ্গুলে ইশারা করছিলেন, আপনি যেদিকে ইশারা করতেন, চাঁদ সেদিকেই হেলে যেত। রাসূলুল্লাহ (দ) বললেন, আমি তখন চাঁদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং চাঁদ আমার সাথে কথা বলছিল। সে আমার ক্রন্দনে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। আর চন্দ্র যখন আল্লাহর আরশের নীচে সেজদা করে, তখনও আমি তার তাসবীহ শুনতে পাই।”ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, এই হাদিসটি ‘আহমদ ইবনে ইব্রাহীম জাবালী একাই বর্ণনা করেছেন। সে একজন অজ্ঞাত রাবী। আল্লামা ছাবুনী (এ) বলেন, এ হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে গরীব আর মুজেজার ব্যাপারে মতনটি হাসান বা সুন্দর। উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হল আরশের নিচের সিজদার তাসবীহের আওয়াজও নবিজী(দ) শুনতেন শিশু অবস্থায়ই। তাহলে এখনকার অবস্থা কী হবে?

(ক) আবু স'দ, শরফে মােস্তফা,১/৫৮পৃ (খ)যুরকানী,শরহুল মাওয়াহেব,১/২৭৫পৃ. (গ)বুরহানুদ্দীন হালবী, সিরাতে হালবিয়্যাহ,১১১৫,(ঘ) ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ,১/৩৪৯পৃ. ১০/৪৮১,(ঙ) ইবনে কাসীর, বেদায়া ওয়ান নিহায়া,১২১১(চ)বায়হাকী, দালায়েলুল নবুয়ত,২৪১ (ছ)ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি : খাসায়েসুল কোবরা ১০
দলীল নং- ২২-৩৭
প্রসিদ্ধ একটি হাদিস হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত,

عن أبي هريرة، أن رسول اللہ صلی الله عليه وسلم قال: «ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتی ارد عليه السلام»
-“রাসূলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান, যখন কোন উম্মত আমার প্রতি সালাম প্রদান করে, আমার রূহ মােবারককে আল্লাহ তায়ালা (যেহেতু অতীতে) আমার নিকট দিয়েছেন যে, আমি তাদের প্রদানকৃত সালামের জওয়াব দেই।”
ক. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ : ২৫২৭ পূ, হাদিস নং : ১০৮৬৭ খ, ইমাম তাবরানী : মুজামুল আওসাত : ৩/২৬২ পৃ. : হাদিস : ৩০৯২ এবং ৯৩২৩ গ, বায়হাকীঃসুনানে কোবরাঃ ৫/২৪৫ পৃ.হাদিসঃ ১০০৫০ ঘ, দাওয়াতুল কাবীর, ১২৬১, হাদিস,১৭৮ ঙ, ইমাম বায়হাকীঃ শুয়াবুল ঈমান : ৬/৫২পৃ.হাদিস : ৫১৮১ এবং ৪১৬১
. ইমাম মানাৰী : ফয়জুল কাদীর : ৫/৪৬৭ পৃ. ছ, ইমাম মুনযির : আত্-তারগীব ওয়াতৃ-তারহীব : ২/৩৬২ পৃ: হাদিস : ২৫৭৩
জ,ইমাম ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ । ১০/১৬২ পৃ ঝ, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : আল হাজীলী ফাওয়া : ১/২০০ পৃ. ঞ, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : হুসনুল মাকাসিদ ফি আমালিল মওলুদ। ৭-৮ পৃ. ট. আল্লামা ইমাম সাখাভী : কওকূল বদী : ১৪২ পৃ. ঠ, আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানাঃ ৪২৭ পৃ. হাদিস- ৯৮২ ড, আল্লামা আলুনী: কাশফুল খাফা: ২১৭৩, হাদিস- ২২৪৫ ঢ. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি: আদদুররুল মানছুর: ১/২৩৭ পৃ.. ণ.আবু দাউদ,আস-সুনান,২২১৮পৃ.হাদিস,২০৪১, তার,আলবানী এ গ্রন্থের তাহকীকে বলেন সনদটি হাসান।ত,ইমাম রাহবিয়্যাহ,আস্-সুনান,১/৪৫৩পৃ.হাদিস,৫২৬.
উক্ত হাদীসে দরূদ শরীফে সালাম ফিরিশতারা রাসূল (দ) এর নিকট পৌঁছে দেন- উল্লেখ নেই, বরং রাসূল (দ) পৌছানাে ছাড়া নিজেই শুনেন এবং তার জবাব দেন।
ইমাম সাখাভী (র) ও আল্লামা আযলুনী (র) বলেন,
رواه أحمد و أبو

عن ابي هريرة رفعه وهو صحيح
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ ও ইমাম আবু দাউদ হযরত আবু হুরায়রা হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদিসটির সনদ সহিহ বা বিশুদ্ধ।”
ক. আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা: ৪২৭ পৃ. হাদিস : ৯৮২ , খ. আল্লামা আযিলুনীঃ কাশফুল খাফা: ১৭৩, হাদিস : ২২৪৫ গ. ইমাম বুরকানী,১২২০২ পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ,বয়রুত।
দলীল নং- ৩৮-৩৯

হযরত আবু দারদা (রা) বলেন, হুযুর (দ) ইরশাদ ফরমান,
قال الطبراني حدثنا يحيى بن أيوب العلاف حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا يحيى بن أيوب عن خالد بن يزيد عن سعيد بن أبي هلال عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اکثروا الصلاة علي يوم الجمعة فإنه يوم مشهود تشهده الملائكة ليس من عبد يصلي على إلا بلغني صوته حيث كان قلنا وبعد وفاتك قال وبعد وفاتي إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء -
আমরা জুমার দিন আমার উপর অধিক হারে দরুদ পাঠ করাে, কেননা এ দিবসে ফিরেশতাগন তার (দরুদের) সাক্ষ্য দেবেন। যে কোন ব্যক্তি আমার উপর দুরুদ পাঠ করে তার আওয়াজ আমার নিকট পৌছে থাকে সে যেখানেই থাকুন না কেন। সাহাবীগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ)! আপনার ওফাতের পরও কি)? ইরশাদ ফরমান, আমার ওফাতের পরও (নবীগণ স্বীয় কবরেও জিন্দা)। আল্লাহ তায়ালা নবীদের শরীর স্পর্ষ করা যমীনের প্রতি হারাম করে দিয়েছেন।
দেখুন, ইবনে কাইয়ুম (ওফাত.৭৫১হি.) হলাে আহলে হাদিস ও দেওবন্দীদের ক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মুহাদ্দিস। তিনিই হাদিস সংকলন করেন যে, দরূদই টপ ট পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পান, দেওবন্দীদের ও আহলে হাদিসদের গুরু ইবনে কাইয়ুম-এর উক্ত বর্ণিত হাদিস থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরােধ রইল।
দলীল নং- ৪০-৫০
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الله رفع لي الدنيا فانا انظر إليها وإلى ما هو كائن فيها إلى يوم القيامة كما انظر إلى كفي هذه، -
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (র) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার জন্য বিশ্বকে তুলে ধরেছেন। তখন আমি এ দুনিয়া এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, এমনভাবে দেখতে পাচ্ছি, যেভাবে আমি আমার নিজ এই হাত দেখতে পাচ্ছি। এ হাদিস থেকে প্রমানিত হলাে রাসূল (দ.)। শুধু আমাদের দরুদ শুনেন তা নয়, বরং তিনি আমাদের দেখতে পান।
ক, ইমাম তাবরানী: মুজামুল কবীর: ২৪১২পু, হাদিস নং-১০৮৯
, ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানি : হলিয়াতুল আউলিয়া : ৬/১০১ পৃ. তরজুমা নং- ৩৩৮ ", গ,ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়তীয় খাসায়েসুল কোবরাঃ ২১৯৩ : হাদিস : ২১১৭ ঘ. ইমাম সুয়ূতি: জামেউল জাওয়ামী : হাদিস নং- ৪৮৪৯ ঙ. ইমাম যুরকানীঃ শরহুল মাওয়াহেঃ ৭/২০৪ পূ. চ, আল্লামা ইমাম কুয়ালানীঃ মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ ৩৯৫ পু. দারুল কুতুৰ হসলামিয়্যাহ ৰয়।
ছ,মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী: জা'আল হক: ১/১০৩ পূ. (বাংলা সংস্করন),জ, আহলে হাদিস নাসির উদ্দিন আলবানী ঈছু জামে : হাদিস : ১৬২৪
জ, আহলে হাদিস নাসির উদ্দিন আলবানী ঈছু জামে : হাদিস : ১৬২৪ ঝ,মুত্তাকী হিন্দী,কানযুল উম্মাল,১১৪২০হাদিস,৩১৯৭১ ঞ,ইমাম মুনযিরী,তারগীব ওয়াতারহীব,/২১১. ট,হাইসামী,মাযমাউদ,মাযমাউয যাওয়াইদ,৮/২৯০,ঠ, ইমাম আহমদ: মুসনাদে আহমদ: হাদীস ৬৬৬৬
সূত্র:- প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Wednesday, April 24, 2019

ইসলামের সঠিক বিশ্বাস ১

ইসলামের সঠিক বিশ্বাস ১
ইলাহ:-
আধুনিক যুগের মানুষের মন নতুনত্বের প্রতি আসক্ত। প্রত্যেক জিনিসের আধুনিক ফ্যাশন আজ কালের অতি প্রিয়। কতেক আধুনিক ধােকাবাজ তৌহীদের অর্থও আধুনিক করে নিয়েছে। রিসালত, নবুয়্যত ও ঈমানের শরবতকে আধুনিক কৌশলে পাত্রস্থ করে ব্যবহারে মত্ত হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের ঈমানে কাঁপন ধরেছে। কাজেই প্রয়ােজন অনুভব করা হলাে যে, মুসলিম মিল্লাতকে এ চার শব্দগুলাের ঐ পুরানাে নিখুঁত অর্থ বাতলায়ে দেয়া যাক, যা চৌদ্দশত বছর থেকে মেনে আসা হচ্ছে। প্রত্যেক ব্যক্তি জ্ঞাত আছেন যে, তৌহিদ এবং রেছালাত এমন মৌলিক আকিদা বা বিশ্বাস যার উপর ইসলামের মূলভিত্তি স্থাপিত। কালমা-ই- তায়্যৈবা
لا اله الا الله محمد رسول الله
পড়ে সবাই ইসলাম ধর্মের মহান নেয়ামত ঈমান অর্জন করেন। কিন্তু আমাদের জানা দরকার اله“ইলাহ' অর্থ কি? এবং উলুহিয়াত বা আল্লাহর একত্তবাদের পরিধি বা ভিত্তি কি জিনিসের উপর? উলুহিয়্যাত এবং আবদিয়াত (দাসত্ত) এর পৃথককারী জিনিসটি কি? এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই। কিন্তু ইলাহ কি? সাধারণতঃ বলা হয়, যে, ইলাহ তিনিই যিনি গায়েব (অদৃশ্য) জানেন। ইলাহ তিনিই, যিনি মুশকিল কুশা (অসাধ্য সাধনকারী) হাজত রওয়াহ (মনবাসনা পূর্ণকারী) এবং অভিযােগ শ্রবণকারী, সাহায্যদাতা। ইলাহ তিনিই যিনি দূর থেকে শুনেন এবং দেখেন। এ বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য এ যে সাধারণত মুসলিম মিল্লাত, আম্বিয়া-ই কেরাম, আউলিয়ায়ে এজাম বিশেষ করে হুযুর সায়্যৈদুল আম্বিয়া (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অদৃশ্য জ্ঞানী, হাজির নাজির, অভিযােগ শ্রবণকারী, সাহায্যদাতা হিসেবে জানেন এবং বিশ্বাস করেন।ওদের মতে এরা সব মুশরীক, কেননা তারা বান্দাদেরকে ইলাহ মানছে।
আরবের মুশরীকগণ তাদের মুর্তিগুলাের (প্রতিমা) ব্যাপারে এ আকিদা রাখতাে যে, এরা গায়ের (আদৃশ্য) জানে, প্রার্থনা কবুল করে ওরা মুশরীক ছিল। এ মুসলিমরাও নবী-ওলীগণের মধ্যে ক্ষমতা মেনে নিয়ে আরবের মুশরীকদের ন্যায় শির্কে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি দেখাচ্ছি যে, ইলাহ শব্দের এ অর্থ কোন মতে শুদ্ধ নয় এবং না এসব জিনিসের উপর উলুহিয়াত নির্ভরশীল। (যদি হয়) তাহলে কোরআনের আলােকে লক্ষাধিক ইলাহ মানতে হবে।
গায়েব জানা:-
যদি গায়েব জানা উলুহিয়াতের পরিধি বা ভিত্তি হয়, তবে পবিত্র কোরআন করীম হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর ব্যাপারে ফরমাচ্ছেন যে, তিনি তাঁর কাউম (গােত্র) কে এ বলে সম্বােধন করেন و ٱنبئكم بما تٱكلون و ما تدرون فى بيوتكم "এবং আমি তােমাদের সংবাদ দিচ্ছি যে, যা কিছু তােমরা তােমাদের ঘরে খেয়ে থাক এবং অবশিষ্ট রাখ"। স্মর্তব্য যে, تٱكلون এবং تدخرون উভয় ক্রিয়াই মােযারে, যেখানে (ক্রিয়ায়) বর্তমান আর ভবিষ্যৎ দুইটিকাল নিহিত আছে। তবে এর অর্থ হবে এ যে, যা কিছু তােমরা আপন ঘরসমূহের রান্না ঘরে বসে খাইতেছ, কিংবা খাবে, অবশিষ্ট রাখতেছ কিংবা রাখবে, আমি সব কিছুর খবর তােমাদের দিতে পারবাে। অর্থাৎ ক্ষেতসমূহে দানা বা বীজ, বাগান সমূহে ফল জন্মে, প্রত্যেক ফলের বীজের উপর ভক্ষনকারীর মােহর হয়। আমি ঐসব মােহর জানি এবং ভক্ষনকারীদেরও জানি। চিন্তা করুন তাে, আল্লাহ তায়ালা ঈসা মছিহ আলাইহিস সালামকে কত ইলমে গায়েবের ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
যদি গায়েব জানা উলুহিয়াতের বৈশিষ্ট্য হয়, তবে কোরআনের আলােকে জনাব ঈসা মছিহ আলাইহিস সালাম ইলাহ্ হয়ে যাচ্ছে।

সৃষ্টিতে নির্দেশ জারী করা:-
যদি সৃষ্টিতে নির্দেশজারী করা এবং পানি, চাঁদ সূর্য উলুহিয়াতের কব্জায় হয়; তবে কোরআন মজিদের দৃষ্টিতে হযরত সােলায়মান আলাইহিস সালামকে ইলাহ মানতে হবে। কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাম) সম্বন্ধে কোরআন করীম বলেন-
و سخرنا له الريح تجرى بأمره رخاه حيث أصاب
অর্থাৎ তখন আমি তার অধীন করেছিলাম বায়ুকে যা তার আদেশে যেখানে ইচ্ছে সেথায় প্রবাহিত হতাে। আরও বলা হয়েছে
له الريح عاصفة تجرى بأمره
অর্থাৎ আমি তাঁর অধীনে করেছিলাম তেজস্সী বায়ুকে, যা তাঁর নির্দেশে প্রবাহিত হতাে।
প্রতিয়মান হলাে যে, আল্লাহতায়ালা প্রবল এবং স্বাভাবিক বায়ু সমূহেকে (পূর্বের হােক কিংবা, পশ্চিমের, দক্ষিণের হােক কিংবা উত্তরের) হযরত সােলাইমান (আলাইহিস সালাম) এর ফরমান পালনে বাধ্য করে দিয়েছেন। এটাও বুঝা গেল যে, বৃষ্টি দ্বারা (ফসল) উৎপাদন হয়, যার উপর তামাম জীবজন্তুর জীবন নির্ভরশীল। এ যুক্তির আলােকে সমস্ত সৃষ্টির রীতি-নীতি হক তায়ালা হযরত সােলাইমান আলাইহিস সালাম এর নির্দেশাধীন করে দিয়েছেন।
উলুহিয়াতের এ দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকেও ইলাহু মানতে হবে। (নাউযুবিল্লাহ মিন মিনহু।)
মূল: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নইমী (রহ)

Tuesday, April 16, 2019

রাসূল (দ) সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হত না'(১)

‘রাসূল (দ) সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হত না'(১)

প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের (মতিউর রহমান লিখিত) ১৮৬ পৃষ্ঠায় লিখছে এটি লােক মুখে হাদীসে কুদসী হিসেবে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। অপরদিকে প্রচলিত জাল হাদিস ৫৬ পৃষ্ঠায় (জুনাইদ বাবুনগরী লিখিত) উক্ত হাদিসটিকে জাল প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।সে আরও লিখেছে, “অথচ হাদিস বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে একমত যে, এটি একটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত, মিথ্যুকদের বানানাে কথা, “রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীসের সাথে এর সামান্যতম সম্পর্ক নেই।”উক্ত প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের ১৮৭ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ করেছে- “একমাত্র তার খাতিরেই সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আকীদা রাখার সুযােগ নেই যতক্ষণ পর্যন্ত দলীল প্রমাণ না পাওয়া যাবে। অথচ উক্ত বইয়ে সে কোন মুহাদ্দিসের রায় ইবারত সহ উপস্থাপন করতে পারে নি।
তথাকথিত আরেক লেখক ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার লিখিত ঈমান বিধ্বংসী বই হাদীসের নামে জালিয়াতি"এর ২৪৭ পৃষ্ঠায় কোন মুহাদ্দিসের মতামত ছাড়া মনগড়া কটি লাইন লিখে দাবী করেছেন হাদিসটি বানােয়াট ও ভিত্তিহীন। তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে الافلاك শব্দে বা বাক্যে কোনাে হাদীসের গ্রন্থে কোনাে প্রকার সনদ বর্ণিত হয়নি। এ হাদিসটিকে অনেক বাতিল পন্থীদের গ্রন্থে জাল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তাদের সকলের নামের তালিকা দিয়ে আমি আমার কিতাব দীর্ঘায়িত করতে চাই না। আমি প্রথমে এই বিষয় বস্তুর সমর্থনে কিছু হাদিস উল্লেখ করব,তার পরে সরাসরি الافلاك শব্দসহ রেওয়ায়েত বর্ণনা ও তার ব্যাপারে গ্রহনযােগ্য মুহাদ্দিসদের বক্তব্য উল্লেখ করব এবং এমনকি বাতিল পন্থীদের বক্তবও দলিল হিসেবে উল্লেখ করব।
দলীল নং-১-২৪
প্রথমে যে হাদিস খানা আমি উল্লেখ করছি সে হাদিস সম্পর্কে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বইয়ের ২৪৮ পৃষ্ঠায় মওদু প্রমানের অনেক অপ্রচষ্টা চালিয়ে সর্বশেষে দ্বঈফ বলেছেন।

অথচ সে নিজেই ২৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন, “ইমাম হাকিম নিশাপুরী হাদিসখানা সংকলন করে বলেছেন হাদিস খানা সহিহ।' এখন আমার প্রশ্ন হলাে তিনি কী তাহলে ইমাম হাকেমের চেয়েও বড় মুহাদ্দিস হয়ে গেলাে? যে হাদিস বর্ণনা করে বলেন সহিহ আর সে কোন গ্রহণযােগ্য মুহাদ্দীসের মতামত ইবারত উল্লেখ না করে কিভাবে জাল বলার মত দুঃসাহস পেল! উক্ত হাদিস সম্পর্কে আমি সামনে দীর্ঘ আলােচনা করব ইনশাআল্লাহ। হাদিসটি নিম্নরূপঃ
حدثنا أبو سعيد عمرو بن محمد بن منصور العدل، ثنا أبو الحسن محمد بن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ثنا أبو الحارث عبد الله بن مسلم الفهري، ثنا إسماعيل بن مسلمة، أبا عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن جده، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لما اقترف آدم الخطيئة قال: يا رب أسألك بحق محمد لما غفرت لي، فقال الله: يا آدم كيف
عرفت محمدا ولم أخلقه؟ قال: يا رب، لأنك لما خلقتني بيدك ونفخت في من روحك رفعت راسيي فرايت على قوام العرش مكتوبا لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنك لم تضيف إلى اسمك إنا أحب الخلق إليك، فقال الله: صدقت يا آدم، إنه لأحب الخلق إلي اذعني بحقه فقد غفرت لك ولولا محمد ما خلقتك «هذا حديث صحيح الإسناد وهو اول حدیث ذكرته لعبد الرحمن بن زيد بن أستلم في هذا الكتاب.
-“হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ ফরমান হযরত আদম (আঃ) যখন অপ্রত্যাশিতভাবে (ইজতেহাদি) ভুল করলেন। তখন,হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর দরবারে আবেদন করলেন, হে পরওয়ারদিগার, হযরত মুহাম্মদ (দ) এর উসিলায় আমাকে মার্জনা করুন। আল্লাহ রব্বল আলামীন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি মুহাম্মদ (দ) কে কিভাবে চিনেছ? জবাৰে আদম আরজ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি স্বীয় কুদরতি হাত দ্বারা আমাকে সৃষ্টি করে আমার দেহের অভ্যন্তরে যখন আত্না প্রবেশ করিয়ে ছিলেন, তখন আমি মাথা উঠিয়ে আরশের পায়ায় লেখা দেখেছিলাম, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর লাহ" আমি বুঝতে পারলাম, আপনি আপন নামের সাথে এমন একটি নাম মিলিয়ে রেখেছেন যােট সমগ্র সৃষ্টি জগতে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, হে আদম! তুমি সত্য বলেছ। নিশ্চয় ঐ নাম সমগ্র জাহানে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। যেহেতু তুমি সেই নাম নিয়েই আমার কাছে প্রার্থনা করেছ, সেহেতু আমি তােমাকে ক্ষমা করে দিলাম। যদি মুহাম্মদ (দ) না হতেন,আমি তােমাকেও সৃষ্টি করতাম না।”
১.ইমাম হাকেম নিশাপুরী-আল মুস্তাদরাক : ২/৪৮৬ পৃ. হাদিস ঃ ৪২২৮ ইমাম হাকেম বলেন হাদিসটির সনদ সহিহ
২.ইমাম তাবরানী-মু'জামুল আওসাত : ৬/৩১৩ হাদিস ঃ ৬৫০২
৩.তাবরানী-মু'জামুস সগীর : ২১৮২ হাদিসঃ ৯৯২
৪.ইবনে হাজার হায়সামী-মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২৫৩ : পৃ.
৫.ইমাম ইবনে আসাকির_তারিখে দামেস্ক : ৭/৪৩৭

৬.আল্লামা ইবনে কাসীর_বেদায়া ওয়ান নেহায়া ১/১৮ পৃ.
৭.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী_খাসায়েসুল কোবরা, ১১২ হাদিস : ১২
৮.ইমাম বুরহান উদ্দিন হালবী-সিরাতে হালবিয়্যাহ ১৫৫
৯.ইমাম কুস্তালানী-মাওয়াহেবে লাদুনীয়া ১৮২ পূ.
১০.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি-তাফসীরে দুররে মানসুর ১১৪২ পৃ.
১১.ইমাম বায়হাকী-দালায়েলুল নবুয়ত ৫/৪৮৯
১২.ইমাম হাকেম নিশাপুরী-আল মাদখাল : ১১৫৪
১৩.ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানী-হলিয়াতুল আউলিয়া
১৪.আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী-শাওয়াহিদুল হক :১৩৭
১৫,আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী-আনােয়ার-ই-মুহাম্মদিয়া:১-১০

১৬.আল্লামা শাহ আঃ আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী : তাফসীর-ই-আজীজী :১৩
১৭,আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী : আফযালস্ সালাত:১১৭

১৮.আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী-তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ১৩৭০ . সূরা মায়েদা আয়াত-১৫
১৯.আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১১১৫ পৃ:
২০.আল্লামা শায়খ ইউসফ নাৰহানী : যওয়াহিরুল বিহার : ১১৪ পৃ:
২১.ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া, ১১৭২ -

২২.ইউসুফ নাৰহানী : হজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৭৯৫ . এবং ৩১ . আৰু অফিকহিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর।
২৩.আল্লামা শফী উকাড়বী-যিকরে হাসীন, ৩৭ পৃষ্ঠা।
২৪.মাওলানা আশরাফ আলী থানবী : নশরুত্তীব পৃষ্ঠা নং- ২৮
প্রমাণিত, হলাে রাসূল (দ) সৃষ্টি কে করা না হলে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হত না, সুতরাং আদম (আঃ) না হলে হয়ত আমরা কোন মানবের উৎপত্তিও হত না। এই হাদিসটিকে যেহেতু গ্রহনযােগ্য প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগন সহিহ বলেছেন। ইমাম হাকিম সনদের দিক দিয়ে সহিহ বলেছেন,তার এ অভিমতকে বহু ইমামগণ করেছেন। তার মধ্যে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি , শায়খ ইউসুফ নাবহানী, শা আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী, কুস্তালানী, যুরকানী, ইসমাঈল হাক্কী, ইবনে হাযার হা ইবনে কাসীর, বুরহানউদ্দীন আলভী, এমনকি দেওবন্দের অন্যতম আলেম আল আলী থানবীরও উক্ত হাদিসটির ব্যাপারে হাকেমের সহিহ হওয়ার মতকে মেনে নিয়েছেন তাদের স্বস্ব গ্রন্থে। উল্লেখ্য যে, এই হাদিস দ্বারা উসিলার বৈধতা পা পাওয়া গেল।
দলীল নং- ২৫-৩৩
প্রথম দীর্ঘ হাদিস থেকে কিছু শব্দ বাদ পড়ে কিছুটা সংক্ষেপে অন্য সনদে উক্ত সাহাবী হতে ইমাম যওযী ও ইমাম সুয়ূতি (র) ইমাম দায়লামীর সূত্রে উত্ত হাদিসটি এভাবে বর্ণনা করেন,

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله مسلم: لما اذنب أدم صلی الله عليه وسلم الذنب الذي أذنبه رفع راسه إلى العرش و قال: أسألك بحق محمد إلا غفرت لي , فأوحى الله إليه , «وما محمد ومن محمد؟» قال: تبارك اسمك، لما خلقتني رفعت راسي إلى عرشك، فإذا فيه مكتوب: لا إله إلا الله محمد رسول الله، فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك , فأوحى الله عز وجل إليه: «يا آدم , إنه أخر النبيين من ذريتك , وإن أمه آخر الأمم من ذريتك , ولولاه يا آدم ما خلقتك»۔
-“হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, যখন হযরত আদম (আঃ) এর ইজতেহাদী ভুল হয়ে যায় তখন তিনি স্বীয় মাথা মুবারক আসমানের দিকে উত্তোলন করলেন এবং নিবেদন করলেন, হে প্রভু, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওসীলায় আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ তা'য়ালা তার প্রতি ওহী প্রেরণের মাধ্যমে বললেন, হে আদম (আঃ)! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ কে? হযরত আদম (আঃ) বললেন, হে সম্মানিত নামের অধিকারী। যখন তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, তখন আমি মাথা উঠিয়ে তােমার আরশে দেখাে আরশের (পায়াতে) লেখা ছিল
لا إله إلا الله محمد رسول الله
তাই আমি বুঝে নিলাম, তুমি যার নামকে তােমার নামের সাথে সংযুক্ত করে লিখে রেখেছ, আমার মনে হয়েছে তিনি তােমার নিকট সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে অধিক প্রিয়ভাজন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করলেন, হে আদম (আঃ)! তুমি সত্য বলেছ। সৃষ্টি জগতে তিনি আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়। তিনি তােমার সন্তানদের মধ্যে সমস্ত নবীদের মধ্যে আখের এবং সর্বশেষ নবী হবেন। তাঁর উম্মত তােমার সন্তানাদিদের মধ্যে সর্বশেষ উম্মত।যদি তিনি (মুহাম্মদ (দ) না হতেন, তাহলে আমি তােমাকেও সৃষ্টি করতাম না।

১.ইমাম তাবরানী : মু'জামুল আওসাত : ৬/৩১৩ পৃ. হাদিস নং- ৬৫০২
২.ইমাম সুয়ূতি : আদ দুররুল মনসুর : ১৫৮
৩.ইমাম সুয়ূতি : আর রিয়াদুল আনিকা, পৃ-৪৮
৪.ইমাম জওজী । আল-ওয়াফা বি আহওয়া লিল মুস্তাফা- ৩৩ পদারুল কুতুৰ ইলমিয়্যাহ, বয়ৱত।
৫.ইমাম জওজী : বয়ানুল মিলাদুন্নবী ঃ ১৫৮ পৃ
৬.ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফিরদাউস : ৫/২২৭
৭.আল্লামা আজলুনী : কাশফুল খাফা : ১/৪৬ এবং ২১৪
৮.শায়খ ইউসুফ নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন। ৭৯৫
৯.তাবরানী,মুজামু-সগীর,ফ১৮২পৃ. হাদিস:৯১২
উক্ত হাদিসের দুটি সূত্রের সনদের গ্রহণযােগ্যতা দেখতে হলে কিতাবের শেষে দেখুন

দলীল নং- ৩৪-৪৬
ثنا جندل بن والق، ثنا عمرو بن اوس الانصاري، ثنا سعيد بن أبي عروبة، عن قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «اوحى الله إلى عيسى عليه السلام يا عيسى آمن بمحمد وامر من أدركه من أمتك أن يؤمنوا به فلولا محمد ما خلفت أدم ولولا محمد ما خلقت الجنة ولا النار ولقد خلقت العرش على الماء فاضطرب فكتبت عليه لا إله إلا الله محمد رسول الله فسكن» هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه "
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'য়ালা হযরত ঈসা (আঃ) এর নিকট ওহী নাযিল করলেন, হে ঈসা! তুমি মুহাম্মদ (দ) এর উপর ঈমান আন এবং তােমার উম্মতের মধ্যে যারা তার যুগ পাবে। তাদেরকে ঈমান আনতে বলাে। কারণ যদি মুহাম্মদ (দ) না হতেন, তাহলে আমি না আদমকে সৃষ্টি করতাম, না বেহেশত, না দোযখ সৃষ্টি করতাম। আমি (আল্লাহ) যখন পানির উপর আরশ তৈরী করেছিলাম, তখন তা এদিক সেদিক কম্পন করতে লাগল। তখন আমি তার উপর কালেমা শরীফ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লিখে দিলাম অতঃপর আরশ স্থির হয়ে গেল।
১.ইমাম হাকেম নিশাপুরী ঃ আল মুস্তাদরাক ২/৬৭১, পৃষ্ঠা হাদিসঃ ৪২২৭
২. আল্লামা ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী শিফাউস সিকাম ৪৫ পৃষ্ঠা
৩. আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী: আফজালুল কুরাঃ
৪. আল্লামা সিরাজুদ্দীন বলকী: ফতােয়ায়ে সিরাজিয়া : ১/১৪০ পৃ.
৫. আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী মাওজুআতুল কবীর ১০১ পৃ.
৬. ইমাম ইবনে সা'দ। আত্-তবকাতুল কোবরা !

৭. ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানীঃ হুলিয়াতুল আউলিয়া
৮,আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি ঃ খাসায়েসুল কোবরাঃ ১/১৪ হাদিসঃ ২১
৯,আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : শরহে শামায়েলঃ ১/১৪২ পূ.
১০.আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানীঃ যাওয়াহিরুল বিহার ঃ ২১১৪ পৃ.
১১. ইমাম যাহাৰীঃ মিনুল ইতিদাল : ৫/২৯৯ পূ. রাবী নং- ৬৩৩৬
১২, আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী লিসানুল মিযান ঃ ৪/৩৫৪ পৃ.
১৩. ইমাম ইবনে হাইয়্যান ঃ তবকাতে মুহাদ্দিসিনে ইস্পাহানী ঃ ৩/২৮৭ পৃ.
১৪.আবু সা'দ ইবরাহিম নিশাপুরী,শরহে মুস্তফাঃ১/১৬৫পৃ.
১৫.যুরকানী,শরহুল মাওয়াহেব:১২/২২০পৃ.
১৬.ইবনে কাসীর,কাসাসুল আম্বিয়া,১/২৯পৃ.দারুল তা'লিফ,কাহেরা,মিশর।
১৭.ইবনে কাসীর,সিরাতে নববিয়্যাহঃ১/৩২০পৃ.দারুল মা'রিফ,বয়রুত লেবানন।
১৮.ইবনে কাসীর,মু'জিজাতুন্নাবী:১/৪৪১পৃ.মাকতুবাতুল তাওফিকহিয়্যাহ,কাহেরা,মিশর।
১৯.ইবনে সালেহ শামী,সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ:১২/৪০৩পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ বয়রুত,লেবানন।

উক্ত হাদিসটিকে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বইয়ের ২৫০ পৃষ্ঠায় জাল প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন অথচ ইমাম হাকিম, সুয়ূতি, ইমাম সুবকী, ইবনে হাজর মক্কী,মােল্লা আলী কারী হাদিসটির সনদ সহিহ বলেছেন। ইমাম হাকিম (র) বলেন, হাদিসটির সনদ সহিহ। উক্ত হাদিসটির ব্যাপারে আমি বিস্তারিত এই কিতাবের শেষে আলােচনা করেছি।
দলীল নং- ৪৭-৪৯
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (দ) ইরশাদ ফরমান :-

عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا أتاني جبريل فقال يا محمد لولاك ما خلفت الجنة ولولاك ما خلقت النار
-“একদা আমার কাছে হযরত জিব্রাঈল (ঘ) এসে বললেন, আল্লাহ পাক । ইরশাদ করেছেন,আপনাকে সৃষ্টি না করা হলে সৃজন না হতাে বেহেশত আর না । দোযখ।”
ক, ইমাম দায়লামী : আল-মুসনাদিল ফিরদাউস : ২/২৪২ তিনি বর্ণনা করে বলেন হাদিসটি সনদের দিক। দিয়ে “হাসান"।
, আল্লামা মােল্লা আলী কারী : মওদুআতুল কবীরঃ ১/২৯৫ পূহাদিস ৩৮৫.পু,মুয়াসাতুর রিসালা, মরুত, লেবানন।
গ, আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানীঃ যাওয়াহিরুল বিহার ঃ ৪/১৬০ পৃ.
দলীল নং- ৫০-৫৪

হযরত সালমান ফারসী (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দঃ) ইরশাদ করেন, একদা জিব্রাঈল (আঃ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আল্লাহ রাব্বল আলামীন । ইরশাদ করেছেন
ان كنت اتخذت ابراهيم خليلا. فقد اتخذتك حبيبا و ان كنت كلمت موسى في ا الأرض تكليما. فقد كلمتك في السماء و ان كنت خلقت عیسی من روح القدس فقد خلقت اسمك من قبل ان اخلق الخلق بالفي سنة و لقد وطات في السماء ماء موطا لم يطاه أحد قبلك. و لا يطاه احد بعدك و ان كنت اصطفيت ادم فقد ختمت بك الأنبياء - وما خلقت خلقا اكرم على منك (وساق الحديث إلى أن قال) ظل عرشى في القيامة عليك ممدود- تاج الحمد على راسك معقود و قرنت اسمك مع اسمى فلا اذكر في موضع حتى تذكر معي - ولقد خلقت الدنيا و اهلها لاعرفهم كرامتك و منزلتك عندی۔ ولولاك ما خلقت الدنيا۔
“আমি যদিও ইব্রাহীম (আঃ) কে খলিল বানিয়েছি কিন্তু আপনাকে বানিয়েছি হাবীব। আমি যদিও মুসা (আঃ) এর সাথে দুনিয়াতে কথা বলেছি, আপনার সাথে কথা বলেছি আসমানে। আমি ঈসা (আঃ) কে রুহুল কুদ্স থেকে সৃজন করলেও আপনাকে করেছি সমগ্র সৃষ্টি জগত সৃষ্টির দু'হাজার বছর পূর্বে। আপনার কদম আসমানের এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আপনার পূর্বে কারাে কদম পৌঁছেনি এবং ভবিষ্যতেও পৌঁছবে না। আমি আদম (আঃ) কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করলেও আপনার মাধ্যমে ঘটিয়েছি নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি । আপনার চেয়ে অধিক সম্মানী কাউকে আমি সৃষ্টি করেনি। কিয়ামত দিবসে আমার আরশের ছায়া আপনার উপর প্রসারিত হবে। প্রশংসার জয়মুকুট আপনার নূরানী মস্তকে শােভা পাবে। আমি আপনার নাম আমার নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছি।যেখানে আমার যিকির চর্চা হবে সেখানে আপনার যিকিরও চর্চা হবে। আমি পৃথিবী এবং পৃথিবীবাসীকে সৃষ্টি করেছি,আমার নিকট আপনার মর্যাদা ও সম্মান কতটুকু তা দেখানাের জন্য জেনে রাখুন,
ولولاك ما خلقت الدنيا
অর্থাৎ আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না।”

১.ইমাম ইবনে আসাকীর: তারীখে দামেস্ক ৩/৫১৭ পৃষ্ঠা।
২.আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী হানাফী ঃ মওদুআতুল কবীর ঃ ১০১ পৃষ্ঠা
৩.আল্লামা ইমাম যুরকানীঃ শরহে মাওয়াহেবঃ ১১৮২
৪ শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ১/২৮৯ পৃষ্ঠা
৫ ইমাম কাজী আয়াজঃ শিফা শরীফঃ২১০৫ পূ.

সূত্রঃ প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর


Monday, April 15, 2019

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে নাম রাখা ব্যক্তির জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে নাম রাখা ব্যক্তির জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ।

‘প্রচলিত জাল হাদিস' (মতিউর রহমান লিখিত) বইয়ের ১৭৯ পৃষ্ঠায় একটি হাদিস উল্লেখ করেন, আমার নামে সন্তানদের নাম রাখ কেননা, আল্লাহ তায়ালা কসম করে বলেছেন, হে মুহাম্মদ(দ)! আপনার নামের সাথে যার নাম মিলাবে আমি কখনাে তাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালাব না। এ হাদিসটিকে সে জাল প্রমান করার অনেক অপ্রচেষ্টা করেছেন,কিন্তু সর্বশেষে ব্যর্থ হয়েছে।
উক্ত হাদিসটি তারা বাংলায় লিখেছেন এবং হাদিসটি বিকৃতি করে বর্ণনা করেছে যাতে জাল বানাতে সহজ হয়। মূলত হাদিসটি হল এভাবে হযরত আনাস বিন মালিক (রা) হতে বর্ণিত ঃ
يوقف عبدان بين يدي الله عز و جل فيقول الله لهما: ادخلا الجنة ، فاني اليت يوقف على نفسي أن لا يدخل النار من اسمه محمد ولا احمد۔
-“কিয়ামতের দিন দুধরনের ব্যক্তিদের মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে উপস্থিত করা হবে। হুকুম করা হবে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাও। তার কারন আল্লাহ তায়ালা নিজের নফলের উপর কসম করেছেন যার নাম আহমদ এবং মুহাম্মদ রাখবে তাকে কখনাে দোযখে দেব না।”
১.ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফিরদাউস : ৫/৫৩৫ পৃ. হাদিসঃ ৯০০৬
২.ইমামা মানাৰী : ফয়জুল কাদীর ৫/৪৫৩ পৃ.
৩.ইমাম ইবনে সা'দ : তবকাতুল কোবরা
৪.আল্লামা বুরহান উদ্দিন হালবী : সিরাতে হালবিয়্যাহ : ১/১৩৫ পূ.
৫.হাফেজ আবু তাহের সালাফী (রহ.) তার হাদিস গ্রহেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৬.আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী : আহকামে শরীয়াতে ১৮১ পৃষ্ঠা
৭.আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৩৮৫ প
৮.ইমাম দায়লামী : আল ফিরদাউসঃ ৫/৪৮৫ হাদিস নং - ৮৮৩৭

উক্ত হাদিসটির দুটি সূত্র ইমাম দায়লামী (র) বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেকটি সনদ দুর্বল হলেও হাদিসটি কমপক্ষে “হাসান” এর মর্যাদা রাখে। এছাড়া এই বিষয়ে আরও একাধিক সনদ উল্লেখ পাওয়া যায়।
আরও সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। যেমন হযরত নবীত্ব বিন শারীত্ব (র) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন যে,قال الله تعالى و عزتى و جلالة لا عذبت أحدا تسمى أسمك فى النار.অর্থাৎ- আমাকে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বলেছেন আমার। জালালিয়াতের শপথ! যার নাম আপনার নামে রাখা হবে তাকে দোযখের আযাব দেওয়া হবে না।
১.ইমাম আবু নাঈম ইস্পাহানী (র) হলিয়াতুল আউলিয়া গ্রহে বর্ণনা করেন।
২.হাফিজ ইবনু বুকহির (্য) তার হাদিস গ্রহে হযরত আলী (রা) হতে বর্ণনা করেন।
৩.ইমাম দায়লামী । ৫/৫০ হাদিস নং- ১০০৮ তিনি হযরত আলী (রা) এর সূত্রে।

উক্ত হাদিসটি সংকলন করে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (র) বলেন-الاسناد المتصلঅর্থাৎ- উক্ত হাদিসটির সনদ মুত্তাসিল তথা শক্তিশালী। (তথ্য সূত্র:ইমাম আহমদ রেযা : আহকামে শরীয়ত : ১/৮০ পৃ.)
অনুরূপ বর্ণনার আরও হাদিস পাওয়া যায়
وعن ابن عباس رضي الله عنهما أنه صلى الله عليه وسلم قال : اذا كان يوم القيامة ينادى مناد في الموقف الا ليقم من كان اسمه محمدا ، فليدخل الجنة بكرامتی -
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূল ১ ইরশাদ ফরমান,কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা মুহাম্মদ নামের ব্যক্তিদেরকে। ডাকবেন ও খুঁজতে থাকবেন এবং তাদেরকে বলা হবে তােমরা জান্নাতে যাও, এটা আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্ব কী, তা দেখানাের জন্য তাদের প্রতি প্রত্যাদেশ হবে।"
* আল্লামা ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩৩৮৫ পৃষ্ঠা
অনুরূপ হযরত আবু উমামা (রা.)হতে বর্ণিত আরেকটি হাদিস পাওয়া যায়।
انه صلى الله عليه وسلم قال : قال الله عز و جل : و عزتی و جلالي لا اعذب احدا تسمى باسمك في النار -
-“নিশ্চয়ই আঁকা (দ) ইরশাদ ফরমান, আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, হে হাবীব,আমার ইজ্জত ও জালালিয়াতের কসম যারা আপনার নামে নাম মিলেয়ে রাখবে। তাদেরকে কখনাে জাহান্নামের আযাব দেয়া হবে না।'
১.আল্লামা শায়খ ইউসুফ বিন ইসামইল নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার । ৩৮৪ পৃ
২.ইমাম বুরহান উদ্দিন হালকী ঃ সিরাতে হালবিয়্যাহ : ১৫ .

সুতরাং প্রমাণিত হলাে যে হাদিসটির মােট ৫টির বেশী সনদ রয়েছে। প্রত্যেকটি সনদ দুর্বল হলেও হাদিসটি হাসান” হওয়াতে কোন অসুবিধা নেইং বরং নিঃসন্দেহে। 'হাসান' বলা যায়।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Sunday, April 14, 2019

মুহাম্মদ নাম রাখার ফযীলত সম্পর্কিত হাদিস পর্যালােচনা।

মুহাম্মদ নাম রাখার ফযীলত সম্পর্কিত হাদিস পর্যালােচনা।
‘প্রচলিত জাল হাদিস' বইয়ের (মতিউর রহমান কৃত) ১৭৯ পৃষ্ঠায় নিন্মের হাদিস খানাকে জাল প্রমাণ করার জন্য অনেক অপচেষ্টা চালিয়েছেন কিন্তু এই হাদিসটি জাল প্রমাণে একটিও গ্রহণযােগ্য দলীল তিনি দিতে পারেন নি।হযরত আবু উমামাহ (রা) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন
- اخبرنا الشريف ابو الحسن محمد بن احمد بن المهتدي قال حدثنا الحسين بن أحمد بن عبد الله بن بكير المحدث قال حدثني ابو الحسن
حدثنا إسحاق بن عبد الله العسكري بنصيبين قال حامد بن حماد بن المبارك بن سیار بن محمد ابو يعقوب النصيبي قال حدثنا حجاج بن المنهال قال حدثنا حماد بن سلمة عن برد بن سنان عن مكحول عن أبي أمامة الباهلي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:  " من ولد له مولود فسماه محمدا كان هو ومولوده فى الجنه
-“যার সন্তান জন্ম নিল সে আমার পবিত্র নাম হতে বরকত হাসিল করার নিমিত্তে তার নবজাতকের নাম মুহাম্মদ রাখবে তবে সে এবং তার সন্তান দু'জনই বেহেশতে যাবে।” উক্ত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা আযলুনী (র) বলেন
উক্ত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা আযলুনী (র) বলেন

رواه ابن عساكر عن أمامة رفعه قال السيوطي: هذا أمثل حديث ورد في هذا الباب وإسناده حسن
“উক্ত হাদিসটি ইমাম ইবনে আসাকীর তার তারীখে দামেস্কে হযরত আবু উমামা (রা) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি  বলেন হাদিসটির সনদ হাসান” পর্যায়ের।"
* ইমাম ইবনে আসাকির : তারীখে দামেস্ক : ১৩১৭৭ পৃ.
* ইমাম মানাৰী ঃ ফয়জুল কাদীরে ২৩৭ পৃষ্ঠা হাদিসঃ ১০৮৪* ইবনে কাইয়ুম : মানারুল মুনীফ : ৬১ পৃষ্ঠা
* আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী : আহকামে শরীয়তে ১৮০ পৃষ্ঠা * * ইমাম ইবনে বুকাইর ঃ ফযলুল মিন ইসমু আহমদ ওয়া মুহাম্মদ ঃ ১৫৮ পৃষ্ঠা * * ইমাম জালালুব্দীন সুয়ূতি : আল লাআশীল মাসনূজঃ ১১০৬
* শায়খ ইউসূফ নাৰহানী ঃ যাওয়াহিরুল বিহার : ৩৩৮৫
* আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৫৪ . হালিশ ২৬৪৩
* ইবনে কাইয়ুম : মানারুল মুনীফ : ৬১ পৃষ্ঠা
* আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী : আহকামে শরীয়তে ১৮০ পৃষ্ঠা * * ইমাম ইবনে বুকাইর ঃ ফযলুল মিন ইসমু আহমদ ওয়া মুহাম্মদ ঃ ১৫৮ পৃষ্ঠা * * ইমাম জালালুব্দীন সুয়ূতি : আল লাআশীল মাসনূজঃ ১১০৬
* শায়খ ইউসূফ নাৰহানী ঃ যাওয়াহিরুল বিহার : ৩৩৮৫
* আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৫৪ . হালিশ ২৬৪৩
* ইমাম সুয়তী : মুখতাসারুল মওআত : ১৮৫ পৃ
সুতারাং প্রমান হয়ে গেল হাদিসটি নিঃসন্দেহে “হাসান" বা গ্রহণযােগ্য। অনুরূপ আরও হাদিস রয়েছে যেমন : ইমাম জাফর সাদেক (র) তার পিতা ইমাম বাকের (র) হতে ইমাম বাকের (র) হযরত আলী (রা) হতে বর্ণনা করেন:-

اذا كان يوم القيامة ناد منادی من اسمه محمد فيدخل الجنة بكر امة اسمه صلی الله عليه و سلم
-“কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ নামের ব্যক্তিদেরকে ডাকবেন। তাপর বলবেন তােমরা সবাই জান্নাতে চলে যাও। এটা শুধু আল্লাহ তা'য়ালার হাবীব (দ) এর মহত্ব ও বড়ত্ব দেখানাের জন্য এ মর্যাদা।"
* ইমাম কাজী আয়াত : শিফা শরীফ : ১১০৫ পৃষ্ঠা
* শায়খ ইউসূফ নাৰহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩৮৫

Thursday, April 11, 2019

নামাজে পাগড়ী বাঁধার ফযিলত প্রসঙ্গে

নামাজে পাগড়ী বাঁধার ফযিলত প্রসঙ্গে

‘প্রচলিত জাল হাদিস' বইয়ের ১২৯ পৃষ্ঠায় (মতিউর রহমান কৃত) লিখেছেন ও হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ৫০০ পৃষ্ঠায় এবং প্রচলিত জাল হাদিস' (জুনায়েদ বাবু নগরীর) লিখেছেন যে,পাগড়ীবিশিষ্ট দু'রাকাত নামায, পাগড়ীবিহীন সত্তর রাকাতের চেয়েও উত্তম। হাদিসটি জাল। তারপর তারা আরও লিখেছেন এই পাগড়ীকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ফযীলতপূর্ণ হাদীসের উদ্ভব ঘটেছে। তন্মধ্যে উপরােক্ত হাদিসটি অন্যতম। মূলত তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস নয়, বরং মিথুকদের বানানাে কথা বা বানানাে জাল হাদিস।
উক্ত হাদিস সম্পর্কে প্রতারণার জবাবঃ
তারা লিখেছে পাগড়ীকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু হাদীসের উদ্ভব ঘটেছে। দেখুন! মাওলানা মতিউর রহমান নিজেই তাে হাদিস বলে স্বীকার করেন। আর যা উদ্ভব হয়। তাকে হাদিস বলা হয় নাকি? তাহলে কী হাদীসের সংজ্ঞাও তারা জানে না। মূলত পাগড়ী সম্পর্কে ফযীলত বর্ণনার অনেক হাদিস রয়েছে। ইমাম সাখাভী (র) এবং আল্লামা আজলুনী(র) এ প্রসঙ্গ এর সমর্থনে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিস দুটি হল ঃ
رواه الديلمي من حديث ابن عمر مرفوعا بلفظ: صلاة بعمامة تعدل بخمس و عشرين، جمة بعمامة أفضل من سبعين جمعة بلا عمامة. و من حديث أنس مرفوعا: الصلاة في العمامة عشرة ألف حسنة
-"ইমাম দায়লামী (স) তার “আল মুসনাদে ফিরদাউস” গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (দ) ইরশাদ করেন : "পাগড়ী পড়ে নামায পড়া পাগড়ীবিহীন হতে ২৫ গুণ উত্তম, আর পাগড়ী পড়ে এক জুমার জামাতের নামায পাগড়ী ছাড়া ৭০ জুমা হতে উত্তম বা সমতুল্য। হযরত আনাস বিন মালিক (রা) হতে মারফু সূত্রে অন্য আরেকটি বর্ণনা রয়েছে রাসূল (দ) ইরশাদ করেন, পাগড়ী পড়ে নামায পড়লে দশ হাজার নেকি রয়েছে”।
ক,দায়লামী,মুসনাদিল ফিরদাউস,২/০৬পৃ.হাদিস:৩৮০৫,হযরত আনাস (রা.) এর বর্ণনা।
খ,দায়লামী,আল-ফিরদাউস,২১০৮পৃ হাদিস:২৫৭১, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এর সূত্রে।
গ. ইমাম হাফেজ আব্দুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানাহঃ ২৭১ পৃষ্ঠা
ঘ. ইমাম আলুনী : কাশফুল খাফা : ২/২৫ হাদিস : ১৬০১
ইমাম সাখাভী (র) এবং আল্লামা আলুনী মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দ্বঈফ, হাসান, সহিহ কোন কিছুই তারা উল্লেখ করেন নি। তাই বুঝা গেল। হাদিসটির ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিস মন্তব্য করেননি। তাদের নীরবতা দ্বারা বুঝা গেল। কমপক্ষে হাদিসটি দুর্বল হলেও ফাযায়েলে আমলের জন্য গ্রহনযােগ্য। কিন্তু আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর উক্ত হাদিস দুটিকে উল্লেখ করে মিথ্যা হাদিস বলে মন্তব্য করেছে। সে ইমাম সাখাভী এবং মুহাদ্দিস আজলুনী এর নাম দিয়ে দাবী করেছেন যে তারা নাকি হাদিস দুটিকে জাল বলেছেন। মা’যা আল্লাহ।

ইমাম সাখাভী ও ইমাম আলুনী মওদু বা বানােওয়াট তাদের কিতাবে বলেছেন। এমন কোন ইবারত বা কথা তাদের কিতাবে নেই। এজন্যই তারা মূল ইবারত উল্লেখ করেনি, এমন দুই ইমামের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র। অথচ ইমাম সাখাভী ও আল্লামা আজলুনী (র) দুজনই হাদিসটিকে মারফু বলেছেন।
অপর দিকে আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র) পাগড়ীর ফযীলত সম্পর্কে একটি হাদিস বা সনদ বর্ণনা করেন যে হাদিসটি হচ্ছে এভাবে
عن جابر رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ركعتان بعمامة خير من سبعين ركعة بلا عمامة -
-“হযরত যাবের (রা) হতে বর্ণিত : রাসূল (সঃ) ইরশাদ ফরমান : পাগড়ীসহ দুরাকাত নামায, পাগড়ী ছাড়া ৭০ রাকাতের চেয়ে উত্তম।”
. ইমাম দায়লামী ঃ মুসনাদুল ফিরদাউসঃ২/২৬৫পৃ.হাদিস:৩২৩৩

খ. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামিউস সগীর : ২/১৭ : হাদিস : ৪৪৬৮
. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামিউল আহাদিস : ৪/৪২৬ : হাদিস : ১২৫৭৪
ঘ, আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী: ফতহুল কাবির : ২/১৩০ পৃ:হাদিস:৬৬২৫

ঙ,আল্লামা ইমাম আজলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৩ পৃ: হাদিস : ১৬০১চ. ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : পৃ: ২৭১ হাদিস : ২৯৮
চ. ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : পৃ: ২৭১ হাদিস : ২৯৮
ছ, আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : নেহায়া :১/১৪৩পৃ.
জ, ইবনে হাজার মক্কী:আল-ফাওয়ায়িল আল ফিকহিয়্যাতুল কোবরাঃ১/১৭০পৃ.
ঝ, আব্দুল্লাহ সিরাজি,শরহে মুসলিমঃ২/৩৫পৃ.

ঞ,হাসান আবু ইসাবাহ,শরহে মুসলিমঃ২৬/২৮পৃ.ট, মুত্তাকি হিন্দীঃ কানযুল উম্মাল:১৫/৩০৬পৃহাদিস:৪১১৬
ট, মুত্তাকি হিন্দীঃ কানযুল উম্মাল:১৫/৩০৬পৃহাদিস:৪১১৬
ঠ, শাওকানী, ফাওয়াইদুল মওদুআত, ১/১৮৭পৃ. হাদিসঃ৩, লিবাস অধ্যায়।
ড. দরবেশ হুত, আস-সুনানিল মুত্তালিব,১/১৭১পৃ.হাদিস:৮২৮
ঢ, আলুনী, কাশফুল খাফা, ৮৬পৃ. হাদিস : ১৭৮৪।
ণ, আলবানী : দ্বঈফু জামেঃ হাদিস :৩১২৯, ঘঈফ জামেউস সগীর, হাদিসঃ৩১২৯, দ্বঈফা,হাদিসঃ১২৮   

এটাই বুঝা গেলাে, উক্ত হাদীসের একজন রাবী দুর্বল হওয়াতে আমলের ব্যাপারে নিষেধ নেই। যা আমি কিতাবের শুরুতে আলােচনা করে এসেছি। অপরদিকে আল্লামা ইমাম আজলুনী (র) উক্ত যাবের (রা) এর হাদীসের ব্যাপারে সর্বশেষ রায় পেশ করে বলে فهو غير موضوع অর্থাৎ- উক্ত হাদিসটি জাল নয়।
* আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২/২৩ : হাদিস : ১৬০১

তবে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র) বলেন হাদিসটির একজন রাবী দুর্বল থাকায় সনদটি দুর্বল।* ইমাম সুয়তী : জামেউস্-সগীর : ২১৭ পৃ. হাদিস : ৪৪৬৮
সুতরাং একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদিসটি বর্ণনায় কমপক্ষে হাসান" এর মর্যাদা রাখে। এ ব্যাপারেও কিতাবের শুরুতে বিস্ত রিত আলােচনা করেছি। তাই বুঝা গেল যে ইমাম দায়লামী (রহ.) উক্ত বিষয়টির তিনটি সূত্র বর্ণনা করেছেন। এ পর্যন্ত আমি অধম তিনটি সূত্র আলােচনা করেছি। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত আব্দুল্লাহ
* ইমাম সুয়তী : জামেউস্-সগীর : ২১৭ পৃ. হাদিস : ৪৪৬৮
সুতরাং একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদিসটি বর্ণনায় কমপক্ষে হাসান" এর মর্যাদা রাখে। এ ব্যাপারেও কিতাবের শুরুতে বিস্ত রিত আলােচনা করেছি। তাই বুঝা গেল যে ইমাম দায়লামী (রহ.) উক্ত বিষয়টির তিনটি সূত্র বর্ণনা করেছেন। এ পর্যন্ত আমি অধম তিনটি সূত্র আলােচনা করেছি। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ থেকে একটি হাদিস নিয়েছেন।যা উল্লেখিত প্রথম বর্ণনার মতই। হাদীস টি নিম্নরুপঃ

صلاة بلا عمامة، وجمعة يامة ثغيل سبعين جبنة بلا عمامة
-“নফল অথবা ফরয নামাজে পাগড়ী পড়ে নামাজ পড়া পাগড়ীবিহীন হতে ২৫ গুন উত্তম,আর পাগড়ী পরে এক জুমা পাগড়ীবিহীন ৭০ জুমা থেকে উত্তম।” তাই এই সনদটি গ্রহনযােগ্য,ইবনে উমরের ছেলে হযরত সালেম (রা.) এ হাদিসটি বর্ণনাকারী।
* ইবনে আসাকির,তারিখে দামেস্ক : ৩৭/৫৫ পৃহাদিস : ৪০১৯,* শায়খ ইউসুফ নাৰহনী,
* শায়খ ইউসুফ নাৰহনী, ফাতহুল কাবীর,১৮৮ পৃ.হাদিসঃ৭৩২৮,
* মুত্তাকী হিন্দী,কানযুল উম্মাল, ১৫/০৬. হাদিস : ৪১১৩৯
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Tuesday, April 9, 2019

মসজিদে দুনিয়াবী কথাবার্তা বললে, চল্লিশ বছরের নেক আমল বরবাদ।


মতিউর রহমান কৃত ‘প্রচলিত জাল হাদিস' বইয়ের ১২৬ পৃষ্ঠায় লিখেছে “এটা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস নয় বরং লােকমুখে হাদিস।" তাছাড়া হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ২৪০-২৪১পৃষ্ঠায়ও (চতুর্থ প্রকাশ) অনুরূপ বক্তব্যের সমর্থন দিয়েছেন।
মসজিদে বসে দুনিয়াবী ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবলা হারাম; এ কথাটি সত্য। বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা দ্বারা এ বিষয়টি সঠিক হিসেবে প্রমাণিত। মসজিদ তৈরীর উদ্দেশ সালাত আদায়,আল্লাহর যিকির, ইত্যাদি কাজের জন্য। এ জন্যই হযরত আনাস (
এ জন্যই হযরত আনাস (রা) হতে বর্নিত,রাসুল (দ) বলেন,"এগুলাে শুধু আল্লাহর যিকির,সালাত ও কুরআন তিলাওয়াতের জন্য"।
১ বায্যার,আল-মুসনাদ, ১৩/৭৮পৃ.হাদিস : ৬৪২৬,
২ মুসলিম,আস-সহিহ,১/২৩৬পু, হাদিস:২৮৫,
৩ তাহাভা, শরহে মুশকিলুল আছার, ১২/৫৩২পৃ. ও ১/১৩পৃ. হাদিসঃ১০,
৪ বায়হাকী, সুনানে সুগরা, ৪/১২৬ হাদিস:৩২৩৬,
৫ সুনানে কোবরা,১০/১৭৬পৃ. হাদিস, ২০২৬৪,ও 

উপরক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেল মসজিদ দুনিয়াবী কথা বলার স্থান নয় মিশকাতুল মাসাবীতে ‘বাবুল মাসাজিদ' অধ্যায়ে হযরত হাসান বসরী (র) হতে বর্ণিত রাসূল (দ.) ইরশাদ ফরমান
وعن الحسن مرسلا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ياتي على الناس زمان يكون حديثهم في مساجدهم في أمر دنياهم. فلا تجالسوهم فليس إلي فيهم حاجة» . رواه البيهقي في شعب الإيمان
" -"ওহে লােকেরা, শুন! এমন এক যমানারও আগমন ঘটবে যখন মানুষেরা মসজিদে তাদের দুনিয়াবী কথাবার্তা বলবে। যখন এ ধরনের যামানা এসে যাবে, তখন তােমরা তাদের সাথে বসিও না। মহান আল্লাহ এহেন লােকদের থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী।"
১ বায়হাকি,শুয়াবুল ঈমান:8/৩৮৭পৃ.হাদিস:২৭০১২ 
২ খতিব তিবরিযী : মিশকাত : কিতাবুল মাসাজিদ : ১/১৫৬ পূ, হাদিস : ৭৪৩
৩ মােল্লা আলী কারী: মিরকাত : কিতাবুল মাসাজিদ : ২/১৪০ পূ, হাদিস: ৭৪৩
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ياتي على الناس زمان يحلقون في مساجدهم وليس
همئهم إلا الدنيا ليس لله فيهم حاجة فلا تجالوهم» هذا حديث صحيح যে الإسناد ولم يخرجاه "[التعليق - من القيصر الذهبى -“হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (দ)বলেছেন মানুষের মধ্যে এমন এক সময় আসবে,যখন তারা তাদের মসজিদ গুলােতে বৃত্তাকারে বসবে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হবে দুনিয়া। এদের মধ্যে আল্লাহর কোন প্রয়ােজন নেই। তােমরা এদের সাথে বসবে না। মােম হাকিম নিশাপুরী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।"
১ মুফতি আমিমুল ইহসানঃফিকহুস সুনানি ওয়াল আছার:১/২৮৩পৃ.হাদিস:৭৯২
২ হাকেম নিশাপুরী, আল সু দিরাক, ৪/৩৫৭পৃ. হাদিস,৭৯১৬,
৩ ইমাম যাহাবী, তালখিছ এছে হাকেমের সাথে সহিহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
عن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى عليه وسلم: «سيكون في أخد الزمان قوم يكون حديثهم في مساجدهم ليس لله فيهم حاجة»
-“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (দ)বলেছেন,শেষ যমানায় কিছু মানুষ এরূপ হবে যে, তাদের কথাবার্তা তাদের মসজিদ গুলাের মধ্যে হবে।এদের মধ্যে আল্লাহর কোন আবশ্যকতা নেই। ইবনে হিব্বান তার আস্- সহিহ গ্রন্থে হাদিসটি  বর্ণনা করেছেন।
১ মুফতি আমিমুল ইহসান ঃ ফিকহুস সুনানি কাবির ওয়াল আছার; ১/২৮৩ পূহাদিসঃ৭৯৩,
২ ইমাম হায়সামী, মাওয়ারি-যামান ঃ ২/৮-৯পৃ.
৩ তাবরানী, মুজামুল কাবীর, ১০/১৯৮পৃ. হাদিস : ১০৪৫২,
৪ আৰু নুঈম হুলিয়াতুল আওলিয়া, ৪/১০৯ পৃ.
৫ ইবনে হিব্বান, আস্-সহিহ, ১৫/১৬৩,
৬ আদি, আল-কামিল ২৪৯৩.
শুধু তাই নয় আল্লামা মােল্লা, আলী কারী বলেন, ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম (রহ.) তার শরহে হেদায়ায় বলেন,মসজিদে বৈধ কথাবার্তা বলাও মাকরুহে তাহরীম, আর তা নেক আমল খেয়ে ফেলে বলে উল্লেখ করেছেন। (মােল্লা আলী কারী,মিরকাত: ২/৪১৮, হাদিস:৭৪৩) শুধু তাই নয় ইমাম নাওয়াভী বলেন মসজিদে জোরে ইলম আলােচনা বা অন্যান্য কথা বলা মাকরুহে তাহরীমী (মিরকাত,২/৪১৯পৃহাদিস:৭৪৪) আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী উল্লেখ করেছেন,ইমাম মালেক কে প্রশ্ন করা হলাে যে মসজিদে জোরে ইলম আলােচনা করা সম্পর্কে অত:পর তিনি বলেন এই ইলম শিক্ষায় এবং অন্যান্য কাজে কোন নেকি নেই। (মিরকাত,২/৪১৯পৃ.হাদিস:৭৪৪)। | দেখুন আমাদের দেশে কিছু লােক রয়েছে যারা দ্বীনের দাওয়াতের নাম দিয়ে মসজিদকে নিজের ঘরের মত বাসস্থান বানিয়ে কথাবার্তা বলার স্থান বানিয়ে নিয়েছে। এমন লােকদের থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব যা উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়। বিস্তারিত  জানার জন্য আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষাগুরু আল্লামা মুফতি আলী আকবার সাহেব (মু.জি.আ.) এর "প্রচলিত তাবলীগ জামাতের স্বরূপ উন্মােচন" বইটি পড়ুন। আশা করি বুঝে আসবে। এখন আসুন দেখি চল্লিশ বছরের হাদিস কোথাও আছে। কিনা।
আমরা প্রথমে বলবাে কোন কিতাবে নেই বলা জ্ঞান শূন্যতার পরিচায়ক এবং একটি হাদিসকে অস্বীকার করার নামান্তর। যেমন উসূলে ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব। নুরুল আনওয়ার এর লেখক আল্লামা শায়খ আহমদ মােল্লা জিওন (র) স্বীয় তাফসীরে আহমদিয়াতে  এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখেন- মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা অবৈধ। তারপর এ হাদিস শরীফ ব্যক্ত করেন।
قال النبي عليه الصلوة و السلام من تكلم بكلام الدنيا في خمسة مواضع احبط الله تعالى منه عبادة اربعين سنة الأولى في المسجد و الثاني في تلاوة القران و الثالث في وقت الأذان و الرابع في مجلس العلماء و الخامس في زيارة القبور.
“নবী করীম (ঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ জায়গায় দুনিয়াবী কথা বলবে আল্লাহ তা'য়ালা তার চল্লিশ বছরের (নফল) ইবাদত নষ্ট করে দিবেন, এক মসজিদ, দুই. কুরানুল কারীম তিলাওয়াতের কালে, তিন, আযানের সময়, চার, জ্ঞানী আলিমদের মজলিসে, পাঁচ, কবরে যিয়ারতকালে।”
আল্লামা মােল্লা জিওন : তাফসীরে আহমদিয়া, পৃ-৭২৪
অতএব প্রমান হলাে এই হাদিস কিতাবে হাদিস হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে। যদিও হাদিস দ্বঈফ হউক তারপরও উক্ত হাদিস হতে তাকওয়া অর্জন করতে হবে। তারা ইবনে তাইমিয়ার অনুসারী কাযি শাওকানীর দলীল গ্রহণ করেছে অথচ তার ফাওয়াইদুল মাওদুআতে ১/২৫ পৃষ্ঠা (দারূল কুতুব ইলমিয়্যাহ,বয়রূত, লেবানন মুদ্রিত) চল্লিশ বছরের ইবাদত নষ্ট হবার কথা উল্লেখ নেই,বরং সারা জিবনের আমল নষ্ট হয়ে যাবে উল্লেখ রয়েছে। যেমন তার বর্ণনার ধরন হলাে: অর্থাৎ যে ব্যক্তি মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলবে আল্লাহ তায়ালা তার সব আমল বরবাদ করে দিবে। ইমাম সাগানী (র) উক্ত হাদিসকে জাল বা বানােয়াট বলেছেন।
শাওকানী:ফাওয়াইদুল মাওজুআত, ১/২৫
এখানে দুটি বিষয় পাওয়া গেল ১. কাযি শাওকানীর নিজস্ব কোন মতামত নেই। ২. সে ইমাম সাগানীর রায় উল্লেখ করেছেন আর ইমাম সাগানী চল্লিশ বছরের আমল বরবাদ হবে হাদিসকে জাল বলেননি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং তার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ। তিনি সমস্ত ইবাদত নষ্ট হয়ে যাবে তাকে জাল বলেছেন। মােল্লা আলী  কারীও সব আমল বরবাদ হবে বলে উক্ত হাদিসকে জাল উল্লেখ করেছেন।
মোল্লা আলী ক্বারী : মওজুআতুল কবীর : ১১৭ পৃষ্ঠা


উক্ত হাদিসটি যেহেতু বিখ্যাত উসূল বিদগণ গ্রহণ করেছেন সেহেতু বলা যায় উসূলবিদগণ মওদু হাদিস বর্ণনা হতে বিরত থাকাই তাদের নীতি। অবশ্যই তার নিকট উক্ত হাদীসের সনদ জানা রয়েছে।

Thursday, April 4, 2019

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাম শুনে চুমু খাওয়ার হাদিসের আলােচনা। ( ১)


হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ৩৬৬ পৃষ্ঠায় এবং প্রচলিত জাল হাদিস যা জুনায়েদ বাবু নগরী লিখেছেন তার বইয়ের ১১৭ পৃষ্ঠায় হযরত আবু বকর (রা.) রাসূল (দ.)'র নাম শুনে চুমু খাওয়ার হাদিসকে জাল প্রমাণ করার অনেক অপচেষ্টা চালিয়েছেন। বিভ্রান্তিকর আরেক পুস্তক প্রচলিত জাল হাদিস (যা মাওলানা মতিউর রহমান এর লিখিত) ১২২ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিসটিকে জাল বলে প্রমাণ করার অপ্রচেষ্টা করেছেন। এ হাদিসটিকে ড.আহমদ আলী তার 'বিদআত' পুস্তুকের প্রথম খন্ডেও জাল প্রমান করতে অনেক অপচেষ্টা করেছেন। এ হাদিসটির বিরােদ্ধে অপপ্রচারের জন্য বাংলা ভাষায় অনেক পুস্তক রচিত হয়েছে তাদের সকলের নাম উল্লেখ করার প্রয়ােজন মনে করি না।

আমি এ ব্যাপারে লিখার আগে দায়লামীর হযরত আবু বকর (রা)-এর হাদিস ছাড়াও অন্য হাদিস দ্বারা শুরু করতে চাই। কারণ ভ্রান্তবাদীদের দায়লামীর হাদিসের ব্যাপারে তাদের সকল মাথা ব্যথা এবং কীভাবে সেটাকে জাল বানানাে যায় তাদের চিন্তাধারা।
হাদীস ১

حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر، ثنا أبو بكر الدينوري المفسر، ثنا محمد بن ایوب العطار، ثنا عبد المنعم بن إدريس، عن أبيه، عن جده وهب قال: " كان في بني إسرائيل رجل عصي الله مائتي سنة ثم مات، فأخذوا برجليه فألقوه على مزبلة، فأوحى الله إلى موسى عليه السلام ان اخرج فصل عليه قال: يا رب، بنو إسرائيل شهدوا أنه عصاك مائتي سنة، فأوحى الله إليه: هكذا كان، إلا أنه كان كلما نشر التوراة ونظر إلى اسم محمد صلى الله عليه وسلم قبله ووضعه على عينيه، وصلى عليه، فشكرت ذلك له، وغفرت ذنوبه، وزوجته سبعين حوراء "
-“হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রা) বলেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত পাপী, যে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী করেছে। যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন স্থানে নিক্ষেপ করল, যেখানে আবর্জনা ফেলা হতাে। তখন হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি ওহী এলাে যে, লােকটিকে ওখান থেকে তুলে যেন তারা ভালভাবে জানাযার নামায পড়ে তাকে দাফন করা হয়। হযরত মুসা (আঃ) আরজ করলেন, হে আল্লাহ! বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লােকটি ২০০ বছর পর্যন্ত তােমার নাফরমানী করেছিল। ইরশাদ হলাে, হ্যা, তবে তার একটি ভাল অভ্যাস ছিল। যখন সে তাওরাত শরীফ তেলাওয়াত করতাে, যতবার আমার হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ) এর নাম মােবারক দেখতো তখন সেটা ততবার চুম্বন করে চোখের উপর রাখত এবং তার প্রতি দুরূদ পাঠ করত। এজন্য আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর জন হুর স্ত্রী স্বরূপ তাকে দান করেছি।”
ক, ইমাম আবু নঈম : হুলিয়াতুল আউলিয়া ঃ ৩/১৪২ পৃ.খ, আল্লামা বুরহানুদ্দীন আলভী : সিরাতে হালবিয়্যাহ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা-৮৩।
গ, আল্লামা শফী উকাড়ভী : জিকরে জামীল : ৫৪ পৃষ্ঠা।
ঘ, জালালুদ্দীন সুয়ুতি ঃ খাসায়েসুল কোবরা :১/৩০,হাদিস : ৬৮, মাকতুত-তাওফিকহিয়্যাহ, বয়রুত।
ঙ. আল্লামা আবদুর রহমান ছাফুরী ঃ নুযহাতুল মালিস : ২/১৪২ পৃ.
চ, আল্লামা দিয়ার বকরী : আল খামীস ফি আহওয়ালে আনফাসে নাফীস : ১/২৮২ পূ.
খ, আল্লামা বুরহানুদ্দীন আলভী : সিরাতে হালবিয়্যাহ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা-৮৩।
গ, আল্লামা শফী উকাড়ভী : জিকরে জামীল : ৫৪ পৃষ্ঠা।
ঘ, জালালুদ্দীন সুয়ুতি ঃ খাসায়েসুল কোবরা :১/৩০,হাদিস : ৬৮, মাকতুত-তাওফিকহিয়্যাহ, বয়রুত।
ঙ. আল্লামা আবদুর রহমান ছাফুরী ঃ নুযহাতুল মালিস : ২/১৪২ পৃ.
চ, আল্লামা দিয়ার বকরী : আল খামীস ফি আহওয়ালে আনফাসে নাফীস : ১/২৮২ পূ.

উক্ত হাদীসের ব্যাপারে কোনাে মুহাদ্দিস মন্তব্য করেননি। তাদের নীরবতা পালন দ্বারা বুঝা গেল হাদিসটি সহিহ বা বিশুদ্ধ কারণ তার ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিসের বিরােধীতা পাওয়া যায়নি।হাদীস ২
এ ব্যাপারে হযরত আদম (আলাইহি স্সাল্লাম) এর আমলঃ
হাদীস ২
এ ব্যাপারে হযরত আদম (আলাইহি স্সাল্লাম) এর আমলঃ

বিখ্যাত মুফাসির আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (র) তার উল্লেখযােগ্য তাফ তাফসীরে রুহুল বায়ানে’ লিখেন,
وفي قصص الأنبياء وغيرها أن آدم عليه السلام اشتاق الى لقاء محمد صلی الله عليه وسلم حين كان في الجنة فاوحى الله تعالي اليه هو من صلبك ويظهر في اخر الزمان فسال لقاء محمد صلى الله عليه وسلم حين كان في الجنة فاوحى الله تعالي اليه فجعل الله النور المحمدي في إصبعه المسبحة من يده اليمنى فسبح ذلك النور فلذلك سميت تلك الإصبع مسبحة كما في الروض الفائق. او اظهر الله تعالی اعمال حبيبه في صفاء ظفری ابهامية مثل المراة فقبل آدم ظفری ابهاميه ومسح  على عينيه فصار اصلا لذريته فلما أخبر جبرائيل النبي صلى الله عليه وسلم بهذه القصة قال عليه السلام (من سمع اسمي في الأذان فقبل ظفری ابهاميه ومسح على عينيه لم يعم ابدا
-“কাসাসুল আম্বিয়া কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ) জান্নাতে অবস্থানকালে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (দ)'র সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অতঃপর আল্লাহ তা'য়ালা তার নিকট ওহী প্রেরণ করেন যে, হে আদম, তিনি তােমার পৃষ্ঠ হতে শেষ যামানায় প্রকাশ হবেন। তা শুনার পর তিনি জান্নাতে অবস্থানকালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন। বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা ওহী প্রেরণ করলেন যে, নূরে মুহাম্মদী (দ) তােমার ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলীর মধ্যে স্থানান্তরিত করেছি, তখন সে অঙ্গ হতে তাসবীহ পাঠ আরম্ভ হলাে। এজন্যই এই আঙ্গুলকে তাসবীহ পাঠকারী আঙ্গুল বলা হয়। যেমন রওযাতুল ফায়েক' কিতাবেও বর্ণিত আছে, অথবা আরেক বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা আপন হাবীব (দ) এর সৌন্দর্য প্রকাশ করলেন দুই বৃদ্ধাঙ্গুলীর উপর যেভাবে আয়নাতে দেখা যায়। তখন আদম (আঃ) দুই বৃদ্ধাঙ্গুলে চুম্বন করে স্বীয় চোখের উপর মালিশ করলেন। এটি দলীল হিসেবে প্রমাণিত হলাে যে, তাঁর সন্তানাদীর জন্য। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) এই ঘটনা হুযুর (দ) কে জানালেন। হুযুর (দ) বললেন, যেই ব্যক্তি আযানের মধ্যে আমার নাম মােবারক শুনে দুই বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন করবে আর চোখে মালিশ করবে, সে কখনাে অন্ধ হবে না।”
ক.আল্লামা ইসমাঈল হাকীঃ তাফসীরে রুহুল বয়ান : ৭/২২৯; সূরা মায়েদা আয়াতঃ ৫৭ নং এর ব্যা"খ.আবদুর রহমান হাফুরী, নুযহাতুল মাযালিস,খ৭৪পৃ
খ.আবদুর রহমান হাফুরী, নুযহাতুল মাযালিস,খ৭৪পৃ
হাদীস ৩
হযরত খিযির (আঃ) কর্তৃক রাসূল (দ) এর নাম শুনে চুমু খাওয়ার আমল বর্ণিত ঃ

ما أورده ابو العباس احمد ابن أبي بكر الرداد اليماني المتصوف في كتابه "موجبات الرحمة وعزائم المغفرة" بسند فيه مجاهيل مع انقطاعه عن الخضر عليه السلام أنه من قال حين يسمع المؤذن يقول أشهد أن محمد رسول الله: مرحبا بحبيبي وقرة عيني محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، ثم يقبل إبهاميه يجعلهما على عينيه لم يرمد ابدا، -
-“ইমাম আবু আব্বাস আহমদ বিন আবি বকর ইয়ামানী (স) তার লিখি উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ এর মধ্যে হযরত খিযির (আঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে 'আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসূলুল্লাহ' শুনার পর (মারহাবা বি হাবিবি ওয়া কুররাতাে আইনী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ) বলবে অতঃপর স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে, তাহলে তার চোখে কখনও ব্যর্থ হবে না এবং সে কোন দিন অন্ধ হবে না।”
ক. আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ১/৩৮৩ : হাদিস : ১০২১ খ, আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৭০ : হাদিস : ২২৯৬
গ. আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : মওদুআতুল কবীর : ১০৮ পু
গ. আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী ঃ জামাল হক। ২৪৬ প
খ, আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৭০ : হাদিস : ২২৯৬
গ. আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : মওদুআতুল কবীর : ১০৮ পু
গ. আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী ঃ জামাল হক। ২৪৬ প

এখন আলােচ্য বিষয় হলাে হযরত আবু বকর (রা) হাদিস পর্যালােচনা এবং এ হাদিসের ব্যাপারে ইমাম মুহাদ্দিসগণের অভিমত আলােচনা করা।
হযরত আবু বকর (রা) এর আমল এবং সনদ তাত্ত্বিক বিশ্লেষন
حديث أبي بكر الصديق أنه لما سمع قول المؤذن أشهد أن محمد رسول الله
هذا، وقبل باطن الأنملتين السابتين ومسح عينيه، فقال صلى الله عليه وسلم: من فعل مثل مافعل خليلي فقد حلت عليه شفاعتي، " رواه الديلمي المسند ردوس
-“হযরত আবু বকর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মুয়াযিনকে ‘আশহাদু আ মুহাম্মাদার' রাসূলুল্লাহ বলতে শােনলেন, তখন তিনিও তা বললেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খেয়ে তা চোখে বুলিয়ে নিলেন। তা দেখে রাসূল (দঃ) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর ন্যায় আমল করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ বৈধ হয়ে গেল।”
ক, ইমাম আবদুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসান ঃ ৩৮৩ : হাদিস : ১০২১ খ, আল্লামা ইমাম আযলুনী : কাশফুল খাফাঃ ২২৫৯ : হাদিস : ২২৯৬
গ, আল্লামা মােল্লা আলী কারী । আসরারুল মার: ৩১২ পৃষ্ঠাঃ হাদিস : ৪৫৩
গ, আল্লামা ইমাম তাহতাভী : মারাকিল ফালাহ ঃ ১৬ পৃ. : কিতাবুল আযান।
খ, আল্লামা ইমাম আযলুনী : কাশফুল খাফাঃ ২২৫৯ : হাদিস : ২২৯৬
গ, আল্লামা মােল্লা আলী কারী । আসরারুল মার: ৩১২ পৃষ্ঠাঃ হাদিস : ৪৫৩
গ, আল্লামা ইমাম তাহতাভী : মারাকিল ফালাহ ঃ ১৬ পৃ. : কিতাবুল আযান।

. আল্লামা শাওকানী : ফাওয়াহিদুল মওদুআত : ১/৩৯ পৃ. চ, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান : ৭/২২৯ পু।
ছ, আল্লামা তাহের পাটনী : তাযকিরাতুল মওদুআত : ৩৪ পৃ
জ, আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়তী : লাআলীল মাস আ : ১৬৮-১৭০ পৃ
ঝ, আল্লামা আব্দুল হাই লাখনৌভী : আসারুল মার আঃ ১৮২।
ঞ, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী : সিল..ঘঈফাহ : ১১০২ পূ, হাদিস : ৭৩
চ, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান : ৭/২২৯ পু।
ছ, আল্লামা তাহের পাটনী : তাযকিরাতুল মওদুআত : ৩৪ পৃ
জ, আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়তী : লাআলীল মাস আ : ১৬৮-১৭০ পৃ
ঝ, আল্লামা আব্দুল হাই লাখনৌভী : আসারুল মার আঃ ১৮২।
ঞ, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী : সিল..ঘঈফাহ : ১১০২ পূ, হাদিস : ৭৩

উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে গ্রহণযােগ্য মুহাদ্দিসগণের মতামত আমি তুলে।যারা হাদিসটি সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।
১. ইমাম সাখাভীর অভিমত :
আল্লামা ইমাম সাখাভী (র) হযরত আবু বকর (রা) এর বর্ণিত হাদীস সংকলন করে বলেন, "لا يصح"এ হাদিসটি সহিহ নয়।”
* আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ১/৩৮৪ : হাদিস : ১০২১
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, দেখুন ইমাম সাখাভী (র) কী বললেন, আর প্রচলিত জাল হাদিস (মাওলানা মতিউর রহমান এর লিখিত) ১২২ পৃষ্ঠায় চরম মিথ্যা  লিখেছেন যে, ইমাম সাখাভী (র) নাকি বলেছেন, “এটি প্রমাণিত নয়"। দেখুন ইমাম সাখাভীর নামে বাংলা ভাষায় কী ধরনের মিথ্যাচার করেছে। আর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বইয়ের ৩৬৬ পৃষ্ঠায় বাংলায় কিছু ইমামদের নাম দিয়ে হাদিসটিকে জাল বলে চালিয়ে দেবার অহেতুক অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
আমি কিতাবের ভূমিকায় আলােচনা করেছি যে, হাদিসটি সহিহ নয় বললে, “হাসান হাদিস বুঝায়। এমনকি মােল্লা আলী ক্বারী (র) বলেন,
لا يصح لا ينافى الحسن

-“কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য হাদিসটি সহিহ নয়-তা দ্বারা হাদিসটি হাসান" হওয়াতে কোন অসুবিধা বা নিষেধ করে না।"
* আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : আসারুল মারফুআ-২৩৬ পৃ
ইতিপূর্বে আমি ইমাম সাখাভীর বক্তব্যও পেশ করেছি।
বুঝা গেল, হাদিসটি কমপক্ষে "হাসান" হাদিস যা দলীল হিসেবে দাড় করানাের গ্রহণযােগ্যতা রাখে।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর
হাদিসটি সহিহ নয়' বলতে কী বুঝায় এ' সম্পর্কে হাদীসের নীতিমালায় কিতাবের ভূমিকায় আমি বিস্তারিত আলােচনা করে এসেছি দেখে নেয়ার অনুরােধ রইল।