Thursday, July 4, 2019

হযরত যাবের (রা) এর নুরের হাদিস সম্পর্কে আলােচনা

হযরত যাবের (রা) এর বর্ণিত নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নুরের হাদিস,সম্পর্কে আলােচনা
প্রচলিত জাল হাদিস" (যা মাওঃ মতিউর রহমানের লিখিত) বই লেখক দলীল বিহীন ভাবে দাবী করেছেন যে, হযরত যাবের (রা) হাদীস জাল। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি তার দাবীর স্বপক্ষে কোন দলীল উপস্থাপন করতে পারেননি। আর হাদিস বর্ণনা করেছেন বিকৃতি করে যাতে জাল বুঝাতে এবং প্রমাণ করতে সহজ হয়। যা তিনি অন্যান্য হাদীসের বেলায়ও করেছেন। হাদীসের নামে জালিয়াতি' বইয়ের ২৫৮ পৃষ্ঠা হতে ২৬২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত জাবের (রা) হাদীস সম্পর্কে আলােচনা করে তা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য কোন গ্রহণযােগ্য দলীল প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পেরে দুটি মিথ্যা দলীল উপস্থাপন করেছেন।উক্ত বইয়ের ২৫৯ পৃষ্ঠায় আরাে লিখেছেন, 'সহিহ দ্বঈফ এমনকি মওদু বা মিথ্যা সনদেও এই হাদিসটি কোন হাদীসের গ্রন্থে সংকলিত হয়নি।' লেখক এক চরম মিথ্যা এবং মুর্খতার পরিচয় দিয়েছেন। আছে নাকি নেই তার জবাব আসছে। উক্ত বইয়ের ২৫৯ পৃষ্ঠায়, অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে লিখেন- “হাদিস নামের এই বাক্যটি খুঁজে দেখুন, একটি হাদিস গ্রন্থেও পাবেন না।"
উক্ত বইয়ের ২৫৯ পৃষ্ঠায়, অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে লিখেন- “হাদিস নামের এই বাক্যটি খুঁজে দেখুন, একটি হাদিস গ্রন্থেও পাবেন না।"
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! ইতিপূর্বেই আমি উক্ত হাদীসের উপরে বিস্তারিত । আলােকপাত করেছি, এমনকি ১০২টিরও বেশি দলীল দিয়েছি। দেখে নেয়ার জন্য অনুরােধ রইলাে।

→ একই পৃষ্ঠায় আরাে উল্লেখ করেছেন, “এমনকি সনদবিহীন সিরাতুন্নবী, ইতিহাস, ওয়াজ বা অন্য কোন গ্রন্থেও তা পাওয়া যায় না।" সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! কোন গ্রন্থে আছে বা নেই সে আলােচনাও আমি করেছি, তা দেখার অনুরােধ রইলাে।
→ ২৫৯ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ আছে, “যতটুকু জানা যায়, ৭ম হিজরী শতকের আলিম মহিউদ্দিন ইবনু আরাবী সর্বপ্রথম এই কথা গুলােকে হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেন।”

লক্ষ্য করুন! উক্ত বইয়ের লেখক ড, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের মিথ্যা ও ধোঁকাবাজি,এত বড় বুযুর্গ ওলীয়ে কামেল আরিফ বিল্লাহ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী উপর কি রকম জঘন্য মিথ্যারােপ করেছেন।
হযরত মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী (র) এর কোন গ্রন্থে হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা তিনি উল্লেখও করেননি। তার কারন হলাে তিনি তার নামে এটি সাজিয়েছেন।
উক্ত বইয়ের ২৫৯ পৃষ্ঠায় মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী (র) এর সম্পর্কে মন্তব্য গিয়ে লিখেন, “বিশেষত মুজাদ্দিদে আলফে সানী সিরহিন্দী (র) ইবনুল আরাবী এর সকল জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনার প্রতিবাদ করেছেন বারংবার। কখনাে নরম ভাষায়, কখনাে কখনাে কঠোর ভাষায়। মাকতুবাত শরীফ : ১/১ পৃ.মাকতুবাত নং : ৩১)।
প্রিয় পাঠক! এটা একটি চিন্তার বিষয়, তিনি যে দলীল গ্রহণ করেছেন তাও মিথ্যা। আমার কাছে মাকতুবাত শরীফ আছে। তিনি দলীল দিয়েছেন প্রথম খণ্ড প্রথম পষ্ঠার ৩১ নং মাকতুবাত, এটা কী করে সম্ভব, প্রথম পৃষ্ঠায় আবার ৩১ নং মকতুবাত কী হয়? লেখার সময় মনে হয় হাদিসের নামে জালিয়াতি বইয়ের লেখকের মাথা ঠিক ছিল না অথবা তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
এখন সম্মানিত পাঠকের সামনে উপস্থাপন করবাে ইমাম মুজাদ্দেদে আলফেসানী (র) কী তার বিরােদ্ধে বলেছেন নাকি তার কথার সমর্থন জানিয়েছেন। রাসূল (দ) এর নূরের সৃষ্টি সম্পর্কে তিনি মাকতুবাত শরীফের ৩য় খণ্ড ২৩১ পৃষ্ঠায় বলেন
حقیقت محمد عليہ من الصلوة افضلها ومن التسليمات اكملها کہ ظهور اول است وحقیقتہ الحقائق است باں معنی کہ حقائق دیگر چہ حقائق انبیاء کرام وچہ حقائق ملانك عظام علیہ الصلوة والسلام کا اظلام اند مرا او واجل حقائق است قال علیہ الصلوة السلام أول ما خلق الله نوری وقال علیہ الصلوة والسلام خلقت من نور الله والمؤمنون من نوری۔
-“হাকিকতে মুহাম্মদ (দ) বিকাশের দিক দিয়ে সর্বপ্রথম এবং সকল হাকিকতের হাকীকত। সমস্ত আম্বিয়া (আঃ) সম্মানিত সকল ফেরেশতাগণ হুযুর (জ)-এর হাকীকতের নির্যাস। রাসূলে খােদা (দ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'য়ালা সবপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হল আমার নূর মােবারক। আরও বলেছেন আমি আল্লাহর নূর হতে আর সমস্ত মুমিনগণ আমার নুর হতে সৃষ্টি।”

* মুজাদ্দেদে আলফেসানী : মকবুতবাত শরীফ : ৩/২৩১ পৃ য, আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ২২০৮ পৃ).
অতএব, প্রমাণিত হলাে তার বর্ণনা মুতাবেক শায়খ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীর আকিদা ও নুরের হাদিস প্রচারকে মুজাদ্দেদে আলফেসানী (র) বিরােধিতা তাে নয় স্বয়ং সমর্থন করেছেন। তাই আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের বক্তব্যে মিথ্যা ও ধােকাবাজীর সংমিশ্রন রয়েছে বলে বুঝা গেল। সে মূল কিতাবের ইবারত দেয়নি যাতে করে শােকাবাজী সহজে করতে পারে। সাধারন মানুষতাে মূল কিতাব গবেষণা করে না।ফলে তাদের ধোকায় বিভ্রান্তিতে পতিত হচ্ছে। তাই আমি তাদেরকে আমার এই কিতাবের মাধ্যমে সতর্ক করছি এবং বিভ্রান্তিতে যেন না পড়ে সে জন্য ধোঁকাবাজদের বই পড়া থেকে বিরত থাকার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
এখন হযরত যাবের (রা) এর হাদিস বিস্তারিত আলােচনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। হাদিসটি হল -

عن جابر قال: قلت يا رسول الله بأبي أنت وأمي أخبرني عن أول شيء خلقه قتل الأشياء، فقال: يا جابر! إن الله خلق قبل الأشياء نور نبيك من نوره، فجعل النور يدور بالقدرة حيث شاء الله، ولم يكن في ذلك الوقت لوح ولا قلم و لا جنة ولا نار ولا ملك ولا سيماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جني ولا الإنس. فلما أراد الله تعالى أن يخلق الخلق قسم ذلك النور اربعة اجزاء، فخلق من الجزء الأول القلم، ومن الثاني اللوح، ومن الثالث العرش. ثم قسم الجزء الرابع اربعة اجزاء، فخلق من الجزء الأول حملة العرش، ومن الثاني الكرسي، ومن الثالث باقي الملائكة، ثم قسم الجزء الرابع اربعة اجزاء، فخلق من الأول السماوات، ومن الثاني الأرضين ومن الثالث الجنة والنار، ثم قسم الرابع أربعة أجزاء، فخلق من الأول نور ابصار المؤمنين، ومن الثاني نور قلوبهم- وهي المعرفة بالله- ومن الثالث نور انسهم، وهو التوحيد لا إله إلا الله محمد رسول الله
-“হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা) বলেন, আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ(দ) আমার মাতা পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ। আমাকে বলুন, আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর পূর্বে কি সৃষ্টি করেছেন? হুযুর (দ) ফরমালেন, হে যাবের। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর পূর্বে তাঁর নূর হতে তােমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর ঐ নূর খােদায়ী কুদরতে যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা ভ্রমণ করতে থাকে। তখন লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, আসমান, যমীন, সূর্য, চন্দ্র, দানব, মানব কিছুই ছিল না। অতঃপর যখন আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য মাখলুককে সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন তখন ঐ নূরকে চারভাগে ভাগ করলেন, প্রথমভাগ দ্বারা কলম, দ্বিতীয়ভাগ দ্বারা লওহে মাহফু, তৃতীয়ভাগ দ্বারা আরশ সৃষ্টি করলেন। চতুর্থ ভাগকে আবার চারভাগ করলেন, প্রথম ভাগ দ্বারা আরশবহনকারী ফেরেশতা, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা কুরসি, তৃতীয় ভাগ দ্বারা অপরাপর সকল ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন, চতুর্থ ভাগকে আবার চারভাগ করলেন। প্রথমভাগ দ্বারা সপ্ত আসমান, দ্বিতীয়ভাগ দ্বারা সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দ্বারা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন। চতুর্থ ভাগকে আবার চারভাগ করলেন। প্রথমভাগ দ্বারা সৃষ্টি করলেন মুমিনদের চোখের জ্যোতি, দ্বিতীয়ভাগ দ্বারা তাদের কলবের নূর, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর মা'রেফাত লাভ করে, চতুর্থ ভাগ দ্বারা সৃষ্টি
করলেন "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”(দ)
হাদিসটির বাকী অংশ পরে উল্লেখ করা হবে। এতটুকু পর্যন্ত যারা সহিহ সহকারে বর্ণনা করেছেন তাদের নাম কিতাবের নাম নিম্নে দেওয়া হলঃ
১। ইমাম আব্দুর রায্যাক (দঃ)ওফাত.২১১হি, হাদিসটি তার 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এই তথ্যটি আল্লামা ঈসা মানে হিমইয়ারী (মু.জি.আ.)সংকলিত 'জুযউল মুফকুদ” কিতাৰ হতে সংগ্রহিত।
২। ইমাম বায়হাকী (কঃ) ওফাত.৪৫৮হি স্বীয় প্রসিদ্ধ সিরাত সম্পর্কিত হাদিস গ্রন্থ ‘দালায়েলুন নবুয়ত' এর ১৩ তম খন্ডের ৬৩ পৃষ্ঠা
মাওলানা নুরু হকঃ নূরে মুজাসসাম (দঃ) হতে সংগৃহিত, ই,ফা,বা।
৩। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম কুস্তালানী (র)ওফাত,৯২৩হি। প্রসিদ্ধ সিরাত গ্রন্থ “মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া" এর ১/১৫ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর (র) এর ‘মুসান্নাফ' কিতাবের বরাতে উক্ত হাদিসটি সংকলন করেছেন।

৪। আল্লামা ইমাম যুরকানী (র)ওফাত,১১২২হি, স্বীয় প্রসিদ্ধ সিরাত গ্রন্থ "শরহুল মাওয়াহেব এর ১৮৯ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রায্যাক সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
৫। আল্লামা আব্দুল জলিল (র)নুর নবী (দ) গ্রন্থে হাদীস টি উল্লেখ করেন।
(কম্পোজ এ ৫ নং ক্রমিক বাদ পড়ে।তাই আমি এড করে দিলাম)

৬। আল্লামা আজলুনী (র)ওফাত,১১৬২হি, তার কাশফুল খাফা' এর ১/৩১১ পৃষ্ঠায় হাদিস নং ৮১১ এ আবদুর রাযযাক (র) এর বরাতে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন। আল্লামা আযলুনী আরাে বলেছেন- ইমাম আব্দুর রাযযাক উক্ত হাদিসটি সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। | উক্ত হাদিসকে জাল দাবীকারী আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, মতিউর রহমান এবং জাকারিয়া হাসনাবাদী তাদের বইয়ের অসংখ্য স্থানে কাশফুল খাফা' কিতাব হতে দলীল গ্রহণ করেছেন। তাই তাদেরকে বলতে চাই একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করে কাশফুল খাফা গ্রন্থটি খুলে দেখুন ইমাম আব্দুর রাযযাক (র)'র মুসান্নাফে হাদিসটি আছে কি নেই বলেছেন। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই এই সমস্ত সত্য গোপনকারী। কেননা আল্লাহ বলেন, “তার চেয়ে বড় যালিম কে যে সত্যকে গােপন করে? আল-কোরআন
৭। ইমাম বুরহানুদ্দিন হালবী আশ শাফেয়ী (রহ.) ওফাত,১০৪৪হি স্বীয় সিরাত গ্রন্থ “সিরাতে হালবিয়্যাহ" এর ১/৩৭ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায় সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
৮। আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (র) স্বীয় প্রসিদ্ধ সিরাত। ‘মাদারিজুন নবুয়াত" (ফাসী, মুদ্রণ: মাকতাবা এ নূরিয়্যাহ,করাচী,পাকিস্তান) এ খণ্ডের ৫পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
৯। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভি (রহ.) ওফাত.১৩০৪হি, তার “আছারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআহ" (আমি তথ্যটি মাকতুবাতুল শামেলা থেকে নিয়েছি) ৪২-৪৩ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রাযযাক (সাঃ) এর সনদ সহকারে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন।
পাঠকবৃন্দ। আপনারা লক্ষ্য করুন, প্রচলিত উক্ত তিনটি বইয়ের লেখকগণ অসংখ্য স্থানে তাদের গুরু হিসেবে মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষনােভী সাহেবের উক্ত গ্রন্থ হতে অসংখ্য স্থানে দলীল গ্রহণ করেছেন, কিন্তু উক্ত হাদিসটির বেলায় তারা উক্ত রায়টিকে এবং উক্ত হাদিসটিকে কি গ্রহণ করেছেন? না, বরং সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছেন। তাই আল্লাহ তা'য়ালার নিকট এই সমস্ত সত্য গােপনকারী নামধারী আলেম হতে পানাহ চাই।
১০। আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী (র)ওফাত,১০১৪হি.“আল মাওরিদুর রাভী ফিল মাওলীদিন নবী" গ্রন্থের (মাকতুবাতুল তাওফিকহিয়্যাহ ,কাহেরাহ, মিসর থেকে মুদ্রিত) ২২ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

১১। আল্লামা ইবনে হাজর হায়তামী আল মক্কী (র)ওফাত.৭৯৪হিতার “ফতােয়ায়ে হাদীসিয়্যাহ" গ্রন্থে উক্ত হাদিসটি ইমাম আবদুর রাযযাক(রহ.)'র * প্রথমে তিনি হাদিসটি ৪৪পৃষ্ঠায় (শামেলা) এবং ৩৮০পৃষ্ঠায় সংকলন করেন যা। মুহাম্মদ কারখানা, করাচী, পাকিস্তান হতে প্রকাশিত।
১২। আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী (র) স্বীয় প্রসিদ্ধ সিরাত ৭ “হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামীন” এর ৩২-৩৩ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে
১৩-১৫। আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানী (র) স্বীয় অন্যতম প্রসিদ্ধ “যাওয়াহিরুল বিহার” এর ৩য় খন্ডের ৩৭৭ পৃষ্ঠায় এবং ৩/৩১২ এবং ২/২১৯ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রায্যাক এর সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন
৬। আল্লামা আরেফ বিল্লাহ আবদুল গণী নাবলুসী (র) স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হাদীকাতুন নাদিয়্যাই শরহে আত তারীকাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ” গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৭৫ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রায্যাক (র) এর “মুসান্নাফ” গ্রন্থের বরাতে উক্ত হাদিসটি হযরত যাবের (রা) এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন।

১৭। আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানী (র) স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “আনওয়ারে মুহাম্মাদিয়া” গ্রন্থের ৯ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম আব্দুর রায্যাক সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।
১৮। ইমাম নাওয়াভী (র)ওফাত.৬৭৭হি, স্বীয় বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ “আদ্দুরারুল বাহিয়্যাহ" গ্রন্থের ৪-৮ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর সনদে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
১৯। আল্লামা আহমদ আবদুল জাওয়াদ দামেস্কী (র) স্বীয় সিরাজুম মুনীর গ্রন্থের ১৩-১৪ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর বরাতে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
২০। ইমাম মুহাম্মদ মাহদী আল-ফার্সী সুফী (র)ওফাত.১২২৪হি, তার “দালায়েলুল খায়রাত" গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “মাতৃালিউল মুসাররাত ” এর ২১ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর বরাতে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
২১। আরেফ বিল্লাহ শায়খ আবদুল করিম জলীলী (র) স্বীয় বিখ্যাত গ্রন্থ

الناموس الاعظم والقاموس الأقدام في المعرفة قدر النبي صلى الله عليه و سلم
২৪১ পৃষ্ঠায় ইমাম বায়হাকী (র) এর বরাতে ও ইমাম আবদুর রাযযাক (র) এর বরাতে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
২২। মুহাদ্দিস ইমাম খরপূতী (র) স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “কাসীদাতুশ শাহাদাহ শরহে কাসীদায়ে বুরদাহ" গ্রন্থের পৃষ্ঠা নং ১০০ এ ইমাম আবদুর রাজ্জাক (র) এর বরাত দিয়ে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
২৩। আল্লামা শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (এ) স্বীয় বিখ্যাত গ্রন্থ *মাতে ইলাহিয়্যাহ এর ১৯ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রাযযাক সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।


২৪। আল্লামা ইমাম মাহমুদ আলুসী ( “তাফসীরে রুহুল মায়ানী" তে সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ১৭ পারার ৯ম খন্ডের ১৭৭ পৃষ্ঠায় হযরত যাবের (র) এর সূত্রে উক্ত হাদিস করেছেন।
২৫। আল্লামা কাযি হােসাইন ইবনে মুহাম্মদ দিয়ার বকরী (র) ওফাত | তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “কিতাবুল খামীস ফি আহওয়ালি আনফাসে নাফীস"২০ পৃষ্ঠায় কিছুটা শব্দ পরিবর্তন করে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
২৬। ইমাম ইবনুল হাজ্জ আল মালেকী (দঃ) ওফাত.৭৩৭হি স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “আল-মাদখাল” এর ২য় খন্ডের ৩২ পৃষ্ঠায় (দারুল ইহইয়াউত তুরাস আত আরাবী,বয়রুত,লেবানন হতে প্রকাশিত) উক্ত হাদিসটি ইমাম আব্দুর রায্যাকের সনদে বর্ণনা করেছেন।

২৭। আল্লামা ইবনে হাযার হায়তামী মক্কী (রঃ) ওফাত.৭৯৪হি."শরহে শামায়েল" গ্রন্থের ১/১৪৫ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রায্যাকের বরাতে হযরত যাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারী (রা) হতে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
২৮। আল্লামা শরীফ সৈয়দ আহমদ বিন আব্দুল গণী বিন উমর দামেস্কী (র) তার একাধিক গ্রন্থে শায়খ ইউসুফ নাবহানী (রহ.) তার কিতাবে সংকলন করেছেন।  ২৯। ইমাম আরিফ বিল্লাহ শায়খ আলী দুদাহুল বুসনভী (র) তার خلاصة الأثرগ্রন্থে ইমাম আব্দুর রাযযাক (র) হতে সংকলন করে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

৩০। আরিফ বিল্লাহ শায়খ আব্দুল্লাহ বানুভী রুমী (র) যিনি "কাশফুল যুনুন | গ্রন্থের লেখকের তার একটি গ্রন্থের উদ্ধিতি দিয়ে শায়খ ইউসুফ নাবহানী তা যাওয়াহিরুল বিহার গ্রন্থে হাদিসটি ইমাম আব্দুর রায্যাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৩১। আল্লামা ইবনে হাযার হায়তামী আল মক্কী (রহ.) ওফাত.৭৯৪হিতা” আন্-নেয়ামাতুল কুবরা আলাল আলাম” গ্রন্থেও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় হযরত যাবে " আব্দুল্লাহ আনসারী (র) হতে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যা মীর মোহাম্মদ কারখানা, করাচী, পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ফতােয়ায়ে হাদিসিয়ায় উক্ত গ্রন্থটি তারা উল্লেখ করে অনেক উপকার করেছেন।
৩২।ইমাম আবু সাদ নিশাপুরী খারকুশী (রহ) যার ওফাত হচ্ছে ৪০৭ তিনি তার প্রসিদ্ধ সিরাত গ্রন্থ "শরফুল মুস্তফার ১/৩০৭পৃষ্ঠায় (যা দারুল কল ইসলামিয়্যাহ, মক্কাতুল মুকাররমা হতে প্রকাশিত, শামেলা) হাদিসটি সংকলন করেছেন।
৩ ইমাম ইয়াহইয়া বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন বিন ইয়াহইয়া আলমরী আল-হারদ্বী (রহ.) যার ওফাত হচ্ছে ৮৯৩ হিজরীতে তিনি হাদিসটি বাহজাতুল মাহফিল ওয়া বাগিয়াল আমসাল ফি তালখিসুল মু'যিজাত ওয়াল সক ওয়াল শামায়েল" গ্রন্থের ১/১৫ পৃষ্ঠায় (যা দারুস্-সদর, বয়রুত, লেবানন হতে প্রকাশিত,শামেলা)  হাদিসটি সংকলন করেছেন।
৩৪.শায়খ মুহাম্মদ বিন খিলাফাত বিন আলী আল-তাইমী তার সিরাত গ্রন্থ “হুকুকুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতি ফি যুউল কিতাৰ ওয়া সুন্নাহ" এর মধ্যে হাদিসটি সংকলন করেন। এটি আল-মুমলাকাতুল আরাবিয়্যাহ রিয়াদ,সৌদি আরব হতে প্রকাশিত।
৩৫.ইমাম জুরকানী ওফাত.১১২২হি, তার শরহুল মাওয়াহে এর আরেক স্থানে (৫/২৬১পৃ. যা দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ,বয়রুত,লেবানন হতে প্রকাশিত) হাদিসটি সংকলন করেছেন।
৩৬.ইমাম ইয়াদরুসী (রহ.) তার “তারীখে নুরুস সফর" গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করেছেন।
৩৭.ইমাম আলুসী বাগদাদী (রহ.) স্বীয় তাফসীরে রুহুল মায়ানী' প্রথমে সূরা ফাতেহার তাফসীরেই (১/৫৪পৃষ্ঠায়,শামেলা) হযরত যাবের (রা.) হাদিসটি সংক্ষেপে ইঙ্গিত দিয়ে বর্ণনা করেছেন।
৩৮.ইমাম সাভী আল-মালেকী (রহ) যার ওফাত,১২৪১হি. তার “হাশিয়াতুল সাভী আলাল শরহুল সগীর”গ্রন্থের ৪/৭৭৮পৃষ্ঠায় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৩৯. ইমাম মুহাম্মদ মাহদী আল-ফাসী সুফী (র) ওফাত,১২২৪হি, তার লিখিত
“আল-বাহারুল মুদিদ ফি তাফসিরুল মাজিদ" এর ৫/২৭৪পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর বরাতে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
৪০.ইমাম শিহাবুদ্দীন খিফাযী হানাফী (রহ)ওফাত,১০৬৯হি, তার স্বীয় তাফসীর

হাশিয়াতুল শিহাব আ'লা তাফসিরুল বায়যাভী" এর (৪/১৪৩পৃষ্ঠায়,সুরা আনআমের এক আয়াতের ব্যাখ্যায়) মধ্যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৪১.আহলে হাদিস শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী তার একাধিক গ্রন্থে তা মনে বর্ণনা করেছেন। তার সু প্রসিদ্ধ সহিহ হাদিসের গ্রন্থ “সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহা এর ১৮২০পৃষ্ঠায় হাদিস নং ৪৫৮ এ হাদিসটি বর্ণনা করেন। এছাড়া আল অপর আরেকটি গ্রন্থ আলবানী ফিল আকায়েদ”এর ৩৮১৬প, প্রশ ৩/৮১৮পৃ. প্রশ্ন নং-২৮৪ এ সহ এই কিতাবটির মােট ৯ স্থানে এ হাদীস টি বর্ণনা করেছেন।
৪২. সৌদি আরবের আলেমদের সম্মেলিত ফাতওয়ার কিতাব "কুরাতুল আইন ফাতওয়ায়ে উলামাউল হারামাইন” (যার ১/৩২৫পৃষ্ঠায়,যা মাকতাবাত তাযারিয়্যাহতুল কোবরা, মিশর হতে প্রকাশিত) যা সংকলন করেছেন শায়খ মস বিন ইবরাহিম আল-মাগরীবী আল-মিশরী আল-মালেকী,যার ওফাত হলাে,১২৯২হিজরীতে। এ কিতাবটি এখন মাকতুবাতুল শামেলাতেও পাওয়া যায়।
৪৩.আহলে হাদিস শায়খুল তৈয়্যব আহমদ হাতিয়্যাহ তিনি তাঁর “তাফসীরে শায়খ আহমদ হাতিয়্যাহ" এর ৩/৩৯৫পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।
৪৪.আল্লামা ইমাম আহমদ রেযা খাঁন ফাযেলে বেরলভী (র) ওফাত,১৯২১খৃ.তার “নূরুল মােস্তফা” গ্রন্থে ৫-৭ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত ভাবে ইমাম আবদুর রাযযাক(রহ.)'র সূত্রে এবং ইমাম বায়হাকী (রঃ) দালায়েলুল নবুয়ত এর বরাতসহ অনেক কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ৪৫.আল্লামা সৈয়দ আহমদ সাঈদ কাযেমী (র) মিলাদুন্নবী গ্রন্থের ২২ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রায্যাকের সূত্রসহ আরাে অনেক কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৪৬.ইসলামী ইতিহাসবিদ আল্লামা আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ যিয়াউল্লাহ কাদেরী | স্বীয় গ্রন্থ “ওহাবী মাযহাব কী হাকীকত' (উর্দু) এর ৬৪১ পৃষ্ঠায় হযরত যাবের (রা) এর হতে অনেক সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ৪৭.আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী (র) স্বীয় অন্যতম গ্রন্থ “রিসালাম নূর" এর ১৯ পৃষ্ঠায় যাবের (রা) হতে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৪৮.মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী সাহেব তার উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ বা" কাতেয়া ফি মওলিদে খাইরিল বারিয়্যাহ" এর ৫ পৃষ্ঠায় হযরত যাবের (রা) বর্ণনায় উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৪৯.দেওবন্দেরঅন্যতম আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেব “নশীব”এর ২৫ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৫০.দেওবন্দীদের অন্যতম শায়খুল হাদিস ইদ্রিস কালভী সাহেব "মাকামাত ফি হাদিসিয়্যাহর "১ম খন্ডের ২৪১ পৃষ্ঠায় আবদুর রায্যাক (র) এর সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৫১. পাকিস্তানের ওহাবী দেওবন্দী মুহাদ্দিস সরফরায খাঁন সফদও 'নূর আওর বাশার এর ৩২ (উর্দু) পৃষ্ঠায় বর্ণনা করে হাদীসের সত্যতা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তার মাথা ব্যথা হলাে ইমাম আবদুর রায্যাক (দ) নাকি শিয়া পন্থী, তার জবাব সামনে আলােচনায় আসবে।
৫২। ভারতীয় উপমহাদেশের ওহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা শাহ ইসমাঈল দেহলভী সাহেব তার ‘রেসালায়ে একরােজী' পৃষ্ঠা নং ১১ এ উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৫৩। 'তাফসীরে নূরুল কোরআন' এর লেখক মাওলানা আমিনুল ইসলাম সাহেব“নূর নবী” বইয়ের ১৫ পৃষ্ঠায় ইমাম আবদুর রায্যাক (র) এর সূত্রে উক্ত হাদিসটি তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে তিনি মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেবের নশরুত্তীব এর হুবহু বাংলা অনুবাদও করেছেন আর তার নাম তিনি দিয়েছেন “যে ফুলের খুশবােতে সাড়া জাহান মাতােয়ারা এ পুস্তুকটি এখনও বাংলাবাজার ইসলামী টাওয়ারে পাওয়া যায়।
৫৪.বর্তমানের দেওবন্দীদের তথাকথিত শাইখুল হাদিস মুফতি মনসুরুল হক মাসিক আদর্শনারীতে (২০১২ইং এর সিরাতুন্নবী (দ.) সংখ্যায় দরসে হাদিসে) এক পথীয়ে হযরত যাবের (রা.)'র হাদিসটি সংক্ষেপে ইমাম আবদুর রাষ্যকের সূত্রে সংকলন করেন।
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মূফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর।
কিছু কথা
উক্ত হাদীস বর্তমান মুসান্নাফে নেই।তাই বাতিল রা নাই,জাল বলে শোর করে। যদি নাই থাকতো তবে বিভিন্ন যুগের এতগুলো মুহাদ্দিস কি মিথ্যাচার করেছেন?এই সিদ্ধান্ত পাঠককে নেওয়ার অনুরোধ রইল। অপরদিকে আল্লামা হিমায়রী মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক থেকে হারিয়ে যাওয়া তিনটি অধ্যায়ে ৪১টি হাদীস প্রমান সহ ছাপিয়ে দেন। বিস্তারিত জানতে ইউটিউব দেখুন।বুঝা গেল হাদীসের মোকাবেলায় যাওয়া কঠিন।তাই ১৭টি নুরের হাদীসের বাব সহ ৩টি বাব উড়িয়ে দিল!?
এরপরেও,সনদ ইত্যাদি প্রশ্নের জবাব দিতে সদা প্রস্তুত থাকিব।আর বাতিল দের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত মোবাহেসা বা মোনাযারার আহ্বান থাকিল।
(তৈফিক দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং সবাই দোয়া করবেন)
_____________গোলাম মনজুর
                    সংক্ষিপ্ত

Wednesday, May 22, 2019

ইতিকাফ এর বিধান

ইতিকাফ এর বিধান
=====================
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
প্রশ্নঃ ইতিকাফের শর্ত কি?
উত্তরঃ ইতিকাফের শর্ত :
১)মুসলমান হওয়া,
২)পাগল না হওয়া,
৩)বালেগ হওয়া,
৪)নিয়ত করা,
৫)ফরজ গোসলসহ হায়েজ নেফাছ থেকে পবিত্র হওয়া,
৬)রোজা রাখা,
৮)মসজিদে ইতিকাফ করা। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর মতে যে মসজিদে জামাআত সহকারে সালাত হয় না, সে মসজিদে ইতিকাফ জায়েজ নেই। নারীরা ঘরের এক কোণায় ইতিকাফ করবে।।যেখানে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটবে না।।
প্রশ্নঃ ইতিকাফ ভঙ্গের কারণসমূহ কি কি?
উত্তরঃ ১)মসজিদ বা নারীদের ইতিকাফ স্থান থেকে বিনাপ্রয়োজনে বের হলে।
২)ইসলাম ত্যাগ করলে।
৩)অজ্ঞান, পাগল বা মাতাল হলে।
৪)নিয়মিত ঋতুস্রাব দেখা দিলে।
৫)সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে বা গর্ভপাত হলে।
৬)সহবাস করলে।
৭)বীর্যপাত ঘটলে।কিন্তু স্বপ্নদোষ হলে হবে না।
৮)ইতিকাফকারীকে জোরপূর্বক মসজিদ বা ইতিকাফের স্থান থেকে বের করে দিলে।
৯)শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কাজে বাইরে গেলে যদি কেউ আটকে রাখে বা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে ফলে ইতিকাফ স্থানে যেতে দেরি হয় তবে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ কেন ইতিকাফ করতে হবে?
উত্তরঃ একজন মুসলিম যে কারণে ইতিকাফ করবে-
১- একটি ইসলামের বিধান মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে ।
২-মানবীয় পাশবিক প্রবণতা এবং অহেতুক কাজ থেকে দুরে থাকার চর্চা।
৩- শবে কদর তালাশ করার উদ্দেশ্যে। মহানবী (সা.) বলেন, আমি লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য ও মহিমা অনুসন্ধানে প্রথম দশদিন ও মাঝের দশদিন এতেকাফ করেছি অবশেষে আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসে বলেছেন, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা লাইলাতুল কদরকে অর্জন করতে চায়, তারা যেন শেষ দশকে এতেকাফ করে।
৪- মসজিদে অবস্থানের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৫- দুনিয়ামুখি মানসিকতা ত্যাগ ও বিলাসিতা থেকে দুরে থাকা।
৬. এছাড়া হাদিসে ইতিকাফ করার ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে, এইসব ফজিলত অর্জনের উদ্দেশ্যও ইতিকাফ করা যেতে পারে। যেমন এতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজার শেষ ১০ দিন এতেকাফ করবে, সে ব্যক্তি দু’টি হজ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
(বুখারি ও মুসলিম)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে অপর একটি হাদিস বর্ণিত, রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে এতেকাফ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেক পরিখার প্রশস্ততা দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি।
(বায়হাকি)।
প্রশ্নঃ ইতিকাফকারীর মসজিদ সীমানা কতটুকু?
উত্তরঃ ইতিকাফকারীর জন্যে মসজিদের সীমানা :
অনেক লোক মসজিদের সীমানা সম্পর্কে অবগত নন। এ কারণে অনেকে ইতিকাফ নষ্ট করে থাকেন। অতএব মসজিদের সীমানা সম্পর্কে অবগত হওয়া অতীব প্রয়োজন। সাধারণত মসজিদের পুরো বাউন্ডারিকেই মসজিদ বলে। অথচ মসজিদের পুরো বাউন্ডারি মসজিদের শরয়ী সীমানা হওয়া আবশ্যক নয়। বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদের সীমানা ওই টুকুই, যেটুকু স্থান মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকফ করার সময় মসজিদের নিয়ত করেছেন। জমিনের কোনো অংশ মসজিদ হওয়া এক জিনিস আবার মসজিদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ওয়াকফ করা আরেক জিনিস। শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদ শুধু ওই স্থানকে বলা হয়, যে স্থানকে শুধু নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মসজিদ বলে সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু প্রতিটি মসজিদেই এমন কিছু জায়গা থাকে, যে জায়গা মসজিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তায় ওয়াকফ করা হয়। যেমন ওযুর স্থান, ইস্তিঞ্জার স্থান, হাম্মাম, গোসলখানা, ইমাম সাহেবের হুজরা ইত্যাদি। এগুলো মসজিদের হুকুমের বাইরে। ইতিকাফকারী শরিয়তস্বীকৃত প্রয়োজন ব্যতিরেকে এসব স্থানে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। কিছু কিছু মসজিদে তো এসব স্থান মসজিদ থেকে পৃথক থাকে। তাই এই স্থানগুলো যে মসজিদের বাইরের অংশ তা সহজে অনুমান করা যায়। কিন্তু বেশির ভাগ মসজিদে এসব প্রয়োজনীয় অংশ মসজিদের সঙ্গে লাগানো ও সম্পৃক্ত থাকে। তাই প্রত্যেকে জ্ঞাত হয় না যে, এসব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত নয়। অনেক সময় মসজিদের সিঁড়ি, যা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা হয় তা মসজিদের সীমানার অন্তর্ভুক্ত থাকে না। সেরূপ স্থানেও ইতিকাফকারী বিনা কারণে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা বা ইমামের কাছে মূল মসজিদের সীমানা কতটুকু, তা জেনে নেওয়া ইতিকাফকারীদের জন্য আবশ্যক। শরিয়াহ মতে, জরুরত হলো যেসব প্রয়োজন পূরণে ইতিকাফকারীকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য শরিয়ত অনুমতি দিয়েছে। যেমন প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজনে। যদি মসজিদে অবস্থানকালে গোসল করা সম্ভব না হয়। যদি মসজিদে অবস্থান করে ওজু করা সম্ভব না হয়। খাওয়া-পরার জিনিস বাইরে থেকে আনা লাগে। যদি এনে দেওয়ার মতো লোক না থাকে। মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার জন্য বাইরে যাওয়া লাগে। যে মসজিদে ইতিকাফ করা হচ্ছে, সে মসজিদে যদি জুমার ব্যবস্থা না থাকে তবে জুমা আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়া। মসজিদ ভেঙে যাওয়া ইত্যাদির কারণে অন্য মসজিদে স্থানান্তরিত হওয়া। এসব প্রয়োজনীয়তা ছাড়া ইতিকাফকারীদের জন্য বাইরে যাওয়া নাজায়েজ এবং এতে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
(হেদায়া, খন্ড ১)
প্রশ্নঃ ইতিকাফকারীর বিধান কি?
উত্তরঃ ইতিকাফের বিধান :
রমজানে ইতিকাফকারীদের ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগে মসজিদের সীমানায় প্রবেশ করতে হবে। শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ সুন্নাতে মুআক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার যেকোনো একজন ইতিকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে ইতিকাফ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মহল্লার একজন ব্যক্তিও যদি ইতিকাফ না করে তবে মহল্লার সবার সুন্নাত পরিত্যাগের গোনাহ হবে। ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস, চুম্বন, স্পর্শ নিষেধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না।
(সুরা বাকারা:১৮৭)
শরীরের কিছু অংশ যদি মসজিদ থেকে বের করা হয় তাতে দোষ নেই। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইতিকাফ অবস্থায় নিজ মাথা মসজিদ থেকে বের করতেন। তখন আম্মাজান আয়েশা (রা.) তাঁর মাথার চুল বিন্যস্ত করে দিতেন।
(বোখারি: ২৯২)
প্রশ্নঃ মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান কি?
উত্তরঃ মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান :
ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া তিন ধরনের হতে পারে।
এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাবের জন্য, খাওয়া-দাওয়ার জন্য, পবিত্রতা অর্জনের জন্য। তবে শর্ত হল এ সকল বিষয় যদি মসজিদের গন্ডির মাঝে সেরে নেয়া যায় তবে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না।
দুই. এমন সকল নেক আমল বা ইবাদত-বন্দেগির জন্য বের হওয়া যাবে না যা তার জন্য অপরিহার্য নয়।
যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজাতে অংশ নেয়া ইত্যাদি।
তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা ইতিকাফের বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। ইতিকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যায়।

Monday, May 20, 2019

যাকাত বিষয়ক মাসায়েল পর্ব - ২

যাকাত বিষয়ক মাসায়েল পর্ব - ২
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
১৬. কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরো কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৮৭২,৭০৪০,৭০৪৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫,১০৩২৭
১৭. বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৪২,৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২
যে সব জিনিসের ওপর যাকাত ফরয নয়
১৮. নিজ ও পোষ্য পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরয নয়। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৯-২০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫
১৯. গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি এবং গার্হস্থ সামগ্রী যেমন
হাড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তা যত উচ্চমূল্যেরই হোক না কেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৯৩,৭১০২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫
তবে এক্ষেত্রে মনে রাখাতে হবে য, যেসব বস্ত্তর উপর যাকাত আসে না সেগুলোতে যদি সোনা-রুপা সংযুক্ত থাকে তাহলে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে এই সংযুক্ত সোনা-রুপারও যাকাত ফরয হবে।
২০. পরিধেয় বস্ত্র, জুতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিও থাকে তবুও তাতে যাকাত ফরয হবে না। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫
২১. দোকান-পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন আসবাবপত্র যা ব্যবসাপণ্য নয়, তার ওপর যাকাত ফরয নয়। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেসব ফার্নিচার রাখা থাকে তা যেহেতু বাণিজ্যদ্রব্য তাই এসবের ওপর যাকাত ফরয হবে।
২২. ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দিলে তাতেও যাকাত ফরয নয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে তার ওপর মাসআলা নং ৬ প্রযোজ্য হবে।
২৩. ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড় বড় ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করলে তার ওপরও যাকাত ফরয নয়। তবে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর যাকাত আসবে।
ঋণ ও পাওনা প্রসঙ্গঃ
২৪. কারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয নয়।
-মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সকল ঋণের ক্ষেত্রে নয়। ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে যাকাত ফরয হবে, অন্যথায় নয়। কিন্তু যে সকল ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে যাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৮৭
২৫. বিয়ে-শাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা। কিন্তু এই পাওনা স্বামীর ওপর যাকাত ফরয হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় এই ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না; বরং সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬১
উল্লেখ্য যে, বিনা ওযরে মোহরানা আদায়ে বিলম্ব করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
২৬. অন্যকে যে টাকা কর্জ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলিতভাবে নিসাব পূর্ণ করলে তারও যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১১-৭১১৩,৭১২১,৭১২৩,৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৮৪-৪৮৬
২৭. পাওনা উসূল হওয়ার পর ওই টাকার যাকাত আদায় করা ফরয হয়। তার আগে আদায় করা জরুরি নয়, তবে আদায় করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৭, ১০৩৫৬
২৮. উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসূল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের যাকাত আদায় করা ফরয হয়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১৬,৭১২৯,৭১৩১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৬,১০৩৫৬
২৯. স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা নিসাব পরিমাণ হলেও তা স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে যাকাত ফরয হয় না। হস্তগত হওয়ার পর যদি আগে থেকেই ঐ মহিলার কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে এখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে।
৩০. আর যদি স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার আগ থেকেই নিসাব পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক থেকে থাকে তাহলে এই সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানা অন্যান্য টাকা-পয়সা বা সম্পদের সাথে যোগ হবে এবং সেই সব পুরানো সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে।
কীভাবে যাকাত দিতে হবেঃ
কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা তার অনুগত বান্দাদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন-
وَ الَّذِیْنَ یُؤْتُوْنَ مَاۤ اٰتَوْا وَّ قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ اَنَّهُمْ اِلٰی رَبِّهِمْ رٰجِعُوْنَۙ۝۶۰
আর তারা যা কিছু দান করে এভাবে দান করে যে, তাদের হৃদয় ভীতকম্পিত থাকে (একথা ভেবে) যে, তারা তাদের রবের নিকটে ফিরে যাবে।’ -সূরা মুমিনূন : ৬০ এক আয়াতে মু’মিনদের সম্বোধন করে বলেন-
وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلِاَنْفُسِكُمْ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْنَ اِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللّٰهِ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ یُّوَفَّ اِلَیْكُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ۝۲۷۲
... এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ব্যয় করে থাক। যে ধনসম্পদ তোমরা ব্যয় কর তার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরোপুরিভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। -সূরা বাকারা : ২৭২
অন্য এক আয়াতে ঈমানদারদের সতর্ক করা হয়েছে তারা যেন অসংযত আচরণের মাধ্যমে তাদের দান-সদকাকে ব্যর্থ না করে দেয়। ইরশাদ হয়েছে-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُبْطِلُوْا صَدَقٰتِكُمْ بِالْمَنِّ وَ الْاَذٰی ۙ كَالَّذِیْ یُنْفِقُ مَالَهٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَ لَا یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা অনুগ্রহ ফলিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-সদকাকে বিনষ্ট করো না। ওই লোকের মতো যে লোক দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয় করে আর ঈমান রাখে না আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর। -সূরা বাকারা : ২৬৪
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
واحسنوا ان الله يحب المحسنين
কুরআন মজীদের উপরোক্ত আয়াতসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিনয়, খোদাভীতি, ইখলাস ও আখলাকে হাসানা হল দান-সদকা আল্লাহর দরবারে মকবুল হওয়ার অভ্যন্তরীণ শর্ত। এসব বিষয়ে যত্নবান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়মতো যাকাত আদায় করে দেওয়া কর্তব্য।
৩১. বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যাকাত আদায়ে বিলম্ব করা যায় না। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَكُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ۝۱۰
আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু এল সে বলবে হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরও কিছু কালের অবকাশ কেন দিলে না! তাহলে আমি সদাকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ -সূরা মুনাফিকূন : ১০
এক্ষেত্রে করণীয় হল, নিসাবের মালিক হওয়ার সময়টি সামনে রাখা এবং ঠিক তার এক বছর পর সেই সময়েই যাকাত আদায় করা। নির্দিষ্ট সময়টি জানা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো মাসের অপেক্ষায় বসে থাকা উচিত নয়।
৩২. যে দিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিনই যাকাত আদায় করা ফরয হয়। এরপর যখনই যাকাত আদায় করুক সে পরিমাণই আদায় করতে হবে যা সেই দিন ফরয হয়েছিল।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৫৯
৩৩. বছর পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্রবর্ষের হিসাব ধর্তব্য, সৌর বর্ষের নয়।
নিয়ত করাঃ
৩৪. যাকাত আদায় হওয়ার জন্য যাকাত প্রদানের নিয়ত করা জরুরি।
আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৮
৩৫. একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই যাকাত প্রদান করতে হবে। জনসমর্থন অর্জনের জন্য, লোকের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কিংবা অন্য কোনো জাগতিক উদ্দেশ্যে যাকাত দেওয়া হলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। -সূরা বাক্বারা ২৬৪
যাকাতের উপযুক্ত খাতে যেমন ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করতে হবে। এটাই মূল নিয়ম। তবে নিজের সম্পদ থেকে যাকাতের টাকা পৃথক করে রাখলে পৃথক করার সময়ের নিয়তই যথেষ্ট হবে। এখান থেকে ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার সময় নতুন নিয়ত না করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮
৩৬. যাকাতের উদ্দেশ্যে টাকা পৃথক করে রাখলেও মালিক তা প্রয়োজনে খরচ করতে পারবে। তবে পরে যাকাত আদায়ের সময় যাকাতের নিয়ত করতে হবে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৯১, ১০৩৯২
৩৭. যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কিছু টাকা দান করা হয়েছে, কিন্তু দান করার সময় দানকারীর মনে যাকাতের নিয়ত ছিল না তো গ্রহীতার কাছে সেই টাকা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যাকাতের নিয়ত করলে যাকাত আদায় হবে। তদ্রূপ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হলে গ্রহীতা তা খেয়ে ফেলার বা বিক্রি করে দেওয়ার আগে যাকাতের নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হবে। এরপরে যাকাতের নিয়ত করলে যাকাত হিসাবে আদায় হবে না।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮-২৬৯
৩৮. যাকাতের টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার আগেই তা চুরি হয়ে গেল বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেল তাহলে যাকাত আদায় হয়নি। পুনরায় যাকাত দিতে হবে।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৯৩৬,৬৯৩৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৩১-৫৩২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০
৩৯. যে সম্পদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে তার চল্লিশ ভাগের একভাগ (২.৫০%) যাকাত দেওয়া ফরয। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে শতকরা আড়াই টাকা হারে নগদ টাকা কিংবা ওই পরিমাণ টাকার কাপড়-চোপড় বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও যাকাত আদায় হবে।
-সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৩০-২২৩৩; সুনানে আবু দাউদ হাদীস ১৫৭০-১৫৭২; সুনানে তিরমিযী হাদীস ৬২৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস ১৮০৩ ; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৩৩-৭১৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৩৯-১০৫৮১
৪০. যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয় স্বেচ্ছায় তার চেয়ে বেশি দিয়ে দিলেও অসুবিধা নেই। এতে যাকাত আদায় এবং বাড়তি দান দু’টোরই ছওয়াব পাওয়া যাবে।
- মুসনাদে আহমদ হাদীস ২০৭৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৯০৭
৪১. যাকাত গ্রহণকারীকে একথা জানানোর প্রয়োজন নেই যে, তাকে যাকাত দেওয়া হচ্ছে। যেকোনোভাবে দরিদ্র ব্যক্তিকে যাকাতের মাল দেওয়া হলে মালিক যদি মনে মনে যাকাতের নিয়ত করে তাহলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮
৪২. অন্যের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় সে ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাত আদায় হবে না। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৯
৪৩. গৃহকর্তা যদি ঘরের লোকদেরকে যাকাত দেওয়ার অনুমতি দিয়ে রাখেন তাহলে তারা যাকাতের নিয়তে কাউকে কিছু দিলে তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে। আর যদি পূর্বাগ্রে অনুমতি না দেওয়া থাকে আর ঘরের লোকেরা যাকাত হিসেবে কিছু দান করে তাহলে যাকে দান করা হল সে সেই অর্থ খরচ করার আগেই যদি গৃহকর্তা অনুমতি পাওয়া যায় তাহলেও তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে। অন্যথায় যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় আদায় করতে হবে।
৪৪. কোনো দরিদ্র ব্যক্তির কাছে কারো কিছু টাকা পাওনা আছে। এখন সে যদি যাকাতের নিয়তে পাওনা মাফ করে দেয় তাহলে যাকাত আদায় হবে না। তাকে যাকাত দিতে হলে নিয়ম হল, প্রথমে তাকে যাকাত প্রদান করা এরপর সেখান থেকে ঋণ উসূল করে নেওয়া। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭১
ঋণগ্রস্তকেই যাকাতের টাকা প্রদান করা উত্তম। কেননা এতে তাকে ঋণের দায় থেকে মুক্ত করা হয়। আর কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি যদি যাকাত থেকে গণ্য করা নিয়ত ছাড়াই ঋণগ্রহীতার ঋণ ক্ষমা করে দেয় তবে তো কথাই নেই। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭১
৪৫. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
৪৬. যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
৪৭. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে যাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে না।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৫৬
এই ব্যক্তির উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।
৪৮. যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই এই ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৩৬
৪৯. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
৫০. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েয, এর বেশি নয়।
(গুগলে প্লেতে যান,
সার্চ করুন ” রমাদান Sunni pedia” আর ডাউনলোড করুন রমাদান অ্যাপটি। জানাবেন আপনার ভালো লাগা না লাগা।)

Sunday, May 19, 2019

যাকাত বিষয়ক মাসায়েল পর্ব - ১

যাকাত বিষয়ক মাসায়েল পর্ব - ১
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
সদকাতুল ফিতরঃ
সদাকায়ে ফিতর সম্পর্কিত হাদীসগুলো পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়: যব, খেজুর, পনির, কিসমিস ও গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করতে চাইলে প্রত্যেকের জন্য এক সা’ দিতে হবে। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা ‘সা’ দিতে হবে। এটা হল ওজনের দিক দিয়ে তফাত। আর মূল্যের দিক থেকে তো পার্থক্য রয়েছেই। যেমন-
(ক) আজওয়া (উন্নতমানের) খেজুরের মূল্য প্রতি কেজি ১০০০/- টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৩২৫৬/- তিন হাজার দুই শত ছাপ্পান্ন টাকা।
(খ) মধ্যম ধরনের খেজুর যার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০/- টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৯৭৭/- নয়শত সাতাত্তর টাকা।
(গ) কিসমিস প্রতি কেজি ২৩০/- টাকা করে হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৭৪৮/- (সাত শত আটচল্লিশ) টাকা।
ঘ) পনির প্রতি কেজি ৫০০/- টাকা করে ধরা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ১৬২৮/- (এক হাজার ছয় শত আটাশ) টাকা।
ঙ) গম প্রতি কেজি ৩৫/- টাকা হিসাবে ধরা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৫৭ টাকা।
হাদীসে এ ৫টি দ্রব্যের যেকোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যেকোনো ১টি দ্বারা তা আদায় করতে পারে। এখন লক্ষণীয় বিষয় হল, সকল শ্রেণীর লোক যদি সবচেয়ে নিম্ন মূল্য-মানের দ্রব্য দিয়েই নিয়মিত সদকা ফিতর আদায় করে তবে হাদীসে বর্ণিত অন্য চারটি দ্রব্যের হিসেবে ফিতরা আদায়ের উপর আমল করবে কে? আসলে এক্ষেত্রে হওয়া উচিত ছিল এমন যে, যে ব্যক্তি উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সদকা ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে সে তা দিয়েই আদায় করবে।
যার সাধ্য পনিরের হিসাবে দেওয়ার সে তাই দিবে। এর চেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিসমিসের হিসাব গ্রহণ করতে পারে। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন সে আদায় করবে গম দ্বারা। এটিই্ উত্তম নিয়ম। এ নিয়মই ছিল নবী, সাহাবা-তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের স্বর্ণযুগে। এ পর্যন্ত কোথাও দুর্বল সূত্রে একটি প্রমাণ মেলেনি যে, স্বর্ণযুগের কোনো সময়ে সব শ্রেণীর সম্পদশালী সর্বনিম্ন মূল্যের দ্রব্য দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করেছেন। এখানে এ সংক্রান্ত কিছু বরাত পেশ করা হচ্ছে।
হাদীসঃ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম দান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন-
أغلاها ثمنا وأنفسها عند أهلها
‘দাতার নিকট যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি’। -সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইতক ৩/১৮৮; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান বাব আফযালুল আমল ১/৬৯
সাহাবায়ে কেরাম-এর আমলঃ
ক) হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন,
كنا نخرج زكاة الفطر صاعًا من طعام أو صاعا من شعير أو صاعا من تمر أو صاعا من أقط أو صاعا من زبيب وذلك من صاع النبي صلى الله عليه وسلم.
আমরা সদকা ফিতর আদায় করতাম এক ‘সা’ খাদ্য দ্বারা অথবা এক ‘সা’ যব অথবা এক ‘সা’ খেজুর, কিংবা এক ‘সা’ পনির বা এক ‘সা’ কিসমিস দ্বারা। আর এক ‘সা’-এর ওজন ছিল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘সা’ অনুযায়ী। -মুয়াত্তা মালেক পৃ.১২৪; আল ইসতিযকার, হাদীস ৫৮৯, ৯/৩৪৮
এ হাদীসে রাসূলের যুগে এবং সাহাবাদের আমলে সদকা ফিতর কোন কোন বস্ত্ত দ্বারা আদায় করা হত তার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
(খ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সারা জীবন খেজুর দ্বারাই সদকা ফিতর আদায় করেছেন। তিনি একবার মাত্র যব দ্বারা আদায় করেছেন।
-আলইসতিযকার, হাদীস নং ৫৯০,৯/৩৫৪
ইবনে কুদামা রা.আবু মিজলাযের বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম অধিকাংশই যেহেতু খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করতেন তাই ইবনে ওমর রা. সাহাবাদের তরীকা অবলম্বন করতে সারা জীবন খেজুর দ্বারাই আদায় করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনে ওমরের ভাষ্য হল-
إن أصحابي سلكوا طريقا وأنا أحب أن أسلكه.
‘সাহাবীগণ যে পথে চলেছেন আমিও সে পথেই চলতে আগ্রহী।’
এবার দেখা যাক মাযহাবের ইমামগণ উত্তম সদকা ফিতর হিসেবে কোনটিকে গ্রহণ করেছেন।
উত্তম সদকা ফিতরঃ
ইমাম শাফেয়ীর মতে উত্তম হল হাদীসে বর্ণিত বস্ত্তর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বোচ্চ মূল্যের দ্রব্য দ্বারা সদকা দেওয়া। অন্য সকল ইমামের মতও এমনই।
ইমাম মালিক রাহ.-এর নিকট খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত খেজুর ‘আজওয়া’ খেজুর দেওয়া উত্তম। আজওয়া খেজুরের ন্যূনতম মূল্য ১০০০-১২০০ টাকা প্রতি কেজি।
ইমাম আহমদ রাহ.-এর নিকট সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করা ভালো। -আলমুগনী ৪/২১৯; আওজাযুল মাসালিক ৬/১২৮
ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর নিকটেও অধিক মূল্যের দ্রব্যের দ্বারা ফিতরা আদায় করা ভালো। অর্থাৎ যা দ্বারা আদায় করলে গরীবের বেশি উপকার হয় সেটাই উত্তম ফিতরা।
সাহাবায়ে কেরামের যুগেঃ
আধা ‘সা’ গমের মূল্য এক সা খেজুরের সমপরিমাণ ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মদীনাতে গমের ফলন ছিল না বললেই চলে। পরবর্তীতে হযরত মুআবিয়া রা.-এর যুগে ফলন বৃদ্ধি পেলেও মূল্য ছিল সবচেয়ে বেশি। একাধিক বর্ণনায় এসেছে যে, সেকালে আধা ‘সা’ গমের মূল্য এক সা খেজুরের সমপরিমাণ ছিল।
فلما كان زمن معاوية وكثرت الحنطة جُعِلَ نصف صاعٍ منها مثل صاع من تلك الأشياء.
হযরত মুআবিয়া রা.-এর যুগে গমের ফলন বৃদ্ধি পেলে আধা ‘সা’ গমকে সদকা ফিতরের অন্যন্য খাদ্যদ্রব্যের এক ‘সা’র মতো গণ্য করা হত। -আলইসতিযকার ৯/৩৫৫
ইবনুল মুনযির বলেন-
فلما كثر في زمن الصحابة رأووا أن نصف صاع منه يقوم مقام صاع من شعير.
সাহাবীদের যুগে যখন গম সহজলভ্য হল তখন তারা আধা ‘সা’ গমকে এক ‘সা’ যবের সমতুল্য গণ্য করলেন। -ফাতহুল মুলহিম ৩/১৫; আওজাযুল মাসালিক ৬/১৩
তাহলে বুঝা গেল য, হযরত মুআবিয়া রা.-এর যুগে গম দ্বারা সদকা ফিতর আদায়ের প্রচলন বেড়েছিল। এর কারণ হল যে, তখন গমই ছিল সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বোচ্চ মূল্যমানের খাদ্য। এ সময় হযরত ইবনে ওমর সাহাবাদের অনুকরণে খেজুর দ্বারাই সদকা ফিতর আদায় করতেন। তখন তাঁকে আবু মিজলায রাহ. বললেন-
إن الله قد أوسع والبر أفضل من التمر
‘আল্লাহ তাআলা তো এখন সামর্থ্য দিয়েছেন। আর গম খেজুরের চেয়ে অধিক উত্তম। অর্থাৎ আপনার সামর্থ্য রয়েছে বেশি মূল্যের বস্ত্ত সদকা করার। তবুও কেন খেজুর দ্বারা তা আদায় করছেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি সাহাবাদের অনুকরণে এমন করছি। যাক আমাদের কথা ছিল, সাহাবায়ে কেরাম গম দ্বারা এজন্যই সদকা ফিতর আদায় করতেন যে, এর মূল্য সবচেয়ে বেশি ছিল। হাদীসে পাঁচ প্রকারের খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে বর্তমানে গমের মূল্য সবচেয়ে কম। তাহলে এ যুগে সর্ব শ্রেণীর জন্য এমনকি সম্পদশালীদের জন্যও শুধুই গম বা তার মূল্য দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করা কী করে সমীচীন হতে পারে?
বড়ই আশ্চর্য! পুরো দেশের সব শ্রেণীর লোক বছর বছর ধরে সর্বনিম্ন মূল্যের হিসেবে ফিতরা আদায় করে আসছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সকলেই ফিতরা দিচ্ছে একই হিসাবে জনপ্রতি ৫৫/৬০ টাকা করে। মনে হয় সকলে ভুলেই গেছে যে, গম হচ্ছে ফিতরার ৫টি দ্রব্যের একটি (যা বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল্যের)। সুতরাং আমরা এদেশের ফিতরা আদায়কারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি তারা যেন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হাদীসে বর্ণিত দ্রব্যগুলোর মধ্যে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের দ্রব্যটির হিসাবে ফিতরা আদায় করেন। পনির, কিসমিস, খেজুর কোনোটির হিসাব যেন বাদ না পড়ে। ধনীশ্রেণীর মুসলিম ভাইদের জন্য পনির বা কিসমিসের হিসাবে ফিতরা আদায় করা কোনো সমস্যাই নয়। যেখানে রমযানে ইফতার পার্টির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়, ঈদ শপিং করা হয় অঢেল টাকার, সেখানে কয়েক হাজার টাকার ফিতরা তো কোনো হিসাবেই পড়ে না। যদি এমনটি করা হয় তবে যেমনিভাবে পুরো হাদীসের উপর মুসলমানদের আমল প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নত যিন্দা করা হবে, তেমনি এ পদ্ধতি দারিদ্র্যবিমোচনে অনেক অবদান রাখবে। গরীব-দুঃখীগণের মুখেও হাসি ফুটে উঠবে ঈদের পবিত্র দিনে।
আরেকটি আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দেশের সম্মানিত মুফতীগণ, মাশায়েখ হযরাত ও দারুল ইফতাগুলোর কাছে, তারা যেন সদকাতুল ফিতর এর পরিমাণ ঘোষণা দেওয়ার সময় হাদীসে বর্ণিত সকল দ্রব্যের হিসাবেই পৃথক পৃথকভাবে বলে দেন এবং মানুষকে যথাসম্ভব উচ্চমূল্যের ফেতরা আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করেন।
যাদের উপর যাকাত ফরয হয়ঃ
১. আগেই বলা হয়েছে যে, যাকাত ইসলামের একটি অপরিহার্য ইবাদত। এজন্য শুধু মুসলিমগণই যাকাত আদায়ের জন্য সম্বোধিত হন। সুস্থমস্তিষ্ক, আযাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরয হয়ে যায়।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২
কাফির যেহেতু ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না তাই তাদের ওপর যাকাত আসে না।
এছাড়া অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিমের ওপর এবং নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপরও যাকাত ফরয নয়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬১-৪৬২; -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৮
যেসব জিনিসের উপর যাকাত ফরয হয়ঃ
২. সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হয়।
৩. সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে।
-সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১
৪. অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হয়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২
৫. জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারু কাজ করা থাকলে তাও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৬৪৮, ১০৬৪৯, ১০৬৫১
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরয নয়।
-কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮
৬. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরয হয়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২
তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরয হয়।
৭. টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরয হয়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬২,৩০০
৮. হজ্বের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরয হবে না।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫
৯. দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরয।
-সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩
১০. ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয হবে।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪
নিসাবের বিবরণঃ
১১. স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল।
-সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।
১২. রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হল দু’শ দিরহাম।
-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯
আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত দিতে হবে।
১৩. প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর যাকাত দিতে হবে।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৭৯৭,৬৮৫১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৩৭
১৪. যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩
কিছু দৃষ্টান্ত ক) কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রুপার মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
খ) কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর যাকাত দিতে হবে।
আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩
গ) কারো কাছে নিসাবের কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এরও যাকাত দিতে হবে।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩
১৫. নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের যাকাত আনুপাতিক হারে দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক,হাদিস ৭০৩২, ৭০৭৪, ৭০৭৫, ৭০৭৯, ৭০৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৯
(গুগলে প্লেতে যান,
সার্চ করুন ” রমাদান Sunni pedia” আর ডাউনলোড করুন রমাদান অ্যাপটি। জানাবেন আপনার ভালো লাগা না লাগা।)

Saturday, May 18, 2019

যাকাত কাকে দিবেন?

যাকাত কাকে দিবেন?
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
যাকাত আদায়ের শর্তঃ
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবায় যাকাত বন্টনে আটটি খাত আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন।
ইরশাদ হয়েছে -
اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ۝۶۰
যাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও যাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, যাদের মনোরঞ্জন উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সূরা তাওবা : ৬০
এই খাতগুলো সরাসরি কুরআন দ্বারা নির্দ্দিষ্ট, এবং যেহেতু তা আল্লাহ'র নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বণ্টন করলে যাকাত ইসলামী শরিয়তসম্মত হয় না।
১)ফকির (যার কিছুই নেই)[১৪]
২)মিসকীন (যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই) [১৪]
৩)যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই) [১৪]
৪)[অমুসলিমদের] মন জয় করার জন্য[১৫]
৫)ক্রীতদাস (মুক্তির উদ্দেশ্যে)
৬)ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশী
৭)[স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে] আল্লাহর পথে জেহাদে রত ব্যক্তি
৮)মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)
হাদিসমতে, এগুলো ফরয সাদকাহের খাত, এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরো প্রশস্ত।[১৬]
উল্লেখিত খাতসমূহে যাকাত বণ্টন করতে হবে সঠিক পন্থায়। অনেকে যাকাতের অর্থে শাড়ি ক্রয় করে তা বন্টন করে থাকেন। এভাবেও যাকাত আদায় হয়ে গেলেও এভাবে আসলে প্রকৃতপক্ষে যাকাত গ্রহণকারীর তেমন উপকার হয় না। তাই যাকাত বন্টনের উত্তম পন্থা হলো: যাকাত যাদেরকে প্রদান করা যায়, তাদের একজনকেই বা একটি পরিবারকেই যাকাতের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেয়া।
(গুগলে প্লেতে যান,
সার্চ করুন ” রমাদান Sunni pedia” আর ডাউনলোড করুন রমাদান অ্যাপটি। জানাবেন আপনার ভালো লাগা না লাগা।)

Friday, May 17, 2019

যাকাত কে কতটুকু দিবেন ?

যাকাত কে কতটুকু দিবেন ?
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তাবলীঃ
স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকে। যেমন:
১. সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানাঃ
সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ সম্পদ, মালিকের অধিকারে থাকা, সম্পদের উপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসকল সম্পদের মালিকানা সুস্পষ্ট নয়, সেসকল সম্পদের কোনো যাকাত নেই, যেমন: সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। অনুরূপভাবে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদের উপরেও যাকাত ধার্য হবে না। তবে ওয়াকফ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য হয়, তবে তার উপর যাকাত দিতে হবে।
২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়াঃ
যাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পাবার যোগ্যতাই যথেষ্ট। যেমন: গরু, মহিষ, ব্যবসায়ের মাল, নগদ অর্থ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রীত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল।[৭]
অর্থাৎ যেসকল মালামাল নিজের প্রবৃদ্ধি সাধনে সক্ষম নয়, সেসবের উপর যাকাত ধার্য হবে না, যেমন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালামাল, চলাচলের বাহন ইত্যাদি।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদঃ
যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২.৫ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন (বিস্তারিত: 'যাকাত প্রদানের নিয়ম' দ্রষ্টব্য)।
৪. মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্তঃ
সম্পদ থাকা সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধুমাত্র তার উপরই যাকাত ফরয হবে। এপ্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে:
লোকজন আপনার নিকট (মুহাম্মদের [স.] নিকট) জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।[৮]
মুহাম্মদের [স.] সহচর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রা.] বলেছেন,
‘অতিরিক্ত বলতে পরিবারের ব্যয় বহনের পর যা অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট থাকে তাকে বুঝায়।[৯]’
জনাব ইউসুফ আল কারযাভী'র মতে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন, ও পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের ভরণ-পোষণও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।[১০]
৫. ঋণমুক্ততাঃ
নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলেও ব্যক্তির ঋণমুক্ততা, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শর্ত। যদি সম্পদের মালিক এত পরিমাণ ঋণগ্রস্থ হন যা, নিসাব পরিমাণ সম্পদও মিটাতে অক্ষম বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ তার চেয়ে কম হয়, তার উপর যাকাত ফরয হবে না। ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কেবল যাকাত ওয়াজিব হয়। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি হলো: যে ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় সে ঋণের ক্ষেত্রে যেবছর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়, সেবছর সে পরিমাণ ঋণ বাদ দিয়ে বাকিটুকুর উপর যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ঋণ বাবদ যাকাত অব্যাহতি নেয়ার পর অবশ্যই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সে সম্পদের উপর যাকাত দিতে হবে।
৬. সম্পদ এক বছর আয়ত্তাধীন থাকানিসাব পরিমাণ স্বীয় সম্পদ ১ বছর নিজ আয়ত্তাধীন থাকা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পূর্বশর্ত।[১১] তবে কৃষিজাত ফসল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির যাকাত (উশর) প্রতিবার ফসল তোলার সময়ই দিতে হবে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে বছর শেষে উদ্বর্তপত্রে (Balance Sheet) বর্ণিত সম্পদ ও দায়-দেনা অনুসারে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে যাকাত-
★অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের যাকাত:
সম্পদের মালিক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাগল হলে, তার যাকাত তার আইনানুগ অভিভাবককে আদায় করতে হবে।
★যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির যাকাত:
কোনো সম্পদে যৌথ মালিকানা থাকলে সম্পদের প্রত্যেক অংশীদার তাঁর স্ব স্ব অংশের উপরে যাকাত দিবেন, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় বা তার অতিরিক্ত হয়। অর্থাৎ সম্পদের স্বীয় অংশের মূল্য অন্যান্য সম্পদের সাথে যোগ করে হিসাব করে যদি দেখা যায় তা নিসাব পরিমাণ হয়েছে বা অতিক্রম করেছে, তবে যাকাত দিতে হবে।
★নির্ধারিত যাকাত:
যাকাত নির্ধারিত হওয়াসত্ত্বেয় পরিশোধের আগেই সম্পদের মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারগণ অথবা তার তত্ত্বাবধায়ক তার সম্পত্তি থেকে প্রথমে যাকাত বাবদ পাওনা ও কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করবেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হবে।
★তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ন্যস্ত সম্পদের যাকাত:
মালিকের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত আইনানুগ তত্ত্বাবধায়কের কাছে সম্পত্তি ন্যস্ত থাকলে মালিকের পক্ষে উক্ত তত্ত্বাবধায়ক সে যাকাত পরিশোধ করবেন।
★বিদেশস্থ সম্পদের যাকাত:
যাকাত ওয়াজিব হবার জন্য সম্পত্তি নিজ দেশে থাকা শর্ত নয়। বরং সম্পত্তি অন্য দেশে থাকলেও তার উপর যাকাত দিতে হবে। তবে উক্ত দেশ ইসলামী রাষ্ট্র হলে এবং দেশের সরকার যাবতীয় সম্পদের উপর যাকাত দিলে তা আর আলাদা করে দিতে হবে না।
যাকাত গণনার নিয়মঃ
ধর্মীয়ভাবে প্রতিজন মুসলমানকে তাঁর যাবতীয় আয়-ব্যয়-সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়।হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাৎসরিক ভিত্তি একটি মৌলিক ধারণা। অর্থাৎ বছরের একটা নির্দিষ্ট দিন থেকে পরবর্তি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত যাবতীয় আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখতে হয়। এই 'দিন' বাছাই করার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, কোন মাসে দিন নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত কেউ কেউ হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের কোনো দিন কিংবা অধিক পূণ্যের আশায় রমজান মাসের কোনো দিন বাছাই করে থাকেন। এই হিসাব সংরক্ষণ হতে হবে যথেষ্ট সূক্ষ্মতার সাথে। সংরক্ষিত হিসাবের প্রেক্ষিতে ইসলাম ধর্মের নিয়মানুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলে তবেই উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক (ফরয) হয়, অন্যথায় যাকাত দিতে হয় না।
যাকাত প্রদানের নিয়মঃ
যাকাতের 'নিসাব পরিমাণ' বিভিন্ন দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়। নিচে এসংক্রান্ত বিস্তারিত দেয়া হলোঃ[১৫][১৭]
(১) বিষয়ঃ
নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা এবং ব্যবসায়িক পণ্য।
নিসাবঃ
৫২.৫ তোলারূপার মূল্যমান।
যাকাতের হারঃ
সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%।
(২) বিষয়ঃ
স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা সোনা-রূপার অলংকার।
নিসাবঃ
সোনা ৭.৫ তোলা এবং রূপা ৫২.৫ তোলা।
যাকাতেএ হারঃ
সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%।
(৩)বিষয়ঃ
কৃষিজাত দ্রব্য।
নিসাবঃ
আবু হানিফারমতে, যেকোনো পরিমাণ;
অন্যান্যদের মতে, ৫ ওয়াসাক বা ২৬ মণ ১০ সের;
ইসলামিক ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ব্যুরো'র মতে, ১৫৬৮ কেজি।
যাকাতের হারঃ
বৃষ্টিতে উৎপাদিত দ্রব্যের ১০%
(৪)বিষয়ঃ
খনিজ দ্রব্য।
নিসাবঃ
যেকোনো পরিমাণ।
যাকাতের হারঃ
দ্রব্যের ২০%।
(৫)বিষয়ঃ
ভেড়া-ছাগল।
নিসাবঃ
৪০-১২০টি
১২১-২০০টি
২০১-৪০০টি
৪০০-৪৯৯টি
৫০০ বা ততোধিক।
যাকাতের হারঃ
১টি ভেড়া বা ছাগল
২টি ভেড়া বা ছাগল
৩টি ভেড়া বা ছাগল
৪টি ভেড়া বা ছাগল
৫টি ভেড়া বা প্রতি শ'তে ১টি।
(৬)বিষয়ঃ
গরু-মহিষ।
নিসাবঃ
৩০-৩৯টি
৪০-৪৯টি
৫০-৫৯টি
৬০-৬৯টি
৭০-৭৯টি
৮০-৮৯টি
৯০-৯৯টি
১০০-১১৯টি।
যাকাতের হারঃ
১টি এক বছরের বাছুর
১টি দুই বছরের বাছুর
২টি দুই বছরের বাছুর
১টি তিন বছরের এবং ১টি দুই বছরের বাছুর
২টি তিন বছরের বাছুর
৩টি দুই বছরের বাছুর
১টি তিন বছরের এবং ২টি দুই বছরের বাছুর
দুই বছরের বাছুর -এভাবে ঊর্ধ্বে হিসাব হবে।
(৭)বিষয়ঃ
উট
নিসাবঃ
৫-৯টি
১০-১৪টি
১৫-১৯টি
২০-২৪টি
২৫-৩৫টি
৩৬-৪৫টি
৪৬-৬০টি
৬১-৭৫টি
৭৯-৯০টি
৯১-১২০টি
১২১-১২৯টি
১৩০-১৩৪টি
১৩৫-১৩৯টি
১৪০-১৪৪টি
১৪৫-১৪৯টি
১৫০ এবং তদুর্ধ্ব।
যাকাতের হারঃ
১টি তিন বছরের খাশি অথবা ১টি এক বছরের বকরি
২টি এক বছরের বকরি
৩টি এক বছরের বকরি
৪টি এক বছরের বকরি
৪টি এক বছরের মাদী উট
২টি তিন বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট
১টি পাঁচ বছরের মাদী উট
২টি তিন বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ২টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৩টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৪টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি দুই বছরের উট
৩টি ৪ বছরের মাদী উট এবং প্রতি ৫টিতে ১টি ছাগল।
(৮)বিষয়ঃ
ঘোড়া
নিসাবঃ
(এক্ষেত্রে তিনটি মত পাওয়া যায়)
যাকাতের হারঃ
যাকাত নেই
কিংবা সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
কিংবা প্রতিটি ঘোড়ার জন্য ১ দিনার পরিমাণ অর্থ।
(৯)বিষয়ঃ
শেয়ার, ব্যাংক নোট, স্টক
নিসাবঃ
৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান
যাকাতের হারঃ
সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%।।তবে কোম্পানী যাকাত দিলে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিতে হবে না।
(১০)বিষয়ঃ
অংশীদারী কারবার ও মুদারাবা
নিসাবঃ
৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান
যাকাতের হারঃ
প্রথমে সম্পত্তির যাকাত দিতে হবে, মূলধনের নয়; এরপর লাভ বন্টিত হবে। যাকাত ব্যক্তিগতভাবে লাভের উপর হবে, একভাগ (২.৫%) দিবে মূলধন সরবরাহকারী এবং একভাগ (২.৫%) দিবে শ্রমদানকারী।
(গুগলে প্লেতে যান,
সার্চ করুন ” রমাদান Sunni pedia” আর ডাউনলোড করুন রমাদান অ্যাপটি। জানাবেন আপনার ভালো লাগা না লাগা।)

Thursday, May 16, 2019

যাকাত কি?

যাকাত কি?
(রমাদান অ্যাপ থেকে সংগৃহীত)
যাকাত  (আরবি:  زكاة‎‎ zakāt,   যা  পরিশুদ্ধ  করে, আরও আরবি: زكاة ألمال  ‎‎,  সম্পদের যাকাত )
[১] হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।[২]
[৩] সাধারণত নির্ধারিত সীমার অধিক সম্পত্তি হিজরি ১ বছর ধরে থাকলে মোট সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) বা ১/৪০ অংশ বিতরণ করতে হয়।[৪]
[৫] ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ এবং যাকাত শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে  যাকাত  শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। নামাজের পরে সবচেয়ে বেশি বার এটি উল্লেখ করা হয়েছে।[৬]
কুরআন মজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ۱۱۰
  ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন।'
-সূরা বাকারা : ১১০
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۵۶
‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’
-সূরা নূর : ৫৬
সূরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আযীম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠۱۶۲
‘এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’
অন্য আয়াতে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-
خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ۱۰۳
‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
-সূরা তাওবা : ১০৩
(গুগল প্লেতে যান,
সার্চ করুন " রমাদান Sunni pedia" আর ডাউনলোড করুন রমাদান অ্যাপটি। জানাবেন আপনার ভালো লাগা না লাগা।)

Wednesday, May 1, 2019

আকাঈদঃরওজায় আতহারে চাওয়া নিয়ে শির্ক ফতোয়ার পোস্টমর্টেম।


"মে তো মালিক হী কাহুংগা
কি ও মালিক কে হাবীব
ইয়া'নী মাহবুব ওর মুহীব মে
নেহী মেরা তেরা"।আলা হযরত (রহ)
কোরআন বলেقَالَ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ
অর্থাৎ: "সোলায়মান (আঃ) মুসলমানদের বলেন,কে আছো যে বিলকিসের সিংহাসন এখানে পোছে দেবে"।
সোলায়মান (আঃ) নবী হয়ে উম্মতের কাছে চাইলেন? আল্লাহ কি উনাকে দিতেন না?এই চাওয়া দ্বারা তিনি শির্ক করলেন নাতো?
কোন বেকুবও এমন প্রশ্ন উত্থাপন করার সাহস করে কি?
তাহলে কি আমরা উম্মত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চাইতে পারবোনা?আর যদি চাওয়া শির্ক হয় তবে সোলায়মান আঃ এর বিষয়ে কি বলবেন?
দেখুন, আবে হালায় মিজানুর রহমান আযহারীর এক ভিডিওতে আমাদের রাসূল (দ) থেকে চাওয়া কেও শিরক বললো।সে কি শির্ক এর সংজ্ঞা জানেনা? নাকি ইলাহ শব্দের ভুল ব্যাখ্যা করে বসে আছে।আসুন আলোচনায় আসি।
বোখারী শরীফ এ রাসূল (দ) বলেন:
و أنى أعطيت بمفاتيح خزائن الأرض
অর্থাৎ: এবং নিশ্চয়ই আমাকে যমীনের ধন-ভান্ভার সমূহের চাবি দেওয়া হয়েছে।
এখন হুজুর (দ) কি ধন-ভান্ভার আত্মীয় স্বজন নিয়ে ভোগ করেন?কোন মোমেন এমন কথা বলার হিম্মত রাখেনা। সুতরাং আকা(দ) সর্বোদা উম্মতদের দান করে থাকেন।দাতা করতে পারলে গ্রহীতা চাইতে পারবেনা কেন।
আচ্ছা,উজীর যখন প্রজাদের খাদ্য বিতরণ করেন তখন প্রজারা কি বাদশাহ কে ভুলে যায়? নাকি উজীর কেই বাদশাহ মনে করে? তাহলে মিজান সাব কিভাবে শির্কের গন্ধ পেল। আল্লাহর এ মালিকানায় রাসূল (দ) ই বাদশাহ আর আউলিয়া কেরাম উজীর।
এখন কিছু শুকনো মোল্লা বলবে, যখন হায়াত ছিলো!?
উত্তর:-

أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون
رواه البزار (256)، وحسنه الألباني في السلسلة الصحيحة " (621)
অর্থাৎ:"নবীগন(আঃ) কবরে জীবিত এবং নামাজ পড়েন"।সুনান বায্যার (২৫৬) আলবানী হাদীস কে হাছান বলেছে।কেউ ঘাবড়াবেন না। আমাদের কাছে সহীহ সনদও আছে।
একটি বিষয় লক্ষ্য করুন। দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের সব চেয়ে কল্যাণ কর বিষয় কোনটি ? অবশ্যই অবশ্যই গুনাহ মাফ হওয়া।
আসুন একটা হাদীস দেখি
تعرض علي أعمالكم فما وجدت من خير حمدت الله عليه، وما وجدت شر استغفرت لكم
অর্থাৎ: তোমাদের আমল আমার কাছে পৌঁছে। যখন ভাল পাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।আর খারাপ দেখলে তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।(সুনান বায্যার)
কোরআনুল হাকিম বলে:-
ْ ﻭَﺳَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ,
“অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,( ﷺ )” [৯:৯৪]।
সুতরাং, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য এবং কিছু চাওয়া যাবে। তবে, আল্লাহর সহীত কাউকে সমকক্ষ করা ব্যাতীত।আর হুজুরে আকরাম (দ) এর কাছে চাওয়া সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত।

Monday, April 29, 2019

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরূদ শুনেন এবং দরূদ পাঠকারীকে চিনেন ?

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরূদ শুনেন এবং দরূদ পাঠকারীকে চিনেন ?

হাদিস প্রসঙ্গ“হাদীসের নামে জালিয়াতি" বইয়ের ২৮৭ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভীর মন্তব্য ব্যক্ত করে দাবী করেছেন যে, রাসূল (দ) দরূদ সালাম শুনতে পান না।
“হাদীসের নামে জালিয়াতি" বইয়ের ২৮৭ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভীর মন্তব্য ব্যক্ত করে দাবী করেছেন যে, রাসূল (দ) দরূদ সালাম শুনতে পান না।

সে আর কোন গ্রহণযােগ্য দলীল উপস্থাপন করতে পারেনি এবং কিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। ইনশাআল্লাহ!উক্ত বইয়ে আব্দুল হাই লাখনৌভীর বক্তব্যটি হলাে প্রচলিত যে সকল বানােওয়াট ও মিথ্যা কথা রাসূল (দ) এর নামে বলা হয় তার মধ্যে রয়েছে যদি কেউ রাসূল (দ) এর উপর দরূদ পাঠ করে, তবে সেই ব্যক্তি যত দূরেই থাক, তিনি কারাে মাধ্যম ছাড়াই তা শুনতে পান।
উক্ত বইয়ে আব্দুল হাই লাখনৌভীর বক্তব্যটি হলাে প্রচলিত যে সকল বানােওয়াট ও মিথ্যা কথা রাসূল (দ) এর নামে বলা হয় তার মধ্যে রয়েছে যদি কেউ রাসূল (দ) এর উপর দরূদ পাঠ করে, তবে সেই ব্যক্তি যত দূরেই থাক, তিনি কারাে মাধ্যম ছাড়াই তা শুনতে পান।

সাবাস! সাবাস!! আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে, যে আব্দুল হাই লাখনৌভীর কথা শুনে কোন প্রমাণ ছাড়াই হাদিসকে (বা কোন বিষয়কে) জাল, বানােয়াট বা মিথ্যা বলতে দুঃসাহস করছে । তাই বেশি কিছু না বলে আমি তার জবাবে দলীল উপস্থাপন করতে চাই। যাতে সাধারণ মুসলমানগণ সহজেই বুঝতে পারেন, কার বক্তব্য সঠিক আমাদের কান আর রাসূল (দ) এর কান মােবারককে তারা এক মনে করছেন যা সম্পূর্ণ কুফুরী ও রাসূল (দ) এর শানে বেয়াদবীরই অন্তর্ভুক্ত এবং তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুজিজা অস্বীকার করারই নামান্তর। রাসূল (দ) এর কান মােবারক কারও কানের মত নয়, তা নবী করীম (দ) নিজেই বলছেন।যেমন হাদীসে পাকে বর্ণিত আছে
দলীল নং-১-১৪
হযরত আবু যার আল গিফারী (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে যে,

عن أبي ذر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إني ارى مالا ترون، واسمع ما لا تسمعون، إن السماء أطت، وحق لها أن تئط، ما فيها موضع اربع أصابع إلا وملك واضع جبهته ساجدا لله، .
“রাসূল (দঃ) ইরশাদ ফরমান, আমি এমন কিছু দেখি, যা তােমরা দেখনা এমন কিছু শুনি, যা তােমরা শুনাে না। আকাশ বােঝার কারণে “চড় চড়” করে, (তাও শুনি) তার ‘চড় চড়' করাই সঙ্গত, কেননা, আকাশে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা নেই, যেখানে কোন একজন ফেরেস্তা আল্লাহর সামনে মাথা নত করে রাখেনি।”
উক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা গেল, রাসূল (দ) ফেরেস্তাদের দাঁড়ানাে এবং তাদে ওজনে আকাশ থেকে আসার শব্দ শুনেছেন এবং দেখেছেন তারা কীভাবে দাড়িয়ে আছেন। অথচ সাহাবীদের কাছে তা সম্পূর্ণ অদৃশ্যই ছিল।
(ক) ইমাম তিরমিযী: আস সুনান: কিতাবুদ যুহুদ : ৪/১৩৪পৃ. হাদিস- ২৩১২ (খ) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলঃ আল মুসনাদঃ ৫/১৭৩পৃ. (গ) ইমাম ইবনে মাজাহঃ আস্-সুনান: কিতাবুদ যুহুদ ২/১৪০২পৃ. হাদিসঃ ৪১৯০ (ঘ) ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানি : হুলিয়াতুল আউলিয়া :২/২৩৬পৃ. (৩) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতিঃ খাসায়েসুল কোবরা: ১/১১৮পৃ. হাদিস- ৩০৬ (চ) আবু নসার মারওয়াযী,তাজিমে কদ্বরুল সলাত,১/২৫৯পৃ.হাদিস,২৫১ (ছ) বার,আল-মুসনাদ,৯/৩৫৭পৃ.হাদিস,৩৯২৫ (জ) ইবনে শায়খ ইস্পাহনী,আল-আজিমাত,৩৯৮২পৃ.হাদিস,৫০৭ (ঝ) হাকিম নিশাপুরী,আল-মুস্তাদরাক,৪/৬২৩পৃ.হাদিস,৮৭২৬ (ঞ) হাকিম নিশাপুরী,আল-মুস্তাদরাক,২৫৫৪পৃ.হাদিস,৩৮৮৩ (ট) বায়হাকী,শুয়াবুল ঈমান,২২৬-হাদিস,৭৬৪ (ঠ) বায়হাকী,আস্-সুনানিল কোবরা,৭৮৩-হাদিস,১৩৩৩৭ (ড) গভী,শরহে সুন্নাহ,১৪/৩৭০পৃ.হাদিস,৪১৭২। (ঢ) আলবানী: সিলসিলাতুস সহীহাহু: হাদিস- ১৭২২, তিনি বলেন, হাদিসটি সহীহ।
দলীল ১৫-২১

وابن عساكر التاريخيهما، عن العباس بن عبد المطلب قال: قلت: يا رسول دعانى الی الدخول في دينك أمارة لبيوتك، رأيتك في المهد ثناغي القمر وتشير إليه بأصبعك فحيث أشرت إليه مال قال: «إني كنت أحدثه ويحدثني، ويلهيني عن البكاء، و أسمع وجبته حين يسجد تحت العرش» ----- قال البيهقي تفرد به احمد بن ابراهيم الجبلي وهو مجهول وقال الصابوني : هذا حديث غريب الاسناد والمتن فى المعجزات حسن .
-"ইমাম বায়হাকী, দালায়েলুল নবুওয়াতে, সাবুনী তাঁর মাতীন গ্রন্থে, খতিব বাগদাদী তারীখে বাগদাদে এবং ইমাম ইবনে আসাকির তারীখে দামেস্কে :-হযরত আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল (দ) কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ
হযরত আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল (দ) কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ(দ) আমি আপনার নবুয়তের এ আলামত দেখে ঈমান এনেছি যে, তা হল আপনি চাঁদের সাথে শিশু অবস্থায় বাক্যলাপ করেছিলেন এবং তার দিকে আঙ্গুলে ইশারা করছিলেন, আপনি যেদিকে ইশারা করতেন, চাঁদ সেদিকেই হেলে যেত। রাসূলুল্লাহ (দ) বললেন, আমি তখন চাঁদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং চাঁদ আমার সাথে কথা বলছিল। সে আমার ক্রন্দনে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। আর চন্দ্র যখন আল্লাহর আরশের নীচে সেজদা করে, তখনও আমি তার তাসবীহ শুনতে পাই।”ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, এই হাদিসটি ‘আহমদ ইবনে ইব্রাহীম জাবালী একাই বর্ণনা করেছেন। সে একজন অজ্ঞাত রাবী। আল্লামা ছাবুনী (এ) বলেন, এ হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে গরীব আর মুজেজার ব্যাপারে মতনটি হাসান বা সুন্দর। উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হল আরশের নিচের সিজদার তাসবীহের আওয়াজও নবিজী(দ) শুনতেন শিশু অবস্থায়ই। তাহলে এখনকার অবস্থা কী হবে?

(ক) আবু স'দ, শরফে মােস্তফা,১/৫৮পৃ (খ)যুরকানী,শরহুল মাওয়াহেব,১/২৭৫পৃ. (গ)বুরহানুদ্দীন হালবী, সিরাতে হালবিয়্যাহ,১১১৫,(ঘ) ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ,১/৩৪৯পৃ. ১০/৪৮১,(ঙ) ইবনে কাসীর, বেদায়া ওয়ান নিহায়া,১২১১(চ)বায়হাকী, দালায়েলুল নবুয়ত,২৪১ (ছ)ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি : খাসায়েসুল কোবরা ১০
দলীল নং- ২২-৩৭
প্রসিদ্ধ একটি হাদিস হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত,

عن أبي هريرة، أن رسول اللہ صلی الله عليه وسلم قال: «ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتی ارد عليه السلام»
-“রাসূলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান, যখন কোন উম্মত আমার প্রতি সালাম প্রদান করে, আমার রূহ মােবারককে আল্লাহ তায়ালা (যেহেতু অতীতে) আমার নিকট দিয়েছেন যে, আমি তাদের প্রদানকৃত সালামের জওয়াব দেই।”
ক. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ : ২৫২৭ পূ, হাদিস নং : ১০৮৬৭ খ, ইমাম তাবরানী : মুজামুল আওসাত : ৩/২৬২ পৃ. : হাদিস : ৩০৯২ এবং ৯৩২৩ গ, বায়হাকীঃসুনানে কোবরাঃ ৫/২৪৫ পৃ.হাদিসঃ ১০০৫০ ঘ, দাওয়াতুল কাবীর, ১২৬১, হাদিস,১৭৮ ঙ, ইমাম বায়হাকীঃ শুয়াবুল ঈমান : ৬/৫২পৃ.হাদিস : ৫১৮১ এবং ৪১৬১
. ইমাম মানাৰী : ফয়জুল কাদীর : ৫/৪৬৭ পৃ. ছ, ইমাম মুনযির : আত্-তারগীব ওয়াতৃ-তারহীব : ২/৩৬২ পৃ: হাদিস : ২৫৭৩
জ,ইমাম ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ । ১০/১৬২ পৃ ঝ, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : আল হাজীলী ফাওয়া : ১/২০০ পৃ. ঞ, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : হুসনুল মাকাসিদ ফি আমালিল মওলুদ। ৭-৮ পৃ. ট. আল্লামা ইমাম সাখাভী : কওকূল বদী : ১৪২ পৃ. ঠ, আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানাঃ ৪২৭ পৃ. হাদিস- ৯৮২ ড, আল্লামা আলুনী: কাশফুল খাফা: ২১৭৩, হাদিস- ২২৪৫ ঢ. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি: আদদুররুল মানছুর: ১/২৩৭ পৃ.. ণ.আবু দাউদ,আস-সুনান,২২১৮পৃ.হাদিস,২০৪১, তার,আলবানী এ গ্রন্থের তাহকীকে বলেন সনদটি হাসান।ত,ইমাম রাহবিয়্যাহ,আস্-সুনান,১/৪৫৩পৃ.হাদিস,৫২৬.
উক্ত হাদীসে দরূদ শরীফে সালাম ফিরিশতারা রাসূল (দ) এর নিকট পৌঁছে দেন- উল্লেখ নেই, বরং রাসূল (দ) পৌছানাে ছাড়া নিজেই শুনেন এবং তার জবাব দেন।
ইমাম সাখাভী (র) ও আল্লামা আযলুনী (র) বলেন,
رواه أحمد و أبو

عن ابي هريرة رفعه وهو صحيح
-“উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ ও ইমাম আবু দাউদ হযরত আবু হুরায়রা হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদিসটির সনদ সহিহ বা বিশুদ্ধ।”
ক. আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা: ৪২৭ পৃ. হাদিস : ৯৮২ , খ. আল্লামা আযিলুনীঃ কাশফুল খাফা: ১৭৩, হাদিস : ২২৪৫ গ. ইমাম বুরকানী,১২২০২ পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ,বয়রুত।
দলীল নং- ৩৮-৩৯

হযরত আবু দারদা (রা) বলেন, হুযুর (দ) ইরশাদ ফরমান,
قال الطبراني حدثنا يحيى بن أيوب العلاف حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا يحيى بن أيوب عن خالد بن يزيد عن سعيد بن أبي هلال عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اکثروا الصلاة علي يوم الجمعة فإنه يوم مشهود تشهده الملائكة ليس من عبد يصلي على إلا بلغني صوته حيث كان قلنا وبعد وفاتك قال وبعد وفاتي إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء -
আমরা জুমার দিন আমার উপর অধিক হারে দরুদ পাঠ করাে, কেননা এ দিবসে ফিরেশতাগন তার (দরুদের) সাক্ষ্য দেবেন। যে কোন ব্যক্তি আমার উপর দুরুদ পাঠ করে তার আওয়াজ আমার নিকট পৌছে থাকে সে যেখানেই থাকুন না কেন। সাহাবীগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ)! আপনার ওফাতের পরও কি)? ইরশাদ ফরমান, আমার ওফাতের পরও (নবীগণ স্বীয় কবরেও জিন্দা)। আল্লাহ তায়ালা নবীদের শরীর স্পর্ষ করা যমীনের প্রতি হারাম করে দিয়েছেন।
দেখুন, ইবনে কাইয়ুম (ওফাত.৭৫১হি.) হলাে আহলে হাদিস ও দেওবন্দীদের ক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মুহাদ্দিস। তিনিই হাদিস সংকলন করেন যে, দরূদই টপ ট পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পান, দেওবন্দীদের ও আহলে হাদিসদের গুরু ইবনে কাইয়ুম-এর উক্ত বর্ণিত হাদিস থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরােধ রইল।
দলীল নং- ৪০-৫০
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الله رفع لي الدنيا فانا انظر إليها وإلى ما هو كائن فيها إلى يوم القيامة كما انظر إلى كفي هذه، -
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (র) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার জন্য বিশ্বকে তুলে ধরেছেন। তখন আমি এ দুনিয়া এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, এমনভাবে দেখতে পাচ্ছি, যেভাবে আমি আমার নিজ এই হাত দেখতে পাচ্ছি। এ হাদিস থেকে প্রমানিত হলাে রাসূল (দ.)। শুধু আমাদের দরুদ শুনেন তা নয়, বরং তিনি আমাদের দেখতে পান।
ক, ইমাম তাবরানী: মুজামুল কবীর: ২৪১২পু, হাদিস নং-১০৮৯
, ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানি : হলিয়াতুল আউলিয়া : ৬/১০১ পৃ. তরজুমা নং- ৩৩৮ ", গ,ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়তীয় খাসায়েসুল কোবরাঃ ২১৯৩ : হাদিস : ২১১৭ ঘ. ইমাম সুয়ূতি: জামেউল জাওয়ামী : হাদিস নং- ৪৮৪৯ ঙ. ইমাম যুরকানীঃ শরহুল মাওয়াহেঃ ৭/২০৪ পূ. চ, আল্লামা ইমাম কুয়ালানীঃ মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ ৩৯৫ পু. দারুল কুতুৰ হসলামিয়্যাহ ৰয়।
ছ,মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী: জা'আল হক: ১/১০৩ পূ. (বাংলা সংস্করন),জ, আহলে হাদিস নাসির উদ্দিন আলবানী ঈছু জামে : হাদিস : ১৬২৪
জ, আহলে হাদিস নাসির উদ্দিন আলবানী ঈছু জামে : হাদিস : ১৬২৪ ঝ,মুত্তাকী হিন্দী,কানযুল উম্মাল,১১৪২০হাদিস,৩১৯৭১ ঞ,ইমাম মুনযিরী,তারগীব ওয়াতারহীব,/২১১. ট,হাইসামী,মাযমাউদ,মাযমাউয যাওয়াইদ,৮/২৯০,ঠ, ইমাম আহমদ: মুসনাদে আহমদ: হাদীস ৬৬৬৬
সূত্র:- প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

Wednesday, April 24, 2019

ইসলামের সঠিক বিশ্বাস ১

ইসলামের সঠিক বিশ্বাস ১
ইলাহ:-
আধুনিক যুগের মানুষের মন নতুনত্বের প্রতি আসক্ত। প্রত্যেক জিনিসের আধুনিক ফ্যাশন আজ কালের অতি প্রিয়। কতেক আধুনিক ধােকাবাজ তৌহীদের অর্থও আধুনিক করে নিয়েছে। রিসালত, নবুয়্যত ও ঈমানের শরবতকে আধুনিক কৌশলে পাত্রস্থ করে ব্যবহারে মত্ত হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের ঈমানে কাঁপন ধরেছে। কাজেই প্রয়ােজন অনুভব করা হলাে যে, মুসলিম মিল্লাতকে এ চার শব্দগুলাের ঐ পুরানাে নিখুঁত অর্থ বাতলায়ে দেয়া যাক, যা চৌদ্দশত বছর থেকে মেনে আসা হচ্ছে। প্রত্যেক ব্যক্তি জ্ঞাত আছেন যে, তৌহিদ এবং রেছালাত এমন মৌলিক আকিদা বা বিশ্বাস যার উপর ইসলামের মূলভিত্তি স্থাপিত। কালমা-ই- তায়্যৈবা
لا اله الا الله محمد رسول الله
পড়ে সবাই ইসলাম ধর্মের মহান নেয়ামত ঈমান অর্জন করেন। কিন্তু আমাদের জানা দরকার اله“ইলাহ' অর্থ কি? এবং উলুহিয়াত বা আল্লাহর একত্তবাদের পরিধি বা ভিত্তি কি জিনিসের উপর? উলুহিয়্যাত এবং আবদিয়াত (দাসত্ত) এর পৃথককারী জিনিসটি কি? এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই। কিন্তু ইলাহ কি? সাধারণতঃ বলা হয়, যে, ইলাহ তিনিই যিনি গায়েব (অদৃশ্য) জানেন। ইলাহ তিনিই, যিনি মুশকিল কুশা (অসাধ্য সাধনকারী) হাজত রওয়াহ (মনবাসনা পূর্ণকারী) এবং অভিযােগ শ্রবণকারী, সাহায্যদাতা। ইলাহ তিনিই যিনি দূর থেকে শুনেন এবং দেখেন। এ বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য এ যে সাধারণত মুসলিম মিল্লাত, আম্বিয়া-ই কেরাম, আউলিয়ায়ে এজাম বিশেষ করে হুযুর সায়্যৈদুল আম্বিয়া (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অদৃশ্য জ্ঞানী, হাজির নাজির, অভিযােগ শ্রবণকারী, সাহায্যদাতা হিসেবে জানেন এবং বিশ্বাস করেন।ওদের মতে এরা সব মুশরীক, কেননা তারা বান্দাদেরকে ইলাহ মানছে।
আরবের মুশরীকগণ তাদের মুর্তিগুলাের (প্রতিমা) ব্যাপারে এ আকিদা রাখতাে যে, এরা গায়ের (আদৃশ্য) জানে, প্রার্থনা কবুল করে ওরা মুশরীক ছিল। এ মুসলিমরাও নবী-ওলীগণের মধ্যে ক্ষমতা মেনে নিয়ে আরবের মুশরীকদের ন্যায় শির্কে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি দেখাচ্ছি যে, ইলাহ শব্দের এ অর্থ কোন মতে শুদ্ধ নয় এবং না এসব জিনিসের উপর উলুহিয়াত নির্ভরশীল। (যদি হয়) তাহলে কোরআনের আলােকে লক্ষাধিক ইলাহ মানতে হবে।
গায়েব জানা:-
যদি গায়েব জানা উলুহিয়াতের পরিধি বা ভিত্তি হয়, তবে পবিত্র কোরআন করীম হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর ব্যাপারে ফরমাচ্ছেন যে, তিনি তাঁর কাউম (গােত্র) কে এ বলে সম্বােধন করেন و ٱنبئكم بما تٱكلون و ما تدرون فى بيوتكم "এবং আমি তােমাদের সংবাদ দিচ্ছি যে, যা কিছু তােমরা তােমাদের ঘরে খেয়ে থাক এবং অবশিষ্ট রাখ"। স্মর্তব্য যে, تٱكلون এবং تدخرون উভয় ক্রিয়াই মােযারে, যেখানে (ক্রিয়ায়) বর্তমান আর ভবিষ্যৎ দুইটিকাল নিহিত আছে। তবে এর অর্থ হবে এ যে, যা কিছু তােমরা আপন ঘরসমূহের রান্না ঘরে বসে খাইতেছ, কিংবা খাবে, অবশিষ্ট রাখতেছ কিংবা রাখবে, আমি সব কিছুর খবর তােমাদের দিতে পারবাে। অর্থাৎ ক্ষেতসমূহে দানা বা বীজ, বাগান সমূহে ফল জন্মে, প্রত্যেক ফলের বীজের উপর ভক্ষনকারীর মােহর হয়। আমি ঐসব মােহর জানি এবং ভক্ষনকারীদেরও জানি। চিন্তা করুন তাে, আল্লাহ তায়ালা ঈসা মছিহ আলাইহিস সালামকে কত ইলমে গায়েবের ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
যদি গায়েব জানা উলুহিয়াতের বৈশিষ্ট্য হয়, তবে কোরআনের আলােকে জনাব ঈসা মছিহ আলাইহিস সালাম ইলাহ্ হয়ে যাচ্ছে।

সৃষ্টিতে নির্দেশ জারী করা:-
যদি সৃষ্টিতে নির্দেশজারী করা এবং পানি, চাঁদ সূর্য উলুহিয়াতের কব্জায় হয়; তবে কোরআন মজিদের দৃষ্টিতে হযরত সােলায়মান আলাইহিস সালামকে ইলাহ মানতে হবে। কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাম) সম্বন্ধে কোরআন করীম বলেন-
و سخرنا له الريح تجرى بأمره رخاه حيث أصاب
অর্থাৎ তখন আমি তার অধীন করেছিলাম বায়ুকে যা তার আদেশে যেখানে ইচ্ছে সেথায় প্রবাহিত হতাে। আরও বলা হয়েছে
له الريح عاصفة تجرى بأمره
অর্থাৎ আমি তাঁর অধীনে করেছিলাম তেজস্সী বায়ুকে, যা তাঁর নির্দেশে প্রবাহিত হতাে।
প্রতিয়মান হলাে যে, আল্লাহতায়ালা প্রবল এবং স্বাভাবিক বায়ু সমূহেকে (পূর্বের হােক কিংবা, পশ্চিমের, দক্ষিণের হােক কিংবা উত্তরের) হযরত সােলাইমান (আলাইহিস সালাম) এর ফরমান পালনে বাধ্য করে দিয়েছেন। এটাও বুঝা গেল যে, বৃষ্টি দ্বারা (ফসল) উৎপাদন হয়, যার উপর তামাম জীবজন্তুর জীবন নির্ভরশীল। এ যুক্তির আলােকে সমস্ত সৃষ্টির রীতি-নীতি হক তায়ালা হযরত সােলাইমান আলাইহিস সালাম এর নির্দেশাধীন করে দিয়েছেন।
উলুহিয়াতের এ দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকেও ইলাহু মানতে হবে। (নাউযুবিল্লাহ মিন মিনহু।)
মূল: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নইমী (রহ)

Tuesday, April 16, 2019

রাসূল (দ) সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হত না'(১)

‘রাসূল (দ) সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হত না'(১)

প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের (মতিউর রহমান লিখিত) ১৮৬ পৃষ্ঠায় লিখছে এটি লােক মুখে হাদীসে কুদসী হিসেবে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। অপরদিকে প্রচলিত জাল হাদিস ৫৬ পৃষ্ঠায় (জুনাইদ বাবুনগরী লিখিত) উক্ত হাদিসটিকে জাল প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।সে আরও লিখেছে, “অথচ হাদিস বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে একমত যে, এটি একটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত, মিথ্যুকদের বানানাে কথা, “রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীসের সাথে এর সামান্যতম সম্পর্ক নেই।”উক্ত প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের ১৮৭ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ করেছে- “একমাত্র তার খাতিরেই সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আকীদা রাখার সুযােগ নেই যতক্ষণ পর্যন্ত দলীল প্রমাণ না পাওয়া যাবে। অথচ উক্ত বইয়ে সে কোন মুহাদ্দিসের রায় ইবারত সহ উপস্থাপন করতে পারে নি।
তথাকথিত আরেক লেখক ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার লিখিত ঈমান বিধ্বংসী বই হাদীসের নামে জালিয়াতি"এর ২৪৭ পৃষ্ঠায় কোন মুহাদ্দিসের মতামত ছাড়া মনগড়া কটি লাইন লিখে দাবী করেছেন হাদিসটি বানােয়াট ও ভিত্তিহীন। তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে الافلاك শব্দে বা বাক্যে কোনাে হাদীসের গ্রন্থে কোনাে প্রকার সনদ বর্ণিত হয়নি। এ হাদিসটিকে অনেক বাতিল পন্থীদের গ্রন্থে জাল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তাদের সকলের নামের তালিকা দিয়ে আমি আমার কিতাব দীর্ঘায়িত করতে চাই না। আমি প্রথমে এই বিষয় বস্তুর সমর্থনে কিছু হাদিস উল্লেখ করব,তার পরে সরাসরি الافلاك শব্দসহ রেওয়ায়েত বর্ণনা ও তার ব্যাপারে গ্রহনযােগ্য মুহাদ্দিসদের বক্তব্য উল্লেখ করব এবং এমনকি বাতিল পন্থীদের বক্তবও দলিল হিসেবে উল্লেখ করব।
দলীল নং-১-২৪
প্রথমে যে হাদিস খানা আমি উল্লেখ করছি সে হাদিস সম্পর্কে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বইয়ের ২৪৮ পৃষ্ঠায় মওদু প্রমানের অনেক অপ্রচষ্টা চালিয়ে সর্বশেষে দ্বঈফ বলেছেন।

অথচ সে নিজেই ২৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন, “ইমাম হাকিম নিশাপুরী হাদিসখানা সংকলন করে বলেছেন হাদিস খানা সহিহ।' এখন আমার প্রশ্ন হলাে তিনি কী তাহলে ইমাম হাকেমের চেয়েও বড় মুহাদ্দিস হয়ে গেলাে? যে হাদিস বর্ণনা করে বলেন সহিহ আর সে কোন গ্রহণযােগ্য মুহাদ্দীসের মতামত ইবারত উল্লেখ না করে কিভাবে জাল বলার মত দুঃসাহস পেল! উক্ত হাদিস সম্পর্কে আমি সামনে দীর্ঘ আলােচনা করব ইনশাআল্লাহ। হাদিসটি নিম্নরূপঃ
حدثنا أبو سعيد عمرو بن محمد بن منصور العدل، ثنا أبو الحسن محمد بن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ثنا أبو الحارث عبد الله بن مسلم الفهري، ثنا إسماعيل بن مسلمة، أبا عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن جده، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لما اقترف آدم الخطيئة قال: يا رب أسألك بحق محمد لما غفرت لي، فقال الله: يا آدم كيف
عرفت محمدا ولم أخلقه؟ قال: يا رب، لأنك لما خلقتني بيدك ونفخت في من روحك رفعت راسيي فرايت على قوام العرش مكتوبا لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنك لم تضيف إلى اسمك إنا أحب الخلق إليك، فقال الله: صدقت يا آدم، إنه لأحب الخلق إلي اذعني بحقه فقد غفرت لك ولولا محمد ما خلقتك «هذا حديث صحيح الإسناد وهو اول حدیث ذكرته لعبد الرحمن بن زيد بن أستلم في هذا الكتاب.
-“হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ ফরমান হযরত আদম (আঃ) যখন অপ্রত্যাশিতভাবে (ইজতেহাদি) ভুল করলেন। তখন,হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর দরবারে আবেদন করলেন, হে পরওয়ারদিগার, হযরত মুহাম্মদ (দ) এর উসিলায় আমাকে মার্জনা করুন। আল্লাহ রব্বল আলামীন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি মুহাম্মদ (দ) কে কিভাবে চিনেছ? জবাৰে আদম আরজ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি স্বীয় কুদরতি হাত দ্বারা আমাকে সৃষ্টি করে আমার দেহের অভ্যন্তরে যখন আত্না প্রবেশ করিয়ে ছিলেন, তখন আমি মাথা উঠিয়ে আরশের পায়ায় লেখা দেখেছিলাম, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর লাহ" আমি বুঝতে পারলাম, আপনি আপন নামের সাথে এমন একটি নাম মিলিয়ে রেখেছেন যােট সমগ্র সৃষ্টি জগতে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, হে আদম! তুমি সত্য বলেছ। নিশ্চয় ঐ নাম সমগ্র জাহানে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। যেহেতু তুমি সেই নাম নিয়েই আমার কাছে প্রার্থনা করেছ, সেহেতু আমি তােমাকে ক্ষমা করে দিলাম। যদি মুহাম্মদ (দ) না হতেন,আমি তােমাকেও সৃষ্টি করতাম না।”
১.ইমাম হাকেম নিশাপুরী-আল মুস্তাদরাক : ২/৪৮৬ পৃ. হাদিস ঃ ৪২২৮ ইমাম হাকেম বলেন হাদিসটির সনদ সহিহ
২.ইমাম তাবরানী-মু'জামুল আওসাত : ৬/৩১৩ হাদিস ঃ ৬৫০২
৩.তাবরানী-মু'জামুস সগীর : ২১৮২ হাদিসঃ ৯৯২
৪.ইবনে হাজার হায়সামী-মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২৫৩ : পৃ.
৫.ইমাম ইবনে আসাকির_তারিখে দামেস্ক : ৭/৪৩৭

৬.আল্লামা ইবনে কাসীর_বেদায়া ওয়ান নেহায়া ১/১৮ পৃ.
৭.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী_খাসায়েসুল কোবরা, ১১২ হাদিস : ১২
৮.ইমাম বুরহান উদ্দিন হালবী-সিরাতে হালবিয়্যাহ ১৫৫
৯.ইমাম কুস্তালানী-মাওয়াহেবে লাদুনীয়া ১৮২ পূ.
১০.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি-তাফসীরে দুররে মানসুর ১১৪২ পৃ.
১১.ইমাম বায়হাকী-দালায়েলুল নবুয়ত ৫/৪৮৯
১২.ইমাম হাকেম নিশাপুরী-আল মাদখাল : ১১৫৪
১৩.ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানী-হলিয়াতুল আউলিয়া
১৪.আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী-শাওয়াহিদুল হক :১৩৭
১৫,আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী-আনােয়ার-ই-মুহাম্মদিয়া:১-১০

১৬.আল্লামা শাহ আঃ আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী : তাফসীর-ই-আজীজী :১৩
১৭,আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী : আফযালস্ সালাত:১১৭

১৮.আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী-তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ১৩৭০ . সূরা মায়েদা আয়াত-১৫
১৯.আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১১১৫ পৃ:
২০.আল্লামা শায়খ ইউসফ নাৰহানী : যওয়াহিরুল বিহার : ১১৪ পৃ:
২১.ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া, ১১৭২ -

২২.ইউসুফ নাৰহানী : হজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৭৯৫ . এবং ৩১ . আৰু অফিকহিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর।
২৩.আল্লামা শফী উকাড়বী-যিকরে হাসীন, ৩৭ পৃষ্ঠা।
২৪.মাওলানা আশরাফ আলী থানবী : নশরুত্তীব পৃষ্ঠা নং- ২৮
প্রমাণিত, হলাে রাসূল (দ) সৃষ্টি কে করা না হলে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হত না, সুতরাং আদম (আঃ) না হলে হয়ত আমরা কোন মানবের উৎপত্তিও হত না। এই হাদিসটিকে যেহেতু গ্রহনযােগ্য প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগন সহিহ বলেছেন। ইমাম হাকিম সনদের দিক দিয়ে সহিহ বলেছেন,তার এ অভিমতকে বহু ইমামগণ করেছেন। তার মধ্যে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি , শায়খ ইউসুফ নাবহানী, শা আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী, কুস্তালানী, যুরকানী, ইসমাঈল হাক্কী, ইবনে হাযার হা ইবনে কাসীর, বুরহানউদ্দীন আলভী, এমনকি দেওবন্দের অন্যতম আলেম আল আলী থানবীরও উক্ত হাদিসটির ব্যাপারে হাকেমের সহিহ হওয়ার মতকে মেনে নিয়েছেন তাদের স্বস্ব গ্রন্থে। উল্লেখ্য যে, এই হাদিস দ্বারা উসিলার বৈধতা পা পাওয়া গেল।
দলীল নং- ২৫-৩৩
প্রথম দীর্ঘ হাদিস থেকে কিছু শব্দ বাদ পড়ে কিছুটা সংক্ষেপে অন্য সনদে উক্ত সাহাবী হতে ইমাম যওযী ও ইমাম সুয়ূতি (র) ইমাম দায়লামীর সূত্রে উত্ত হাদিসটি এভাবে বর্ণনা করেন,

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله مسلم: لما اذنب أدم صلی الله عليه وسلم الذنب الذي أذنبه رفع راسه إلى العرش و قال: أسألك بحق محمد إلا غفرت لي , فأوحى الله إليه , «وما محمد ومن محمد؟» قال: تبارك اسمك، لما خلقتني رفعت راسي إلى عرشك، فإذا فيه مكتوب: لا إله إلا الله محمد رسول الله، فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك , فأوحى الله عز وجل إليه: «يا آدم , إنه أخر النبيين من ذريتك , وإن أمه آخر الأمم من ذريتك , ولولاه يا آدم ما خلقتك»۔
-“হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, যখন হযরত আদম (আঃ) এর ইজতেহাদী ভুল হয়ে যায় তখন তিনি স্বীয় মাথা মুবারক আসমানের দিকে উত্তোলন করলেন এবং নিবেদন করলেন, হে প্রভু, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওসীলায় আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ তা'য়ালা তার প্রতি ওহী প্রেরণের মাধ্যমে বললেন, হে আদম (আঃ)! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ কে? হযরত আদম (আঃ) বললেন, হে সম্মানিত নামের অধিকারী। যখন তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, তখন আমি মাথা উঠিয়ে তােমার আরশে দেখাে আরশের (পায়াতে) লেখা ছিল
لا إله إلا الله محمد رسول الله
তাই আমি বুঝে নিলাম, তুমি যার নামকে তােমার নামের সাথে সংযুক্ত করে লিখে রেখেছ, আমার মনে হয়েছে তিনি তােমার নিকট সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে অধিক প্রিয়ভাজন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করলেন, হে আদম (আঃ)! তুমি সত্য বলেছ। সৃষ্টি জগতে তিনি আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়। তিনি তােমার সন্তানদের মধ্যে সমস্ত নবীদের মধ্যে আখের এবং সর্বশেষ নবী হবেন। তাঁর উম্মত তােমার সন্তানাদিদের মধ্যে সর্বশেষ উম্মত।যদি তিনি (মুহাম্মদ (দ) না হতেন, তাহলে আমি তােমাকেও সৃষ্টি করতাম না।

১.ইমাম তাবরানী : মু'জামুল আওসাত : ৬/৩১৩ পৃ. হাদিস নং- ৬৫০২
২.ইমাম সুয়ূতি : আদ দুররুল মনসুর : ১৫৮
৩.ইমাম সুয়ূতি : আর রিয়াদুল আনিকা, পৃ-৪৮
৪.ইমাম জওজী । আল-ওয়াফা বি আহওয়া লিল মুস্তাফা- ৩৩ পদারুল কুতুৰ ইলমিয়্যাহ, বয়ৱত।
৫.ইমাম জওজী : বয়ানুল মিলাদুন্নবী ঃ ১৫৮ পৃ
৬.ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফিরদাউস : ৫/২২৭
৭.আল্লামা আজলুনী : কাশফুল খাফা : ১/৪৬ এবং ২১৪
৮.শায়খ ইউসুফ নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন। ৭৯৫
৯.তাবরানী,মুজামু-সগীর,ফ১৮২পৃ. হাদিস:৯১২
উক্ত হাদিসের দুটি সূত্রের সনদের গ্রহণযােগ্যতা দেখতে হলে কিতাবের শেষে দেখুন

দলীল নং- ৩৪-৪৬
ثنا جندل بن والق، ثنا عمرو بن اوس الانصاري، ثنا سعيد بن أبي عروبة، عن قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «اوحى الله إلى عيسى عليه السلام يا عيسى آمن بمحمد وامر من أدركه من أمتك أن يؤمنوا به فلولا محمد ما خلفت أدم ولولا محمد ما خلقت الجنة ولا النار ولقد خلقت العرش على الماء فاضطرب فكتبت عليه لا إله إلا الله محمد رسول الله فسكن» هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه "
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'য়ালা হযরত ঈসা (আঃ) এর নিকট ওহী নাযিল করলেন, হে ঈসা! তুমি মুহাম্মদ (দ) এর উপর ঈমান আন এবং তােমার উম্মতের মধ্যে যারা তার যুগ পাবে। তাদেরকে ঈমান আনতে বলাে। কারণ যদি মুহাম্মদ (দ) না হতেন, তাহলে আমি না আদমকে সৃষ্টি করতাম, না বেহেশত, না দোযখ সৃষ্টি করতাম। আমি (আল্লাহ) যখন পানির উপর আরশ তৈরী করেছিলাম, তখন তা এদিক সেদিক কম্পন করতে লাগল। তখন আমি তার উপর কালেমা শরীফ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লিখে দিলাম অতঃপর আরশ স্থির হয়ে গেল।
১.ইমাম হাকেম নিশাপুরী ঃ আল মুস্তাদরাক ২/৬৭১, পৃষ্ঠা হাদিসঃ ৪২২৭
২. আল্লামা ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী শিফাউস সিকাম ৪৫ পৃষ্ঠা
৩. আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী: আফজালুল কুরাঃ
৪. আল্লামা সিরাজুদ্দীন বলকী: ফতােয়ায়ে সিরাজিয়া : ১/১৪০ পৃ.
৫. আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী মাওজুআতুল কবীর ১০১ পৃ.
৬. ইমাম ইবনে সা'দ। আত্-তবকাতুল কোবরা !

৭. ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানীঃ হুলিয়াতুল আউলিয়া
৮,আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি ঃ খাসায়েসুল কোবরাঃ ১/১৪ হাদিসঃ ২১
৯,আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : শরহে শামায়েলঃ ১/১৪২ পূ.
১০.আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানীঃ যাওয়াহিরুল বিহার ঃ ২১১৪ পৃ.
১১. ইমাম যাহাৰীঃ মিনুল ইতিদাল : ৫/২৯৯ পূ. রাবী নং- ৬৩৩৬
১২, আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী লিসানুল মিযান ঃ ৪/৩৫৪ পৃ.
১৩. ইমাম ইবনে হাইয়্যান ঃ তবকাতে মুহাদ্দিসিনে ইস্পাহানী ঃ ৩/২৮৭ পৃ.
১৪.আবু সা'দ ইবরাহিম নিশাপুরী,শরহে মুস্তফাঃ১/১৬৫পৃ.
১৫.যুরকানী,শরহুল মাওয়াহেব:১২/২২০পৃ.
১৬.ইবনে কাসীর,কাসাসুল আম্বিয়া,১/২৯পৃ.দারুল তা'লিফ,কাহেরা,মিশর।
১৭.ইবনে কাসীর,সিরাতে নববিয়্যাহঃ১/৩২০পৃ.দারুল মা'রিফ,বয়রুত লেবানন।
১৮.ইবনে কাসীর,মু'জিজাতুন্নাবী:১/৪৪১পৃ.মাকতুবাতুল তাওফিকহিয়্যাহ,কাহেরা,মিশর।
১৯.ইবনে সালেহ শামী,সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ:১২/৪০৩পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ বয়রুত,লেবানন।

উক্ত হাদিসটিকে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বইয়ের ২৫০ পৃষ্ঠায় জাল প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন অথচ ইমাম হাকিম, সুয়ূতি, ইমাম সুবকী, ইবনে হাজর মক্কী,মােল্লা আলী কারী হাদিসটির সনদ সহিহ বলেছেন। ইমাম হাকিম (র) বলেন, হাদিসটির সনদ সহিহ। উক্ত হাদিসটির ব্যাপারে আমি বিস্তারিত এই কিতাবের শেষে আলােচনা করেছি।
দলীল নং- ৪৭-৪৯
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (দ) ইরশাদ ফরমান :-

عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا أتاني جبريل فقال يا محمد لولاك ما خلفت الجنة ولولاك ما خلقت النار
-“একদা আমার কাছে হযরত জিব্রাঈল (ঘ) এসে বললেন, আল্লাহ পাক । ইরশাদ করেছেন,আপনাকে সৃষ্টি না করা হলে সৃজন না হতাে বেহেশত আর না । দোযখ।”
ক, ইমাম দায়লামী : আল-মুসনাদিল ফিরদাউস : ২/২৪২ তিনি বর্ণনা করে বলেন হাদিসটি সনদের দিক। দিয়ে “হাসান"।
, আল্লামা মােল্লা আলী কারী : মওদুআতুল কবীরঃ ১/২৯৫ পূহাদিস ৩৮৫.পু,মুয়াসাতুর রিসালা, মরুত, লেবানন।
গ, আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানীঃ যাওয়াহিরুল বিহার ঃ ৪/১৬০ পৃ.
দলীল নং- ৫০-৫৪

হযরত সালমান ফারসী (রা) হতে বর্ণিত রাসূল (দঃ) ইরশাদ করেন, একদা জিব্রাঈল (আঃ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আল্লাহ রাব্বল আলামীন । ইরশাদ করেছেন
ان كنت اتخذت ابراهيم خليلا. فقد اتخذتك حبيبا و ان كنت كلمت موسى في ا الأرض تكليما. فقد كلمتك في السماء و ان كنت خلقت عیسی من روح القدس فقد خلقت اسمك من قبل ان اخلق الخلق بالفي سنة و لقد وطات في السماء ماء موطا لم يطاه أحد قبلك. و لا يطاه احد بعدك و ان كنت اصطفيت ادم فقد ختمت بك الأنبياء - وما خلقت خلقا اكرم على منك (وساق الحديث إلى أن قال) ظل عرشى في القيامة عليك ممدود- تاج الحمد على راسك معقود و قرنت اسمك مع اسمى فلا اذكر في موضع حتى تذكر معي - ولقد خلقت الدنيا و اهلها لاعرفهم كرامتك و منزلتك عندی۔ ولولاك ما خلقت الدنيا۔
“আমি যদিও ইব্রাহীম (আঃ) কে খলিল বানিয়েছি কিন্তু আপনাকে বানিয়েছি হাবীব। আমি যদিও মুসা (আঃ) এর সাথে দুনিয়াতে কথা বলেছি, আপনার সাথে কথা বলেছি আসমানে। আমি ঈসা (আঃ) কে রুহুল কুদ্স থেকে সৃজন করলেও আপনাকে করেছি সমগ্র সৃষ্টি জগত সৃষ্টির দু'হাজার বছর পূর্বে। আপনার কদম আসমানের এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আপনার পূর্বে কারাে কদম পৌঁছেনি এবং ভবিষ্যতেও পৌঁছবে না। আমি আদম (আঃ) কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করলেও আপনার মাধ্যমে ঘটিয়েছি নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি । আপনার চেয়ে অধিক সম্মানী কাউকে আমি সৃষ্টি করেনি। কিয়ামত দিবসে আমার আরশের ছায়া আপনার উপর প্রসারিত হবে। প্রশংসার জয়মুকুট আপনার নূরানী মস্তকে শােভা পাবে। আমি আপনার নাম আমার নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছি।যেখানে আমার যিকির চর্চা হবে সেখানে আপনার যিকিরও চর্চা হবে। আমি পৃথিবী এবং পৃথিবীবাসীকে সৃষ্টি করেছি,আমার নিকট আপনার মর্যাদা ও সম্মান কতটুকু তা দেখানাের জন্য জেনে রাখুন,
ولولاك ما خلقت الدنيا
অর্থাৎ আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না।”

১.ইমাম ইবনে আসাকীর: তারীখে দামেস্ক ৩/৫১৭ পৃষ্ঠা।
২.আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী হানাফী ঃ মওদুআতুল কবীর ঃ ১০১ পৃষ্ঠা
৩.আল্লামা ইমাম যুরকানীঃ শরহে মাওয়াহেবঃ ১১৮২
৪ শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ১/২৮৯ পৃষ্ঠা
৫ ইমাম কাজী আয়াজঃ শিফা শরীফঃ২১০৫ পূ.

সূত্রঃ প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর