Thursday, April 11, 2019

নামাজে পাগড়ী বাঁধার ফযিলত প্রসঙ্গে

নামাজে পাগড়ী বাঁধার ফযিলত প্রসঙ্গে

‘প্রচলিত জাল হাদিস' বইয়ের ১২৯ পৃষ্ঠায় (মতিউর রহমান কৃত) লিখেছেন ও হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ৫০০ পৃষ্ঠায় এবং প্রচলিত জাল হাদিস' (জুনায়েদ বাবু নগরীর) লিখেছেন যে,পাগড়ীবিশিষ্ট দু'রাকাত নামায, পাগড়ীবিহীন সত্তর রাকাতের চেয়েও উত্তম। হাদিসটি জাল। তারপর তারা আরও লিখেছেন এই পাগড়ীকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ফযীলতপূর্ণ হাদীসের উদ্ভব ঘটেছে। তন্মধ্যে উপরােক্ত হাদিসটি অন্যতম। মূলত তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস নয়, বরং মিথুকদের বানানাে কথা বা বানানাে জাল হাদিস।
উক্ত হাদিস সম্পর্কে প্রতারণার জবাবঃ
তারা লিখেছে পাগড়ীকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু হাদীসের উদ্ভব ঘটেছে। দেখুন! মাওলানা মতিউর রহমান নিজেই তাে হাদিস বলে স্বীকার করেন। আর যা উদ্ভব হয়। তাকে হাদিস বলা হয় নাকি? তাহলে কী হাদীসের সংজ্ঞাও তারা জানে না। মূলত পাগড়ী সম্পর্কে ফযীলত বর্ণনার অনেক হাদিস রয়েছে। ইমাম সাখাভী (র) এবং আল্লামা আজলুনী(র) এ প্রসঙ্গ এর সমর্থনে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিস দুটি হল ঃ
رواه الديلمي من حديث ابن عمر مرفوعا بلفظ: صلاة بعمامة تعدل بخمس و عشرين، جمة بعمامة أفضل من سبعين جمعة بلا عمامة. و من حديث أنس مرفوعا: الصلاة في العمامة عشرة ألف حسنة
-"ইমাম দায়লামী (স) তার “আল মুসনাদে ফিরদাউস” গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (দ) ইরশাদ করেন : "পাগড়ী পড়ে নামায পড়া পাগড়ীবিহীন হতে ২৫ গুণ উত্তম, আর পাগড়ী পড়ে এক জুমার জামাতের নামায পাগড়ী ছাড়া ৭০ জুমা হতে উত্তম বা সমতুল্য। হযরত আনাস বিন মালিক (রা) হতে মারফু সূত্রে অন্য আরেকটি বর্ণনা রয়েছে রাসূল (দ) ইরশাদ করেন, পাগড়ী পড়ে নামায পড়লে দশ হাজার নেকি রয়েছে”।
ক,দায়লামী,মুসনাদিল ফিরদাউস,২/০৬পৃ.হাদিস:৩৮০৫,হযরত আনাস (রা.) এর বর্ণনা।
খ,দায়লামী,আল-ফিরদাউস,২১০৮পৃ হাদিস:২৫৭১, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এর সূত্রে।
গ. ইমাম হাফেজ আব্দুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানাহঃ ২৭১ পৃষ্ঠা
ঘ. ইমাম আলুনী : কাশফুল খাফা : ২/২৫ হাদিস : ১৬০১
ইমাম সাখাভী (র) এবং আল্লামা আলুনী মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দ্বঈফ, হাসান, সহিহ কোন কিছুই তারা উল্লেখ করেন নি। তাই বুঝা গেল। হাদিসটির ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিস মন্তব্য করেননি। তাদের নীরবতা দ্বারা বুঝা গেল। কমপক্ষে হাদিসটি দুর্বল হলেও ফাযায়েলে আমলের জন্য গ্রহনযােগ্য। কিন্তু আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর উক্ত হাদিস দুটিকে উল্লেখ করে মিথ্যা হাদিস বলে মন্তব্য করেছে। সে ইমাম সাখাভী এবং মুহাদ্দিস আজলুনী এর নাম দিয়ে দাবী করেছেন যে তারা নাকি হাদিস দুটিকে জাল বলেছেন। মা’যা আল্লাহ।

ইমাম সাখাভী ও ইমাম আলুনী মওদু বা বানােওয়াট তাদের কিতাবে বলেছেন। এমন কোন ইবারত বা কথা তাদের কিতাবে নেই। এজন্যই তারা মূল ইবারত উল্লেখ করেনি, এমন দুই ইমামের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র। অথচ ইমাম সাখাভী ও আল্লামা আজলুনী (র) দুজনই হাদিসটিকে মারফু বলেছেন।
অপর দিকে আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র) পাগড়ীর ফযীলত সম্পর্কে একটি হাদিস বা সনদ বর্ণনা করেন যে হাদিসটি হচ্ছে এভাবে
عن جابر رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ركعتان بعمامة خير من سبعين ركعة بلا عمامة -
-“হযরত যাবের (রা) হতে বর্ণিত : রাসূল (সঃ) ইরশাদ ফরমান : পাগড়ীসহ দুরাকাত নামায, পাগড়ী ছাড়া ৭০ রাকাতের চেয়ে উত্তম।”
. ইমাম দায়লামী ঃ মুসনাদুল ফিরদাউসঃ২/২৬৫পৃ.হাদিস:৩২৩৩

খ. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামিউস সগীর : ২/১৭ : হাদিস : ৪৪৬৮
. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামিউল আহাদিস : ৪/৪২৬ : হাদিস : ১২৫৭৪
ঘ, আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী: ফতহুল কাবির : ২/১৩০ পৃ:হাদিস:৬৬২৫

ঙ,আল্লামা ইমাম আজলুনী : কাশফুল খাফা : ২২৩ পৃ: হাদিস : ১৬০১চ. ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : পৃ: ২৭১ হাদিস : ২৯৮
চ. ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : পৃ: ২৭১ হাদিস : ২৯৮
ছ, আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী : নেহায়া :১/১৪৩পৃ.
জ, ইবনে হাজার মক্কী:আল-ফাওয়ায়িল আল ফিকহিয়্যাতুল কোবরাঃ১/১৭০পৃ.
ঝ, আব্দুল্লাহ সিরাজি,শরহে মুসলিমঃ২/৩৫পৃ.

ঞ,হাসান আবু ইসাবাহ,শরহে মুসলিমঃ২৬/২৮পৃ.ট, মুত্তাকি হিন্দীঃ কানযুল উম্মাল:১৫/৩০৬পৃহাদিস:৪১১৬
ট, মুত্তাকি হিন্দীঃ কানযুল উম্মাল:১৫/৩০৬পৃহাদিস:৪১১৬
ঠ, শাওকানী, ফাওয়াইদুল মওদুআত, ১/১৮৭পৃ. হাদিসঃ৩, লিবাস অধ্যায়।
ড. দরবেশ হুত, আস-সুনানিল মুত্তালিব,১/১৭১পৃ.হাদিস:৮২৮
ঢ, আলুনী, কাশফুল খাফা, ৮৬পৃ. হাদিস : ১৭৮৪।
ণ, আলবানী : দ্বঈফু জামেঃ হাদিস :৩১২৯, ঘঈফ জামেউস সগীর, হাদিসঃ৩১২৯, দ্বঈফা,হাদিসঃ১২৮   

এটাই বুঝা গেলাে, উক্ত হাদীসের একজন রাবী দুর্বল হওয়াতে আমলের ব্যাপারে নিষেধ নেই। যা আমি কিতাবের শুরুতে আলােচনা করে এসেছি। অপরদিকে আল্লামা ইমাম আজলুনী (র) উক্ত যাবের (রা) এর হাদীসের ব্যাপারে সর্বশেষ রায় পেশ করে বলে فهو غير موضوع অর্থাৎ- উক্ত হাদিসটি জাল নয়।
* আল্লামা আলুনী : কাশফুল খাফা : ২/২৩ : হাদিস : ১৬০১

তবে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (র) বলেন হাদিসটির একজন রাবী দুর্বল থাকায় সনদটি দুর্বল।* ইমাম সুয়তী : জামেউস্-সগীর : ২১৭ পৃ. হাদিস : ৪৪৬৮
সুতরাং একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদিসটি বর্ণনায় কমপক্ষে হাসান" এর মর্যাদা রাখে। এ ব্যাপারেও কিতাবের শুরুতে বিস্ত রিত আলােচনা করেছি। তাই বুঝা গেল যে ইমাম দায়লামী (রহ.) উক্ত বিষয়টির তিনটি সূত্র বর্ণনা করেছেন। এ পর্যন্ত আমি অধম তিনটি সূত্র আলােচনা করেছি। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত আব্দুল্লাহ
* ইমাম সুয়তী : জামেউস্-সগীর : ২১৭ পৃ. হাদিস : ৪৪৬৮
সুতরাং একাধিক তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদিসটি বর্ণনায় কমপক্ষে হাসান" এর মর্যাদা রাখে। এ ব্যাপারেও কিতাবের শুরুতে বিস্ত রিত আলােচনা করেছি। তাই বুঝা গেল যে ইমাম দায়লামী (রহ.) উক্ত বিষয়টির তিনটি সূত্র বর্ণনা করেছেন। এ পর্যন্ত আমি অধম তিনটি সূত্র আলােচনা করেছি। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ থেকে একটি হাদিস নিয়েছেন।যা উল্লেখিত প্রথম বর্ণনার মতই। হাদীস টি নিম্নরুপঃ

صلاة بلا عمامة، وجمعة يامة ثغيل سبعين جبنة بلا عمامة
-“নফল অথবা ফরয নামাজে পাগড়ী পড়ে নামাজ পড়া পাগড়ীবিহীন হতে ২৫ গুন উত্তম,আর পাগড়ী পরে এক জুমা পাগড়ীবিহীন ৭০ জুমা থেকে উত্তম।” তাই এই সনদটি গ্রহনযােগ্য,ইবনে উমরের ছেলে হযরত সালেম (রা.) এ হাদিসটি বর্ণনাকারী।
* ইবনে আসাকির,তারিখে দামেস্ক : ৩৭/৫৫ পৃহাদিস : ৪০১৯,* শায়খ ইউসুফ নাৰহনী,
* শায়খ ইউসুফ নাৰহনী, ফাতহুল কাবীর,১৮৮ পৃ.হাদিসঃ৭৩২৮,
* মুত্তাকী হিন্দী,কানযুল উম্মাল, ১৫/০৬. হাদিস : ৪১১৩৯
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

No comments:

Post a Comment