Saturday, March 23, 2019

পৃথিবীর সবচেয়ে ভূয়া তাহক্বীক কারী শায়খ আলবানীর পরিচয় ।


আমি আমার এ পুস্তুকে যাদের খন্ডন করেছি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলাে আহলে হাদিসের তথাকথিত ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী (মৃত.১৯৯৯ খৃ.)। এ লােকটি ১৯১৪ ঈসায়ী সালে ইউরােপের একটি দেশ আলবেনিয়ার রাজধানী দরাতে জন্ম গ্রহন করেন। আলবেনিয়ায় জন্ম গ্রহন করার কারনে তাকে আলবানী বলা হয়। তার পুরাে নাম হলাে আবু আবদুর রাহমান মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন আলবানী'। তার পিতার নাম নূহ নাতাজী আলবানী আল-হানাফী। তিনি ছিলেন তত্কালীন সময়ের একজন প্রসিদ্ধ হানাফী আলেম। আলবানীও প্রাথমিক যুগে হানাফী ছিলেন এবং তার সম্মানিত পিতার বন্ধু শায়খ সায়ীদ আল-বুরহানীর নিকট সে হানাফি মাযহাবের অনেক ফিকহের গ্রন্থ অধ্যায়ন করেন। (যা আমি লিখলাম সেগুলাে হুবহু আহলে হাদিস আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “ছহিহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭৮পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম) এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে তার আরাবীতে বিশাল জীবনী গ্রন্থ “সাবাতু মুয়ালাফাতিল আলবানী" (যা লিখেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শামরানী) বের হয়েছে সেখানেও লিখা হয়েছে তিনি প্রথমে হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন পরে মুজতাহিদ হয়ে গেছেন। পৃ.২ ও ১৬)।পরে সে নিজে পথভ্রষ্ট হয়ে সকল মাযহাবকেই অস্বিকার করে বসে, এবং মাযহাব মানাকে হারাম ,শিরক পর্যন্ত ঘােষনা করে বসে। অথচ তার সম্মানিত পিতা ও সে নিজেও হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিল।

আলবানী এমন কোন হাদিস গভেষক নয়, তার অধিকাংশ সময় কেটেছে মেরামত করে।*
* আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “হাহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,শাহ জামে মসজিদ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম)
আহলে হাদিসগন ঘড়ির ডাক্তার, দাঁতের ডাক্তার জাকির নায়েক কথা মানতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না, কিন্তু আমরা একজন তাবেয়ী ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর কথা মানলে তাদের এত অসুবিধা। অথচ তার অনুসারীরা তার প্রশংসায় লিখেছে যে পৃথিবীর মুসলিমদের সম্মুখে বিশুদ্ধ সুন্নাহ উপস্থাপন করার তাওফীক যে কয়জন বান্দাকে দিয়েছেন তাদের মধ্যে হাফিয যাহাবী (রহ.),ও হাফিয ইবনে হাযার আসকালানী (রহ.)-এর পর আল্লামা মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন -এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।*

* আবুল কালাম আযাদ আলবানীর জীবনীতে এবং তার একটি আরাবী পুস্তকের বাংলা অনুবাদ “হাহ হাদিসের পরিচয় ও হাদীছ বর্ণনার মূলনীতি" বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় তা লিখেছেন। (আযাদ প্রকাশন ,শাহ জামে মসজিদ,আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম)
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! তাদের কাছে। হাফেযুল হাদিস্ ইমাম সুয়ূতি (রহ.) সহ অনেক বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ যারা ইলমে হাদিসের জন্য নিজের জীবনকে অতিবাহিত করে দিয়েছেন সে মুহাদ্দীসদের কোন নাম তাদের মুখে আসলাে না, আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভূয়া তাহকীক কারী আলবানী নাম। অথচ সে ইমাম যাহাবী (রহ.)'র সমালােচনা করেছে, যা নিম্নে আলােচনা করা হবে। আলবানী অসংখ্য মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদিসকেও দ্বঈফ ও মওদু বা জাল বলে তার বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেগুলাে আমি এখানে দ্বিতীয় বার আলােচনা করতে চাই না কারন এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হাদিসের আলােচনায় তার এ ভূয়া তাহকীকের জবাবে আলােচনা হবে। এ আলবানী নামক লােকটির সমালােচনা থেকে পৃথিবীর বিজ্ঞবিজ্ঞ ইমামগনও মুক্ত ছিলেন না। সে তার সিলস্লািতুল আহাদিসুদ দ্বঈফাহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ইমাম তিরমিযীর ব্যাপারে লিখেছেন “ইমাম তিরমিযী তার সুনানে কত জাল হাদিসকে যে, হাসান, সহিহ বলে ফেলেছেন তার কোন হিসাব নেই। এ বিষয়ের জবাব আমি ইতিপূর্বে আলােচনা করেছি ।আলবানী নামক এ লােকটির দৃষ্টিতে একটি হাদিস সহিহ নয়, অথচ অন্যান্য মুহাদ্দিস তাকে সহিহ বলায় তিনি হাদিসের বিখ্যাত তিন জন ইমাম হাকিম নিশাপুরী, ইমাম যাহাবী, ইমাম মুনযিরী (রহ.) সম্পর্কে বলেছেন

قال الحاكم صحيح الإسناد ووافقه الذهبي او اقره المنذري في الترغيب:وكل تلك من اهمال التحقيق والاستسلام للتقليد والا فكيف يمكن للمحقيق أن يصح مثل هذا الإسناد
-“হাকিম বলেছেন, হাদিসটির সনদ সহিহ ইমাম যাহাবী তার সাথে একত্মতা পােষন করেছেন। ইমাম মুনযিরী (রহ.) তারগীব ও তারহীব' নামক কিতাবে তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর এটি হয়েছে,তত্ত্ব-বিশ্লেষনের প্রতি উদাসীনতা, তাকলীদের প্রতি আত্মসমর্পণ (অন্ধানুকরণ),নতুবা একজন বিশ্লেষনধর্মী আলেম কিভাবে একে সহিহ বলতে পারেন।"(সিলসিলাতুল আহাদিসুদ্-দ্বঈফাহ ওয়াল মাওদুআহ,৩/৪৭৯পৃ.) সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আলবানী এমন মহান তিনজন ইমামের কিভাবে সমালােচনা করতে পারলাে? অথচ এ সমস্ত আলেমদের পশমের তুল্য হবে না। তার এ গ্রন্থের আরেক স্থানে হাফেযুল হাদিস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.)'র সমালােচনা করতে গিয়ে লিখেন যে
فيا عجبا للسيوطي كيف لم يخجل من تسويد كتابه الجامع الصغير بهذا الحديث
-“কী আশ্চর্য! জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.) তাঁর জামেউস সগীরে কিভাবে এ হাদিস উল্লেখ করতে একটু লজ্জাবােধ করলেন না! (সিলসিলাতুল আহাদিসুদদ্বঈফা,৩/৪৭৯পৃ.) নাউযুবিল্লাহ! তিনি তার এ পুস্তকে ইমাম সুয়ূতির গ্রহনযােগ্যতা সম্পর্কে বলেন- و جعجع حوله السيوطي -“জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.) হাকডাক (কোলাহলপূর্ন, হট্ট গােলপূর্ন) ছেড়ে থাকেন। (আলবানী,সিলসিলাতুল আহাদিসুদদ্বঈফা,8/১৮৯পৃ.) দেখুন ইমাম সুয়ুতি (রহ.)'র মত একজন মুজাদ্দিদের তাহকীক তার কাছে নাকি হট্টগােল করার মত । সে ইমাম তাজুদ্দীন সুবকী (রহ.) যিনি ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী (রহ.)'র ছেলে এবং বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ,আলেম ছিলেন; তার সমালােচনা করতে গিয়ে লিখেন

لكنه دافع عنه بوازع من التعصب المذهبي لا فائدة كبرى من نقل كلامه وبيان مافيه من التعصب
-“মাযহাব অনুসরণের গোঁড়ামী তাকে প্ররােচিত করেছে। তার কথা উল্লেখ করে এবং তার গোঁড়ামির কথা আলােচনা করার মধ্যে তেমন উল্লেযােগ্য কোনাে উপকারিতা নেই। (সিলসিলাতুল আহাদিসুদ্-দ্বঈফাহ,২৮৫পৃ.) সে আরও অসংখ্য হক্কানী ইমামের সমালােচনা করেছে; তার অসংখ্য কুফুরী আকীদা, এবং তার ভূয়া তাহকীকের জবাবে আমি ইনশা আল্লাহ শীঘ্রই বিস্তারিতভাবে বই প্রকাশ করবাে। বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) সম্পর্কে আলবানী বলেন
اشل الله يدك وقطع لسانك يدعو على العلامة الشيخ عبد غدة ويقول عنه:انه مرة كغدة البعير ثم يقول مستهزئا ضاحكا: اتعرفون غدة
| -“আল্লাহ তােমার হাত অবশ করে দিক এবং তােমার জিহ্বাকে কর্তন করুক।
(কাশফুন নিকাব,পৃষ্ঠা-৫২) এ রকম শতশত পূর্বের ও সমসাময়িক মুহাদ্দিসের সে ব্যাপারে কঠিন মন্তব্য করেছে। শুধু মাত্র আহলে হাদিস ছাড়া। এ বিষয়ে আলােচন করতে গেলে আমার এ পুস্তকটি আরও দীর্ঘয়িত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আলবানী ব্যাপারে আমি শেষে একটি কথাই বলবাে যে, সেই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রওযা মােবারককে অপসারনের জন্য পুস্তুক লিখেছেন ও প্রস্তাব দিয়েছেন।* সে যে ঈমান চোরা তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার তাহকীক ইসলামী শরীয়তে কানা-কড়ি মূল্যও নেই
* আলবানী এ কুফুরী বাক্যটি তাঁর তিনটি গ্রন্থে বলেছেন। আলামা শায়খ সৈয়দ ইউসুফ হাশেম আর-রেফায়ী ‘নসীহত লি ইখওয়ানিনা উলামায়ে নজদ" যা বাংলায় (সনজরী প্রকাশনা আন্দরকিল্লা,চট্রগ্রাম থেকে। প্রকাশিত) প্রকাশিত হয়েছে তার বাংলা নাম নজদি উলামা ভাইদের প্রতি নছীহত' বইয়ের ১৩৯পৃষ্টায় ও বিষয়ে আলােচনা করেছেন। সে তার ‘আহকামুল জানায়েয' গ্রন্থে ও তাহযিরুল মাজেদ গ্ৰন্থে উল্লেখ করেছেন (তাহযিরুল মাজিদ-৬৮-৬৯পৃ.) এবং সে তার হুজ্জাতুন্নবী' গ্রন্থে আরও অতি বাড়াবাড়ি' করেছে (উক্ত বই-১৩৭পৃষ্ঠা) সে রাসূল (দ.) রওযা শরীফের গুম্বুজকে মদিনা মনােওয়ারার অন্য বিদআত বলে অভিহিত করেছেন। মাওলানা মতিউর রহমানঃ প্রচলিত জাল হাদিস, পৃ-৬৮
সূত্র, প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন
মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাহাদুর

No comments:

Post a Comment