Tuesday, February 12, 2019

প্রমানিত হাদীস কে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন ১

প্রারম্ভিকা

الحمد لله وكفى والصلوة والسلام على عباده الذين اصطفی خصوصا على سيدنا وحبيبنا وشفيعنا محمدن المصطفى وعلى اله واصحابه أولى الصيف والصفا

فاعوذ باللہ من الشیطن الرجن

بسم الله الرحمن الرحيم

. আল্লাহ পাকের অমিয়বাণী মহাগ্রন্থ কুরআনুল করিম মানব জাতির একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। এ রকম পরিপূর্ণ কোন গ্রন্থ পৃথিবীতে আর নেই। এইগ্রন্থের প্রতিটি কথা অত্যন্ত মুল্যবান ও অতিব মর্যাদা সম্পন্ন। মহান রবের নৈকট্য অর্জনের জন্য। কুরআনের উপর আমল খুবই জরুরি। মনে রাখতে হবে, কোরআন পুণঙ্গি বিধান হওয়া সত্বেও তা সাধারন ভাবে বুঝা একেবারে সহজ নয়। কেননা কিতাবুল্লাতে এমন কিছু আয়াতে কারিমা রয়েছে, যার অর্থ অস্পষ্ট। সেসব জটিলতা নিরসনের জন্য মহান রাব্বল আলামিনের প্রিয়তম বন্ধু রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র হাদিসের গুরুত্ব অপরিসীম। সহজ কথায়, কুরআন অনুধাবন করে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলনের জন্য একমাত্র অবলম্বন পবিত্র হাদিসে নববি ।

_ প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ মােস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র পুষ্পঝরা হাদিসগুলাে মুলত আল্লাহর। মর্যাদা সম্পন্ন কালামের অংশবিশেষ। এ ব্যাপারে খােদ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করছেন, অর্থাৎ(এবং তিনি কোন কথা নিজ প্রবৃত্তি থেকে বলেন।

সুরা নজম শরিফের দুই নাম্বার আয়াতে কারিমার শাব্দিক অর্থই সুস্পষ্ট প্রমাণ। করে, নবিজি 'র কথামালা, আচার আচরন সবকিছু আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ নির্দেশনা। তাঁর কথামালা মহান প্রভুর কথামালা। হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ থেকে কোন কথা বলেননি 'এটার জলন্ত স্বাক্ষী কুরআনের এই আয়াতে মুকাদ্দাসা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"র সকল ধরনের আচরন বিধিকে ধারন করার জন্য, তাঁর নিষিদ্ধ। সবকিছু থেকে বিরত থাকতে খােদ রব তা'আলা আদেশ করেছেন। মহাগ্রন্থ। কুরআনুল কারিমে সুরা হাশরের ৭ নাম্বার আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, অর্থাৎ

"এবং রাসুল তােমাদেরকে য কিছু দানকরেন তা তােমরা গ্রহন করাে; আর যা থেকে নিষেধ করেন তা তােমর বর্জন করাে'।

উল্লেখিত আয়াত প্রমাণ করে রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র আদেশ নিষেধ মান্য কর। প্রত্যেক বান্দার জন্য ফরজ। কুরআনের পরপর যে হাদিসের গ্রহন যােগ্যতা তা এই। আয়াত স্পষ্ট করে দেয়। অন্যত্রে ইরশাদ হচ্ছে, অর্থাৎ হে ইমানদারগণ! তােমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করাে।

উপর আমল অপৰিলাকের উপর নিরেট অনুগত্য করবে প্রকৃত ও

সুরা নিসার ৫৯ নম্বার আত্মাতে মুকাদ্দাসার এই অনুবাদও প্রমান করে আল্লাহর পরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওজালয়াসাল্লাম”র। অনুসরন বা আনুগত্য। আনুগত্য করতে হলে নির্ঘাত হাদিসেপাকের উপর আমল অপরিহার্য। হাদিস শরিফ বাদ দিয়ে হুযুরের অনুকরন কিছুতেই সম্ভব নই। কেবল হাদিসেপাকের উপর নিরেট আমলের মাধ্যমে তা সম্ভব। | যারা হাদিসের অনুসরনের মাধ্যমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম”র আনুগত্য করবে প্রকৃত পক্ষে | তারা আল্লাহরই আনুগত্য করলাে, এমর্মে সুরা নিসার ৮০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হচ্ছে, অর্থাৎযে রাসুলের আনুগত্য করলাে, যেন সে আল্লাহর আনুগত্য করলাে। | উলেস্নখিত আয়াত ছাড়া কুরআনের অসংখ্য স্থানে রাসুলে কারিম রাউফুর রাহিম

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র আনুগত্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। এসব মুলত হাদিসে পাকের সম্মান ও শৌক প্রমান করে। আয়াতগুলির বাস্তবতার নিরিখে যখন আল্লাহর পূণ্যবান বান্দারা দিনদিন ধাবিত হয়ে মহান রবের মহিমায় নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাভরা ভক্তি নিয়ে স্বর্গমুখি হচ্ছিলাে ঠিক তখন থেকে শয়তানের অনুচররা হাদিসে রাসুলের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রের সুচনা করলাে। সেসব নরকের কীটরা মনগড়া কথা সাজিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র হাদিস আখ্যাদিয়ে চালিয়ে দিতাে বহুযুগ আগ থেকে। | পরবর্তীতে অসংখ্য হযরতে বুযুর্গানেদ্বিনদের গবেষণার বদান্যতায় তারা আটবে পড়ে ভ্রান্তির বেড়াজালে। এবার শুরু হলাে তাদের নবপ্ররােচনা, যেখানে নবীজি

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র শান ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদিস দেখতাে, সেটাকেই তারা বানােয়াট বা জাল বলে অহেতুক বিভ্রান্ত ছড়াতাে। এসব বিষয় নিয়ে পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদ ওলামায়ে কেরাম অসংখ্য কিতাবাদি রচনা করেছিলেন। তবু তাদের তৎপরতা থামেনি মােটেই। তারা যুগেযুগে স্বীয় নাম বদলিয়ে শয়তানের সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে তার সে খেদমত আঞ্জাম দিতাে। তাদের সেই অপতৎপরতা এখনাে থামেনি। আজকাল লাইব্রেরি তাকগুলি সাজানাে তাদের লিখিত ছােটবড় পঁচা সব বই দিয়ে। এসমস্ত পুস্তক সমূহ অধ্যায়ন করে প্রতারিত হচ্ছে সরলমনা মানুষগুলাে। যারা হাদিসের নামে জালিয়াতি করে, যারা সহিহ হাদিসগুলােকে জাল ব নােয়াট আখ্যায়িত করে মানুষকে ধোঁকা দেয় তাদের জন্য রচিত আমার এই কতাব। মনেরাখা দরকার! রাসুল হ’র নাম ব্যবহার করে হাদিস বানানাে যেমন রম মিথ্যাচার, হুযুরের সহিহ হাদিসগুলিকে জাল বা বানােয়াট বলে প্রচার করাও আরেক জঘন্য মিথ্যাচার। বুখারি ও মুসলিম শরিফ সহ অসংখ্য হাদিসের কিতাবে বর্ণিত আছে; রাসুল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন, অর্থাৎ ‘যে আমার উপর মিথ্যারােপ করে সে যেন স্বীয় ঠিকানা জাহান্নামে খুঁজে নেয়।

নুরের বরাতে জাল হাদিস আপনি কী বুঝেন

এই গ্রন্থ রচনার পেছনে অনেক কারন নিহিত রয়েছে। তম্মমধ্যে একটি কারন এই, একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র মহত্ব ও আভিজাত্য নিয়ে কথা বলতে বলতে একজন সাধারন মানুষের সাথে আমার তর্ক লেগে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র সৃষ্টি নুর নাকি মাটি দ্বারা এই বিষয়ে। আমি অনেক বুঝিয়ে বললাম, কোরআন হাদিস ইজমা কিয়াস দ্বারাতাে প্রমানিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুরের সৃষ্টি। এক পর্যায়ে যখন হযরত জাবের (রা)’র নুরের বরকতময় হাদিসটি উপস্থাপন করলাম, ভ্রু কুচকে বিজ্ঞলােকের মতে বললাে, এটিতাে জাল হাদিস! আমি বললাম, আপনি একজন সাধারন মানুষ হাদিসের জাল ভেজাল নিয়ে আপনি কী বুঝবেন। বললাে, হ্যাঁ তার প্রমান আছে আমার নিকট। সে আমাকে একটি বইয়ের তথ্যদেয়; বইটি মাওলানা মতিউর রহমান বিরচিত আবদুল মালেক সম্পাদিত, প্রচলিত জাল হাদিস। | পরে অনুসন্ধান করে এরকম অসংখ্য বই আমি পেয়েছি, যেগুলি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চরম কৌশলমাত্র। বইগুলিতে যা দেখলাম, আহলে সুন্না ওয়াল জামাতের সমস্ত আকিদা ও আমল বিষয়ক হাদিসকেগুলিকে তারা জাল । বানােয়াট বলে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে।

নামলাম এবার গবেষণায়। দেখি! সুন্নিদের সকল আকিদা আমলের হাদিসগুলি  পক্ষে অসংখ্য সহিহ বর্ণনা রয়েছে। কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষাগুরুদের বিন বললাম, এসব মিথ্যাচারের জবাব লিখার জন্য। তাঁরা স্বস্ব ব্যস্ততা দেখিয়ে আম জন্য দোয়া করলেন। সেই মহিমান্বিত দোয়ার বদন্যতায় আমার কাঁচা হাতে কল ধরি। আল্লাহর মেহেরবানি ও মদিনা ওয়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র ফয়েজ বরকতে আমি সকল হাদিস চুলচেরা বিশ্লেষন করতে সক্ষম হই। | প্রত্যেকটা হাদিসের উপর গবেষণালব্ধ প্রথমদিকের লিখাগুলি নিরক্ষণ করে । চরনে তলে আমাকে ঠাঁই দিয়েছেন, আমার পরম শিক্ষাগুরু, লক্ষ লক্ষ আলেম বরেণ্য শিক্ষক, চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রাক্তন শায়খুল হাদি মুহাদ্দিসে জামান হরতুলহাজ্ব আল্লামা শাহসুফি মুহাম্মদ আবদুল হক নক্সব (মাঃজিঃআঃ)। গ্রন্থাকারে রূপদেয়ার পর বইজুড়ে অনুপম নজর দিয়ে আম চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে রেখেছেন, জামানার মুফতিয়ে আ আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুফতি আবদুল ওয়াজেদ । কাদেরি ও আল্লামা মুফতি আলী আকবর (মাঃজিঃআ)। বইয়ের বাংলা বানান সবক্ষেত্রে যার অবদান আমাকে কৃতার্থ করেছে, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলি ফিকহ বিভাগের ছাত্র, শায়ের মুহাম্মদ আবদুল আজিজ রজভী। এছাড়াও অ অনেকে ভিন্নভিন্ন আঙ্গিকে কেউবা বইটিপড়ে চমৎকার অভিমত ব্যক্তকরে কিত গ্রহন যােগ্যতা বৃদ্ধিরলক্ষ্যে আমার জন্য সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন, ' সেসব মহান ব্যক্তিদের নিকটও চিরকৃতজ্ঞ।

প্রিয় পাঠক! আমার রচিত এই কিতাবের নাম দিয়েছি প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানাের স্বরূপ উন্মোচন'। গ্রন্থটিতে আমি ভিন্নমতাবলম্বিদের অনেক বইয়ে দৃষ্টি। গােচর হওয়া বিষয়ের একেক করে জবাব দেয়ার অসম্ভব চেষ্টা করেছি। বিশেষকরে সাম্প্রতিক ব্যপকহারে গজিয়ে উঠা তথাকথিত আহলে হাদিস ফেরকার ইমাম নাসির উদ্দিন আলবানির কিছু পুস্তকে রচিত আপত্তিকর উক্তির যথাযত উত্তর প্রদান করেছি। এছাড়া আহলে হাদিস তথা লা মাযহাবি সহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ব্যতিত সমস্ত বাতিলদের সাথে আমাদের যেসব আকিদা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেসকল বিষয় নিয়ে। বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডে বিস্তারিত আলােচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ! * গ্রন্থটি রচনাকরে আমি কারাে ব্যক্তিগত মানহানি অথবা শুধুমাত্র কারাে বাস্তব স্বরূপ উন্মােচন করা মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। সমাজ থেকে হারিয়ে যাওয়া বাস্তব আর নিরেট সব সত্যতার ভিত্তিকে আরাে শক্তিশালী করাই আমার মুল লক্ষ্য।

বিনিত আরজ থাকবে, সম্মানিত পাঠক মহলের নিকট, কেবল দোষ অন্বেষণের। উদ্দেশ্যে নয় নবিজির প্রতি হৃদয়ভরা সত্যিকার অনুরাগ নিয়ে কিতাবটি অধ্যয়ন করুন; আপনার অন্তর্চক্ষু খােলে যাবে, ইনশা আল্লাহ! সফল হবে অধমের শ্রম। পাথেয় হবে পরকালীন মুক্তির। | এ গ্রন্থে আনুমানিক একহাজার কিতাবের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। সে সকল কিতাবের একটি তালিকা গ্রন্থের শেষতকে বিজ্ঞপাঠক মহলের সুবিধার্থে দেয়া। হয়েছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ! কোন ভুয়া তথ্য এখানে নেই। প্রায়সব কিতাব আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সংগ্রহ আছে। গােচরে যা নেই, তা আমি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার থেকে নিজেই সংগ্রহ করেছি। জামেয়ার প্রসিদ্ধ বইঘরে যা পাইনি সে ক্ষেত্রে মাকতাবায়ে শামেলার সহায়তা অবশ্যয় নিয়েছি। তবু যদি কোন ক্ষেত্রে তথ্যপঞ্জি বিষয়ক কোন ক্রটি কারাে নজরে পড়ে, তাহলে বুঝবেন এটা অনিচ্ছাকৃত। তার সঠিক তথ্য যদি আপনার সংগ্রহে থাকে, আমার ইমেইল ঠিকানায় জানিয়ে বাধিত করবেন। মহাপ্রলয়দিনে তার উত্তম প্রতিদান আপনি। পাবেন।

দীর্ঘ আড়াই বছর যাবত এই কিতাবের পেছনে কঠোর শ্রম দেয়ার পরও ভাষাগত ত্রুটির কারনে বইটি বাজারজাত করনের ক্ষেত্রে আমি বারবার হিমসিম খেয়েছি। তবু ভাষাগত বহুভুল থাকতেই পারে, সবকিছু দেখে পাঠকদের নিপুন পরামর্শের ভিত্তিতে আগামি সংস্করনে নির্ভুলভাবে কিতাবটি প্রকাশ করার প্রবল বাসনাও রাখলাম মনে। হে খােদা দয়াময়! তুমি রহম করাে আমাদের প্রতি, ক্ষমাকররা সকল মার্জনা। আমিন। বিহুরমাতি সৈয়্যদিল মুরসালিন !

: অধম রচয়িতা

মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

No comments:

Post a Comment